সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ১২:৪৮ পূর্বাহ্ন
পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলা

আসামি সোহেল-স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। রায়ে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

রোববার (৭ জুন) ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত আসামিদের উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীর একটি বাসা থেকে আট বছরের শিশুর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ফ্ল্যাটটিতে বসবাসকারী সোহেল রানা ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের পর সোহেল ফৌজদারি কারযবিধির ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তিনি বলেন, ‘আমার নাম সোহেল রানা। ওই বাড়ির তৃতীয় তলায় ভাড়া থাকি। আমি নিয়মিত নেশা করি। এ বাড়ির তিন তলায় তিনটি ফ্ল্যাটে তিনটি পরিবার থাকে। সকালে পাশের ফ্ল্যাটের লোকজন বাসা থেকে বের হয়।’

সোহেল আরও বলে, ‘পাশের বাসার ৮ বছরের ওই শিশু তাদের বাসার বাইরে এলে তাকে ডাক দিই। শিশুটি এলে তাকে বাথরুমে জোরপূর্বক নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করি। এরপর সে চিৎকার করলে মুখ চেপে ধরি। মুখে ওড়না বেঁধে আমি তাকে ধর্ষণ করি। এরপর সে অজ্ঞান হয়ে গেলে তাকে মৃত ভেবে রুম থেকে ছুরি আনি। তার লাশ গুম করতে চেয়েছিলাম। এরপর তার মাথা কেটে বিচ্ছিন্ন করি। পরে হাত কেটে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করি। এ সময় শিশুটির মা খোঁজাখুঁজি করে দরজার বাইরে জুতা দেখে ডাকাডাকি করে। আমি ভয় পেয়ে যাই। পরে সেলাইরেঞ্জ দিয়ে গ্রিল কেটে বাইরে পালিয়ে যাই।’

মামলাটি তদন্ত করে ঘটনার ৫ দিনের মাথায় গত ২৪ মে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান ভূঁইয়া। ওইদিনই শিশু ট্রাইব্যুনালে মামলাটি বিচারের জন্য নথি বদলি করা হয়। তবে সেদিন থেকে ঈদুল আযহার ছুটি শুরু হওয়ায় গত ১ জুন মামলাটির চার্জগঠনের দিন ধার্য করা হয়। ঈদের পর ১ জুন মামলার চার্জগঠন করে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়।

চার্জগঠনের দিন সোহেল ‘ডলার’ নামে এক ব্যক্তিকে ঘটনার জন্য দোষারোপ করেন। তবে ধর্ষণ ও হত্যার সঙ্গে অন্য কারোর সংশ্লিষ্টতা মেলেনি বলে জানায় রাষ্ট্রপক্ষ ও তদন্ত কর্মকর্তা। পরদিন ২ জুন মামলাটির ১৭ সাক্ষীর মধ্যে রামিসার বাবা, মা, বোন, স্বজনসহ ১৬ জনের সাক্ষ্য শেষ হয় । এরপর ৩ জুন মামলায় আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন ও ৪ জুন মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি হয়।

আত্মপক্ষ সমর্থণে আসামি সোহেল বলেন, ‘আমার একটি ছাওয়াল আছে স্যার। আমাকে মাফ করেন।’ এদিকে যুক্তিতর্ক শেষে আদালত মামলাটির রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন ধার্য করেন। বিচারিক আদালতগুলোতে অবকাশকালীন ছুটি চললেও মামলাটির বিচার দ্রুত শেষ করতে ট্রাইব্যুনালের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD