মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ১২:৪৮ পূর্বাহ্ন

কাশ্মীরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে ৪ পুলিশ নিহত

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬

পাকিস্তান-শাসিত আজাদ কাশ্মীরের রাওয়ালাকোটে সদ্য নিষিদ্ধ ঘোষিত যৌথ আওয়ামী অ্যাকশন কমিটির (জেএএসি) সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত চার পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন আরও ২০ জন। খবর দ্য ডনের।

রোববার (৭ জুন) রাতে আজাদ কাশ্মীর পুলিশের মহাপরিদর্শক লিয়াকত আলী মালিকের কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, বিক্ষোভকারীরা কম্বাইন্ড মিলিটারি হাসপাতাল (সিএমএইচ) রাওয়ালাকোটে হামলা চালালে চার পুলিশ সদস্য নিহত হন।

বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, নিহত পুলিশ সদস্যদের আগ্নেয়াস্ত্র ও শটগানের গুলিতে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাটিকে ‘সরাসরি সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে উল্লেখ করে জননিরাপত্তা ও শান্তি রক্ষায় কোনো ছাড় না দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীদের মধ্যেও অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন এবং আরও কয়েক ডজন আহত হয়েছেন। স্থানীয়দের আশঙ্কা, প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। তবে পুরো অঞ্চলে মোবাইল ডাটা সেবা বন্ধ থাকায় তথ্যপ্রবাহ সীমিত হয়ে পড়েছে।

এর আগে, শুক্রবার রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে এক ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠার পর থেকেই রাওয়ালাকোটে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

প্রথমে তার পরিবার শনিবার জানাজার ঘোষণা দিলেও পরে মরদেহ আবার হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং ময়নাতদন্তের জন্য জানাজা রোববার পর্যন্ত স্থগিত করে। মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত ময়নাতদন্ত করা হয়নি। এ সময় হাসপাতালের বাইরে শত শত মানুষ অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিতে পুলিশ গেলে উত্তেজিত জনতা তাদের মুখোমুখি হয়। পরে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। জবাবে বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করে, তবে এতে কেউ আহত হয়নি।

এদিকে নিহত ব্যক্তির পরিবার ঘোষণা দিয়েছে, সরকার জেএএসি-কে নিষিদ্ধ ঘোষণার প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তারা মরদেহ দাফন করবে না।

পরিবারের এক সদস্যের বরাত দিয়ে বলা হয়, ‘আমাদের ছেলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। জেএএসি-কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আখ্যায়িত করা প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত আমরা তাকে দাফন করব না।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা জানান, হাসপাতালের সামনে চলমান অবস্থান কর্মসূচির কারণে রোগী, স্বজন ও সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ছিল। তিনি বলেন, বিক্ষোভকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে সরে যেতে অনুরোধ করা হয়েছিল

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD