বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১৭ অপরাহ্ন

হাজার কিমি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে ভারতে প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা জাপানের

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬

ভারত কি এবার জাপানের দীর্ঘপাল্লার জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ও আক্রমণাত্মক ড্রোনের প্রশিক্ষণের সম্ভাব্য কেন্দ্র হয়ে উঠতে যাচ্ছে? এমন সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে টোকিও। এ লক্ষ্যে ভারতের সঙ্গে আলোচনা করতে সামরিক কর্মকর্তাদের পাঠিয়েছে জাপান। প্রায় এক হাজার কিলোমিটার পাল্লার নতুন ক্ষেপণাস্ত্রের কার্যকর প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা থেকে শুরু করে ছোট আকারের আক্রমণাত্মক ড্রোন পরিচালনা—বিভিন্ন বিষয় নিয়ে চলছে আলোচনা। এখনো মহড়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হলেও উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় নতুন মাত্রা যুক্ত হতে পারে।

ভারতে জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ও ছোট আকারের আক্রমণাত্মক ড্রোনের মহড়া আয়োজনের সম্ভাবনা যাচাই করছে জাপান। দেশটির স্থল আত্মরক্ষা বাহিনীর প্রধান জেনারেল মাসায়োশি আরাই এ তথ্য জানিয়েছেন।

গত মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে আরাই বলেন, ভারতের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় সমন্বয়ের জন্য জাপানের কর্মকর্তাদের পাঠানো হয়েছে।

এর আগে জাপানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে জানিয়েছিল, দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা অক্টোবরের মাঝামাঝি ভারতে গিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্র ও গোলাবর্ষণের প্রশিক্ষণক্ষেত্র পরিদর্শন করেন।

তবে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা নির্বাচন করা হয়নি। একইভাবে, সম্ভাব্য মহড়ার আয়োজন নিয়েও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের কার্যকর ব্যবহার অনুশীলন করা জাপানের জন্য ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। দেশটির স্থল আত্মরক্ষা বাহিনীর প্রধানের মতে, দীর্ঘপাল্লার অস্ত্রের সম্পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে প্রশিক্ষণ পরিচালনা করা কঠিন। এ কারণে জাপানের নিজস্ব প্রশিক্ষণক্ষেত্রের পাশাপাশি বিদেশের সুযোগ-সুবিধাও বিবেচনা করা হচ্ছে।

এই প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়েছে জাপানের নতুন টাইপ-২৫ জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র।

প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চে কুমামোতো অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্রটি মোতায়েন করা হয়। এর পাল্লা প্রায় এক হাজার কিলোমিটার বলে ধারণা করা হয়। তুলনায়, আগের টাইপ-১২ ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ছিল প্রায় ২০০ কিলোমিটার।

দীর্ঘপাল্লার অস্ত্রের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত দূরত্ব, নিরাপদ এলাকা এবং উপযুক্ত পরীক্ষাব্যবস্থা থাকা জরুরি। ফলে বিদেশে প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি করা জাপানের সামরিক পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

গত ২৫ অক্টোবর জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়া ‘কিন সোর্ড ২৭’-এর সময় জাপানের সেনারা টাইপ-২৫ ক্ষেপণাস্ত্রের উৎক্ষেপণব্যবস্থা স্থাপন ও প্রস্তুত করার প্রক্রিয়া সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন।

তবে ওই প্রদর্শনীতে কোনো ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়নি।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ায় জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের গোলাবর্ষণ মহড়ায় অংশ নিয়েছে জাপান। ২০২৬ সালের এপ্রিল ও মে মাসে ফিলিপাইনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘বালিকাতান’ মহড়ায় প্রথমবারের মতো এ ধরনের প্রশিক্ষণ নেয় দেশটির স্থল আত্মরক্ষা বাহিনী। সেখানে টাইপ-৮৮ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়।

ভারতে প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি হলে বিদেশে সামরিক মহড়া পরিচালনার ক্ষেত্রে জাপানের বিকল্প আরও বাড়বে।

ভারত ও জাপানের আলোচনায় শুধু জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রই নয়, ছোট আকারের আক্রমণাত্মক ড্রোনের প্রশিক্ষণও রয়েছে।

এ ধরনের প্রশিক্ষণ আয়োজনের ক্ষেত্রে বেতার তরঙ্গের ব্যবহার, পরিচালনাপদ্ধতি, প্রশিক্ষণের ধরন, উপযুক্ত স্থান এবং নিরাপত্তাব্যবস্থার মতো বিষয় বিবেচনা করতে হচ্ছে।

তবে ড্রোন প্রশিক্ষণের সম্ভাব্য স্থান, সময় কিংবা ব্যবহৃতব্য নির্দিষ্ট প্রযুক্তি সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত ঘোষণা আসেনি।

ভারত ও জাপান ইতিমধ্যে বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় সামরিক মহড়ায় অংশ নেয়। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে দুই দেশ কোয়াডের সদস্য হিসেবে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সহযোগিতা করছে।

এই অঞ্চলে চীনের সামুদ্রিক তৎপরতা নিয়ে বিভিন্ন দেশের উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে ভারত ও জাপানের প্রতিরক্ষা সম্পর্কের গুরুত্ব বেড়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রশিক্ষণ নিয়ে আলোচনা সফল হলে দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং প্রশিক্ষণ সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই আলোচনা এখন পর্যন্ত ভারত ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় উদ্যোগ। একে কোয়াডের ঘোষিত কোনো যৌথ সামরিক মহড়া হিসেবে বিবেচনা করার মতো তথ্য নেই।

জাপানের দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেগুলোর কার্যকর প্রশিক্ষণের উপযুক্ত জায়গা খুঁজে বের করা দেশটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভারত সেই সম্ভাব্য বিকল্পগুলোর একটি।

তবে সম্ভাব্য মহড়ার স্থান, সময় এবং অস্ত্রব্যবস্থা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ফলে এটি আপাতত দুই দেশের মধ্যে চলমান আলোচনা ও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর্যায়েই রয়েছে।

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD