যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে নানা মন্তব্য প্রচলিত রয়েছে। কখনো তাকে বলা হয়েছে অজ্ঞ, স্বৈরাচারী ও আত্মকেন্দ্রিক। আবার কখনো তাকে বর্ণনা করা হয়েছে বুদ্ধিমান, কৌশলী, সাহসী ও বিপ্লবী হিসেবে।
ট্রাম্পকে ব্যক্তিগতভাবে চেনার সুযোগ না থাকলেও তার সম্পর্কে জানা যায় তার বক্তব্য, সাক্ষাৎকার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট এবং বিভিন্ন ভিডিও থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে।
ট্রাম্প নিজের চারপাশে একটি আলাদা বাস্তবতার জগৎ বা ‘বুদবুদ’ তৈরি করেছেন, যেখানে তিনি নিজেই প্রধান চরিত্র। এই কল্পিত জগতে তিনি গল্পের কেন্দ্রবিন্দু, আর অন্য সবাই তার সহায়ক চরিত্র মাত্র।
এই দৃষ্টিভঙ্গিতে তিনি নিজেকে সবকিছুর নিয়ন্ত্রক ও কেন্দ্র হিসেবে দেখেন। যেখানে তিনিই কারণ, তিনিই ফলাফল। তার চারপাশের মানুষ এবং পুরো মানবজাতি কেবল দর্শকের ভূমিকায় থাকে।
‘সাফল্যের নিজস্ব সংজ্ঞা’
ট্রাম্পের দৃষ্টিতে তিনি সবসময়ই বিজয়ী। এবার বাস্তবতার সঙ্গে তার অবস্থার মিল থাকুক বা না থাকুক। নিজের চোখে তিনি সফল, বুদ্ধিমান এবং শক্তিশালী।
তার ব্যবসায়িক জীবনের বিভিন্ন ব্যর্থতা, ঋণ ও দেউলিয়াত্ব সত্ত্বেও তিনি নিজেকে সফল ব্যবসায়ী হিসেবেই দেখেছেন বলে মন্তব্য করা হয়েছে।
‘কল্পিত বিজয়ের ধারণা’
ট্রাম্পের কাছে বাস্তব সত্যের চেয়ে ব্যক্তিগত বিশ্বাসই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি এমন এক মানসিক কাঠামোর মধ্যে থাকেন যেখানে তিনি যা বিশ্বাস করেন, সেটিই সত্য হিসেবে কাজ করে।
এ প্রসঙ্গে জর্জ কস্টানজার একটি বিখ্যাত ধারণার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, ‘এটি মিথ্যা নয়, যদি আপনি সত্যিই তা বিশ্বাস করেন’। এটি ট্রাম্পের চিন্তাভাবনার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।
ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত অবস্থানকে ট্রাম্প নিজের দৃষ্টিতে সফলতা হিসেবে দেখলেও বাস্তবে এটি একটি কৌশলগত ব্যর্থতা হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যেমন সৌদি আরব, উপসাগরীয় দেশগুলো, দক্ষিণ কোরিয়া ও অস্ট্রেলিয়া যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করতে পারে।
এই পরিস্থিতি বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তন আনতে পারে। এর ফলে চীনের প্রভাব বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হতে পারে।
‘নতুন বৈশ্বিক বাস্তবতা’
বর্তমান পরিস্থিতি একটি নতুন বিশ্বব্যবস্থার দিকে ইঙ্গিত করছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে এবং বিভিন্ন শক্তি নিজেদের অবস্থান পুনর্বিন্যাস করছে।
ইতিহাস ভবিষ্যতে এই সময়টিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে চিহ্নিত করতে পারে, যদিও ট্রাম্প হয়তো সেটিকেও নিজের বিজয় হিসেবেই ব্যাখ্যা করবেন।