বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬, ০২:১০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ঈদে দরিদ্রদের পাশে বিত্তশালীদের দাঁড়ানোর আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর না বুঝে চামড়া কেনাবেঁচা নয়, মৌসুমী ব্যবসায়ীদের সতর্কতা সংশ্লিষ্টদের জাতীয় ঈদগাহে প্রধান জামাত সাড়ে ৭টায়, অংশ নেবেন রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী ভারতে খোলা জায়গায় ঈদের নামাজে নিষেধাজ্ঞা: আতঙ্কে মুসলিমরা মন্ত্রীর হস্তক্ষেপে কোরবানি হচ্ছে না ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ শেষ মুহূর্তে সদরঘাটে যাত্রীদের চাপেও ঈদযাত্রায় স্বস্তি যুক্তরাষ্ট্রের যুগ শেষ, মুসলিম দেশগুলোকে নতুন বিশ্ব ব্যবস্থা গঠনের আহ্বান খামেনির দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর লেবানিজদের ঈদ কেড়ে নিলো দখলদার ইসরায়েল, শিশুসহ ৩১ জনকে হত্যা সাতক্ষীরা সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টায় বিজিবির বাধা

ভারতে খোলা জায়গায় ঈদের নামাজে নিষেধাজ্ঞা: আতঙ্কে মুসলিমরা

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬

ভারতে ঈদুল আজহার নামাজ সামনে রেখে উত্তর প্রদেশসহ বিভিন্ন রাজ্যে খোলা জায়গায় বা উন্মুক্ত স্থানে নামাজ আদায়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ট্রাফিক জ্যাম ও জনশৃঙ্খলার অজুহাতে কট্টরপন্থী হিন্দু সংগঠন এবং ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের এই কড়াকড়ির কারণে দেশটির মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে প্রকাশ, ঈদুল আজহার নামাজের প্রস্তুতি নিয়ে ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের মিরাট জেলার একটি ছোট মসজিদের ভেতরে জড়ো হয়েছিলেন একদল মুসল্লি। উপলক্ষ উৎসবের হলেও সেখানে অংশগ্রহণকারীদের মনে তেমন আনন্দ ছিল না বললেই চলে।

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার (৫০ মাইল) দূরে মালিয়ানা গ্রামের ওই মসজিদের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের কথা শুনছিলেন প্রায় ৫০ জন মুসল্লি। তাদের এই আলোচনা কোরবানির পশু কিংবা দান-খয়রাত নিয়ে নয়, বরং ঠিক কোথায় ও কীভাবে তারা ঈদের নামাজ আদায় করবেন, সেটাই আলোচনার বিষয়।

রাত পোহালেই ভারতে ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। এ ব্যাপারে সতর্ক নির্দেশনা দিয়ে কমিটির এক সদস্য বলেন, ‘দয়া করে মসজিদের ফটকের বাইরে ভিড় করবেন না। মসজিদ পূর্ণ হয়ে গেলে, নামাজের পরবর্তী জামাতের জন্য অপেক্ষা করুন। তর্কাতর্কি এড়িয়ে চলুন। ভিডিও করা এড়িয়ে চলুন। কোনো উসকানিতে সাড়া দেবেন না।’

উপস্থিত মুসল্লিরা মাথা নাড়লেন। কেউ কেউ তাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপগুলো দেখছিলেন, যেখানে স্থানীয় পুলিশের নির্দেশনা ইতিমধ্যে ছড়াতে শুরু করেছে; যেখানে মুসলমানদের উন্মুক্ত স্থানে নামাজ না পড়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। উপস্থিত অন্যদের চোখেমুখে উদ্বেগের ছাপ।

মালিয়ানার একটি ইতিহাস রয়েছে। ১৯৮৭ সালের মে মাসে এখানে স্থানীয় হিন্দু দাঙ্গাবাজ এবং রাজ্য সরকারের প্রাদেশিক সশস্ত্র কনস্ট্যাবুলারির (পিএসি) কর্মীরা ৭২ জন মুসলিমকে হত্যা করেছিল। ৩৬ বছর শুনানির পর ২০২৩ সালে জেলা আদালত প্রমাণের অভাবের অজুহাত দেখিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের খালাস দেন।

তবে ওই মসজিদের কমিটি ও মুসল্লিদের ঈদের পরিকল্পনা পুনর্মূল্যায়ন করতে বাধ্য করার পেছনে যে উদ্বেগ কাজ করছে, তা আরও সাম্প্রতিক।

মানুষ স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্কিত: ২০১৪ সালে হিন্দুত্ববাদী নরেন্দ্র মোদি ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে কট্টরপন্থী হিন্দু সংগঠনগুলো চরম উগ্র হয়ে উঠেছে। তারা ট্রাফিক ও নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে এক দশকের বেশি সময় ধরে শুক্রবারের জুমা ও উৎসবের দিনে মুসলিমদের খোলা স্থানে নামাজ আদায়ের বিরোধিতা করে আসছে।

এসব সংগঠন এমনকি মোদির উগ্রপন্থী ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) রাজনীতিবিদেরাও রাস্তা, পার্ক বা খালি জায়গায় নামাজ আদায়ে বাধা সৃষ্টি করছেন। উন্মুক্ত স্থানে মুসলিমদের নামাজ আদায়ের ভাইরাল ভিডিওগুলো ক্ষোভ এবং অনলাইন প্রচারণার জন্ম দিয়েছে; যার ফলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ এসব জায়গায় নামাজ আদায়ের অনুমতি বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে।

গত সপ্তাহে বিজেপির সঙ্গে যুক্ত শীর্ষস্থানীয় উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ‘বিশ্ব হিন্দু পরিষদ’ (ভিএইচপি) রাস্তাঘাটে নামাজ আদায়ের ওপর দেশব্যাপী সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার দাবি জানিয়েছে। এই অনুশীলনকে তারা মুসলিম সম্প্রদায়ের ‘শক্তি প্রদর্শন’ বলে অভিহিত করেছে।

তবে মুসলিমদের যুক্তি হলো, উন্মুক্ত স্থানে নামাজ আদায়ের ওপর এই কড়াকড়ি একটি বাস্তবতাকে উপেক্ষা করছে। অনেক মসজিদ এবং ঈদের নামাজের জন্য নির্ধারিত মাঠ (যাকে ‘ঈদগাহ’ বলা হয়), সেখানে বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ শহর এলাকায় জুমার নামাজের বড় জামাত বা ঈদের সময় সব মুসল্লির স্থানসংকুলান হয় না।

ঈদুল আজহার আগের দিন মুসলিমদের সামনে মূল প্রশ্নটি হলো—তারা কোনো ধরনের তল্লাশি, সংঘাত বা জনসাধারণের বৈরী আচরণের মুখোমুখি না হয়ে শান্তিতে নামাজ আদায় করতে পারবেন কি না। বিশেষ করে বিজেপিশাসিত উত্তর প্রদেশে, যা প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের মতোই জনবহুল। এই রাজ্যে প্রায় ৩ কোটি ৯০ লাখ মুসলিমের বসবাস—যা সৌদি আরবের মোট জনসংখ্যার চেয়ে বেশি।

উত্তর প্রদেশে ২০১৭ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা বিজেপি সরকার, যার নেতৃত্বে আছেন মুসলিমবিদ্বেষী বক্তব্যের জন্য পরিচিত গেরুয়া বসনধারী কট্টরপন্থী হিন্দু সন্ন্যাসী যোগী আদিত্যনাথ। তার সরকার রাস্তা ও উন্মুক্ত স্থানে মুসলিমদের নামাজের ওপর কড়াকড়ি আরও জোরদার করেছে।

গত ১৮ মে আদিত্যনাথ বলেন, মুসলিমদের উচিত ঈদুল আজহার নামাজ ‘শিফটে’ আদায় করা। এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে এই উগ্র হিন্দুত্ববাদী নেতা আরও লেখেন, ‘পেয়ার সে মানেঙ্গে ঠিক হ্যায়, নেহি মানেঙ্গে তো দুসরা তরিকা আপনায়েঙ্গে…(ভালোবাসায় মানলে ভালো, না মানলে অন্য পথ অবলম্বন করব)।’

উত্তর প্রদেশের মুসলমানদের কাছে আদিত্যনাথের এই ‘অন্য পথ’-এর হুমকির অর্থ অপরিচিত নয়।

মিরাটের একজন মুসলিম কর্তৃপক্ষের প্রতিশোধের ভয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, গত বছর খোলা জায়গায় নামাজ আদায়ের কারণে মুসলিমদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল। কিছু জায়গায় বাড়িঘর ভেঙে ফেলা হয় এবং এমনকি ড্রাইভিং লাইসেন্স ও পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন বাতিল করার খবরও পাওয়া যায়। এসব দেখার পর মানুষ স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্কিত।

নয়াদিল্লি থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার (৮০ মাইল) দূরে আলিগড় জেলার দোকানদার আরিফ মালিক বলেন, গত ঈদুল আজহায় তার এলাকার মুসলিমরা ‘একটি খোলা মাঠে মাত্র কয়েক মিনিট নামাজ পড়েছিলেন। কয়েক মিনিটের মধ্যেই পুলিশ এসে মুসল্লিদের তাড়া করে।’

আরিফ বলেন, ‘এই ঈদে পরিবারগুলো সবাইকে যেকোনো ধরনের ভিড় এড়িয়ে চলতে বলছে।’

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD