পটুয়াখালী প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বিলবিলাস নেছারিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ নিয়োগ পরীক্ষায় পছন্দের প্রার্থী কৃতকার্য না হওয়ায় নিয়োগ কমিটির সভাপতি ফের নিয়োগ পরীক্ষার আয়োজন করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় পূর্বের নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেয়া প্রার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। নিয়োগ পরীক্ষায় ৫ সদস্যের মধ্যে ছিলেন ওই মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও বাউফল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিন খান। সদস্য সচিব ছিলেন ওই মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ একেএম মহিউদ্দিন। বাকি তিন সদস্য ছিলেন ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোনীত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. রুহুল আমিন, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মাহফুজা ইয়াছমিন এবং ওই মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির শিক্ষক প্রতিনিধি মো. সোহেল মাহমুদ।
উপাধ্যক্ষ পদে চারজন প্রার্থী আবেদন করলেও মাত্র একজন প্রার্থী উপস্থিত হওয়ায় ওই পরীক্ষা নেওয়া হয়নি। আর অধ্যক্ষ পদে ১৪ জন প্রার্থী আবেদন করলেও আটজন প্রার্থী নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেন।
নিয়োগ পরীক্ষার এক সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এক নেতার পছন্দের প্রার্থী ছিল। কিন্তু তিনি ওই নিয়োগ পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফলাফল করতে পারেননি। ফলাফলে তার অবস্থান ছিল পঞ্চম। নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফলে পছন্দের প্রার্থীকে প্রথম দেখিয়ে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ দেওয়ার জন্য নিয়োগ পরীক্ষার সদস্যদের চাপ প্রয়োগ করা হয়। তাতে ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোনীত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. রুহুল আমিন ও মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মাহফুজা ইয়াছমিন রাজি হননি। তারা নিয়োগ পরীক্ষায় প্রথম হওয়া আবুল কালাম আজাদকে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ প্রদানের জন্য সুপারিশ করে যান।
ওই সুপারিশ মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সদস্য সচিব গোপনে গত ২৮ মার্চ পুনরায় অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগ প্রদানের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। ওই বিজ্ঞপ্তির আলোকে গত ১৬ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কেএম রুহুল আমিন নিয়োগ বোর্ডে চট্টগ্রাম বিভাগের পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদকে প্রতিনিধি নিয়োগ করেন।
নিয়োগ পরীক্ষার সদস্য সচিব ও মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ একেএম মহিউদ্দিন বলেন, সভাপতির নির্দেশে ওই নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল বাতিল করে পুনরায় বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নিয়োগ পরীক্ষার সভাপতি ও মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি বাউফল সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিন খান বলেন, এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে রাজি না।