স্বপ্ন ছিল ইতালিতে গিয়ে পরিবারের ভাগ্য বদলাবেন। সেই স্বপ্নই শেষ পর্যন্ত কাল হয়ে দাঁড়াল মাদারীপুরের শিবচরের যুবক ইকবাল হোসেন মাদবরের (২৫) জন্য। অবৈধ পথে ইতালি নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মানব পাচারকারী চক্রের খপ্পরে পড়ে লিবিয়ায় নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে পরিবার।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছালে শিবচর উপজেলার দক্ষিণ বহেরাতলা ইউনিয়নের সরকারেরচর গ্রামে নেমে আসে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। নিহত ইকবাল হোসেন মাদবর উপজেলার সরকারেরচর গ্রামের মোতালেব মাদবরের ছেলে।
পরিবারের দাবি, কয়েক মাস আগে ইতালিতে পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে শিবচরের বাঁশকান্দি ইউনিয়নের ছলেনামা গ্রামের সাগর মাদবর ও কামরুল মাদবর নামে দুই দালাল তাদের কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা নেন। এরপর বিভিন্ন দেশ ঘুরিয়ে ইকবালকে লিবিয়ায় নেওয়া হয়।
পরিবারের অভিযোগ, লিবিয়ায় পৌঁছানোর পরই ইকবালকে একটি চক্র জিম্মি করে আরও ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। ছেলেকে বাঁচাতে ধারদেনা করে অতিরিক্ত ৮ লাখ টাকা পাঠান স্বজনরা। কিন্তু বাকি ৪ লাখ টাকা দিতে না পারায় ইকবালের ওপর শুরু হয় অমানবিক নির্যাতন। এতে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে চিকিৎসার অভাবে তার মৃত্যু হয়।
ইকবালের বাবা মোতালেব মাদবর জানান, জমিজমা বিক্রি ও ঋণ করে ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়েছিলেন। এখন ছেলে হারানোর পাশাপাশি নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন তারা। দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত দালালদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এদিকে ঘটনার পর অভিযুক্তদের কাউকে এলাকায় পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্যও নেওয়া সম্ভব হয়নি।
শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদেশে ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে মানব পাচারকারী চক্র এখনও সক্রিয় রয়েছে। সচেতনতার অভাব এবং দালালদের মিথ্যা আশ্বাসে প্রতারিত হয়ে অনেক পরিবার সর্বস্ব হারাচ্ছে। তারা মানব পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালানোর পাশাপাশি নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে সরকারের কার্যকর উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন।