মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত ঘিরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ও শিল্প খাতে বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মোহাম্মদ আল-আনসারি বলেছেন, এই সংকটের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এখন অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বকে ‘শিল্প খাতে বিপর্যয়’ মোকাবিলা করতে হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।
দিনে মাত্র ১০টি পণ্যবাহী জাহাজ
কেপলার-এর তথ্য বলছে, গত ১০ দিনে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন গড়ে মাত্র ১০টি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের হামলার কারণে ট্যাংকারসহ বিভিন্ন জাহাজের চলাচল ব্যাহত হওয়ায় মে মাসের পর এটিই প্রণালিটিতে জাহাজ চলাচলের সর্বনিম্ন হার।
বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি হরমুজ প্রণালি। ফলে এখানে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তৈরি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
তেলের দাম সর্বোচ্চ
হরমুজ প্রণালির অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারেও। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের মধ্যে ব্রেন্ট তেলের ফিউচার প্রায় ৯৭ ডলার প্রতি ব্যারেলে উঠে গেছে।
এটি প্রায় ছয় সপ্তাহের মধ্যে তেলের সর্বোচ্চ দাম, যা বিশ্ববাজারে নতুন করে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়িয়েছে।
দক্ষিণ লেবাননে হতাহত
এদিকে সংঘাতের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে লেবাননেও। দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ফ্রন্টে সংঘাত বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না হলে এর প্রভাব পড়তে পারে তেল, পরিবহন ও বৈশ্বিক শিল্প উৎপাদনে।
সূত্র: আল জাজিরা