বিচার বিভাগ সপ্তাহ উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা খামেনি দেশটির বিচার বিভাগকে গত বছর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসী যুদ্ধের ফলে নিজেদের লঙ্ঘিত অধিকার পুনরুদ্ধার এবং যুদ্ধাপরাধের বিচার নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
রোববার (২৮ জুন) ইরানি দার্শনিক ও রাজনীতিবিদ আয়াতুল্লাহ মোহাম্মদ বেহেশতি ও তার সঙ্গীদের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া বার্তায় তিনি বলেন, বর্তমানে সমগ্র ইরানি জাতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আইনি ও বিচারিক দায়িত্ব হলো আন্তর্জাতিক অপরাধী এবং অহংকারী আগ্রাসী শক্তি কর্তৃক লঙ্ঘিত জাতীয় অধিকার পুনরুদ্ধার করা।
খামেনি বলেন, জনগণের অধিকার রক্ষা শুধু ব্যক্তিগত আইনি বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং বিদেশি আগ্রাসীদের সংঘটিত অপরাধের বিরুদ্ধে দেশের সামষ্টিক অধিকার রক্ষাও এর অন্তর্ভুক্ত।
তিনি বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিচার বিভাগের দায়িত্ব হলো জনগণের অধিকার সংরক্ষণ, জনস্বার্থ ও বৈধ স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, আল্লাহর বিধান বাস্তবায়ন এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ তদারকি করা। এসব দায়িত্ব সফলভাবে পালন করা গেলে বিচার বিভাগের প্রতি জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।
দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইনি চ্যালেঞ্জের প্রসঙ্গ তুলে মোজতবা খামেনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধী ও বৈশ্বিক আগ্রাসীদের, বিশেষ করে গত বছর থেকে সংঘটিত অপরাধের কারণে লঙ্ঘিত অধিকার পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের বিষয় হওয়া উচিত।
তিনি বলেন, ২০২৫ সালের জুন এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের বিরুদ্ধে চালানো দুই দফা আগ্রাসী যুদ্ধে নিহতদের রক্ত, দেশের ভেতরে ও বাইরে ইরানি জনগণের ওপর আরোপিত শারীরিক, মানসিক, আর্থিক ও আধ্যাত্মিক ক্ষয়ক্ষতি, এসবই শত শত, এমনকি হাজার হাজার গুরুত্বপূর্ণ আইনি মামলার ভিত্তি হতে পারে।
খামেনি মিনাব ও লামের্দে শিশু হত্যাসহ নজিরবিহীন যুদ্ধাপরাধ, চিকিৎসাকেন্দ্র ও জনসেবামূলক স্থাপনায় হামলা এবং নবজাতক থেকে শুরু করে প্রবীণ নাগরিকদের নিহত হওয়ার ঘটনাও উল্লেখ করেন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে তিনি শহীদ আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলি খামেনির শাহাদাতের প্রসঙ্গ তুলে তাকে অতুলনীয় ব্যক্তিত্ব, যুগের অনন্য রত্ন এবং মহান মুজাহিদ নেতা হিসেবে অভিহিত করেন।
তিনি বলেন, এসব ঘটনার প্রতিটির বিচার দেশীয় ও আন্তর্জাতিক আদালতে গুরুত্বের সঙ্গে অনুসরণ করতে হবে। এটা নিশ্চিত যে অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে এবং তাদের অপরাধের পরিণতি ভোগ করাতে হবে।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কয়েকজন নেতা প্রকাশ্য বক্তব্যে তারা এসব কর্মকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন, এমনকি গর্বও প্রকাশ করেছেন। এসবই অপরাধের স্বীকারোক্তি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে এবং ইরানি জাতির লঙ্ঘিত অধিকার পুনরুদ্ধারের আইনি ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করবে।
মোজতবা খামেনি বলেন, গত বছর বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষ বৈঠকে ২০২৫ সালের যুদ্ধকালীন অপরাধ তদন্তের যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল, সেটি এখন সর্বশেষ যুদ্ধের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের রায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে তা অনুসরণ করতে হবে। কারণ এ ধরনের আইনি পদক্ষেপ ভবিষ্যতে অনুরূপ অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধে সহায়ক হবে।
সূত্র : প্রেস টিভি