শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ১১:২৫ অপরাহ্ন

সৌদি আরবে কোরআন প্রতিযোগিতায় ২ তরুণীসহ ৪ বাংলাদেশির সাফল্য

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬

সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীতে অনুষ্ঠিত ৪৬তম বাদশাহ আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এতে চার বাংলাদেশি তরুণ ও তরুণী জয়ী হয়েছেন। তারা হলেন- শেখ মুহাম্মদ মাহমুদুল হাসান ও মুসফিরা বিনতে মাহমুদ এবং মুহাম্মদ জাকারিয়া ও রাবিতা বিনতে রমজান।

বুধবার (১৯ আগস্ট) পবিত্র মসজিদুল হারামে অনুষ্ঠিত এক বর্ণাঢ্য সমাপনী অনুষ্ঠানে তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন মক্কা অঞ্চলের ডেপুটি গভর্নর প্রিন্স সাউদ বিন মিশাল। এ সময় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এদিকে প্রথমবারের মতো এবার পৃথকভাবে মক্কার হিলটন হোটেলে অনুষ্ঠিত নারীদের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন প্রিন্সেস ফাহদাহ বিনতে ফালাহ আল হাথলিন।

সৌদি বার্তা সংস্থা এসপিএ জানায়, কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতার ৪৬তম পর্ব পঁাচটি গ্রুপে অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত মঙ্গলবার দেশটির ইসলাম ও দাওয়াহবিষয়ক মন্ত্রী ড. আব্দুল লতিফ বিজয়ীদের নাম অনুমোদন দেন।

প্রতিযোগিতার তৃতীয় গ্রুপে তৃতীয় হয়েছেন যথাক্রমে শেখ মুহাম্মদ মাহমুদুল হাসান ও মুসফিরা বিনতে মাহমুদ। এই গ্রুপে পবিত্র কোরআন পূর্ণাঙ্গ হিফজের পাশাপাশি শুদ্ধ তিলাওয়াত ও তাজবিদ যাচাই করা হয়। তারা প্রত্যেকে পৃথকভাবে পুরস্কার হিসেবে পেয়েছেন এক লাখ ৮০ হাজার রিয়াল।

আর চতুর্থ গ্রুপে প্রথম হয়েছেন মুহাম্মদ জাকারিয়া এবং তৃতীয় হয়েছেন রাবেতা বিনতে রমজান। এই গ্রুপে পবিত্র কোরআনের ১৫ পারা হিফজের পাশাপাশি শুদ্ধ তিলাওয়াত ও তাজবিদ যাচাই করা হয়। প্রথম পুরস্কার হিসেবে মুহাম্মদ জাকারিয়া পেয়েছেন এক লাখ ৫০ হাজার রিয়াল এবং তৃতীয় পুরস্কার হিসেবে রাবিতা বিনতে রমাদান পেয়েছেন এক লাখ ৩০ হাজার রিয়াল।

গত ৬ আগস্ট সেৌদি বাদশাহ সালমানের পৃষ্ঠপোষকতায় দেশটির ইসলাম ও দাওয়াহ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্বাবধানে কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতার ৪৬তম পর্ব শুরু হয়। পাঁচ গ্রুপে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় ১৩৩টি দেশের ৩৩৪ পুরুষ ও নারী অংশ নেন। আয়োজকদের মতে, এবারই প্রথম সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রতিযোগী অংশ নিয়েছেন। প্রতিযোগিতার পঁাচ গ্রুপে মোট ৫০ জনকে পুরস্কৃত করা হয়।

এদিকে প্রথম পুরস্কার বিজয়ী হাফেজ জাকারিয়া এক সাক্ষাত্কারে বলেন, Èকোরআনই তাকে একটি ছোট গ্রাম থেকে পবিত্র মক্কা নগরীতে নিয়ে এসেছে।’ মসজিদুল হারামে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগীদের সঙ্গে এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকে তিনি তার জীবনের অন্যতম বড় সম্মান ও স্মরণীয় অর্জন হিসেবে উলে্লখ করেন।
মক্কার পবিত্র ভূমিতে বিশ্বের নানা প্রানে্তর হাফেজদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশের প্রথম হওয়াসহ বিভিন্ন স্থান অর্জন নিঃসন্দেহে গর্বের বিষয়
বাংলাদেশি হাফেজদের এই সাফল্য দেশের কোরআন শিক্ষা ও হিফজের অঙ্গনেও নতুন অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের এই অর্জন এবারই প্রথম নয়; বরং প্রায়ই বাংলাদেশি হাফেজরা এই সাফল্য অর্জন করে থাকেন। ২০২৪ সালে আনাছ বিন আতিক, ২০২৩ সালে তৃতীয় হয়েছিলেন ফয়সাল আহমেদ, ২০২২ সালে সালেহ আহমাদ তাকরিমসহ অনেকেই সাফল্যের এই ধারা অব্যাহত রেখেছেন।

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD