বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ০৪:০৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

আলেশা মার্টের বিরুদ্ধে গ্রাহক হয়রানি ও ভোগান্তির অভিযোগ

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২১

স্টাফ রিপোর্টার : ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আলেশা মার্টের বিরুদ্ধে গ্রাহক হয়রানি ও ভোগান্তির অভিযোগ উঠেছে। নির্দিষ্ট সময়ে পণ্য সরবরাহ না করা, একাধিকবার সময় নিয়ে পণ্য সরবরাহ না করা, সরবরাহের তারিখ বার বার চেঞ্জ করা, অফিস নাম্বারে একাধিকবার ফোন করেও উত্তর না পাওয়াসহ নানা অভিযোগ করেছে প্রতিষ্ঠানটির গ্রাহকরা। এমনকি রিফাণ্ডের টাকা নিয়েও চলছে নানা তালবাহানা।

অভিযোগের কথা স্বীকার করে আলেশা মার্ট বলছে কিছু প্রোডাক্ট বাজারে না থাকার কারণে ডেলিভারি দেওয়া সম্ভব হয়নি। যার জন্য কিছু অভিযোগ উঠেছে। বাজারে না থাকার কারণে যেসব প্রোডাক্ট ডেলিভারি দেওয়া সমম্ভব হয়নি তাদের টাকা রিফান্ড দেওয়া হচ্ছে৷

সম্প্রতি তথ্যপ্রযুক্তি খাত সংশ্লিষ্ট অনেকেই আলেশা মার্টের গ্রাহক ভোগান্তি নিয়ে নানান প্রশ্ন তুলেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এই নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। দেশের ই-কমার্স নিয়ে কোনো কমিশন না থাকার কারণে দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি সরকারের উচ্চ মহলে নজরের বাইলে ছিল।

সম্প্রতি ইভ্যালি ও ই-অরেঞ্জের ইস্যুতে সব মহল নড়েচড়ে বসেছে।

মূলত বাজার মূল্যের চেয়ে কম টাকা বা ডিসকাউন্টে পণ্য কেনার সুযোগ থাকায় আলেশা মার্টে ভিড় করছে মানুষ। অভিযোগ রয়েছে নির্ধারিত সময়ে পণ্য ডেলিভারি দিতে পারছে না প্রতিষ্ঠানটি। দুই তিন মাস অপেক্ষায় রেখে গ্রাহককে বলা হচ্ছে স্টক আউট, পণ্য ডেলিভারি দেওয়া যাচ্ছে না।

জুনের ২৪ তারিখে আলেশা মার্টে দুইটি বাইক অর্ডার দেন শালেহ আহমেদ। ইতিমধ্যে পণ্য ডেলিভারির কয়েকটি ডেট চলে গেছে। তবুও বুঝে পাননি বাইক। এতে কিছুটা দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে তার উপর।

তিনি বার্তা২৪.কমকে বলেন, তিনবার ডেলিভারি ডেট চেঞ্জ হয়েছে। এখন বলছে নভেম্বরে ডেলিভারি দিবে। কী হবে তা বুঝতে পারছি না। পাব কি পাব না তাও জানি না।

মোহাম্মদ ফেরদৌস মন্ডল নামের একজন বলেন, প্রোডাক্ট নাই বলে অর্ডার ক্যান্সেল করেছে। ১৫ দিনের মধ্যে রিফান্ড করার কথা থাকলেও এখানো কোনো খোঁজ নেই।

রিফান্ডের টাকা না পেয়ে আলেশা মার্টের কাস্টমার সার্ভিসে কল দেন তিনি। তবে কাস্টমার সার্ভিস থেকে নানা কথা বলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মোহাম্মদ মাহবুব নামের একজন বাজাজ ডিসকভার অর্ডার দিয়েছেন। ৮ সেপ্টেম্বর ডেলিভারি দেওয়ার তারিখ নির্ধারণ থাকলেও তা ডেলিভারি পাননি।

আল মাহমুদ আলেশা মার্টে অর্ডার করেছে জুনের ৮ তারিখ। তিনবার চেঞ্জ করার পর নতুন করে আবার আগামী মাসের ২৪ তারিখে ডেলিভারির ডেট দিয়েছে।

তিনি বলেন, ৪৫ দিনে ডেলিভারি দেওয়ার কথা থাকলেও সাড়ে চার মাস হতে চলছে, তারপরও ডেলিভারি পাব নাকি তার নিশ্চয়তা নাই।

ডেলিভারি বিলম্বের বিষয়ে আলেশা মার্টের জনসংযোগ কর্মকর্তা তানজিলুর রহমান বলেন, পালসার ডাবল ডিস্ক বাইকসহ কয়েকটা বাইকের সাপ্লাই নেই। বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না। এজন্য আমাদের দেরি হচ্ছিল। কারো কারো দুই মাস, তিন মাস দেরি হয়েছে। তাদেরকে ঝুলিয়ে রাখার ইচ্ছা আমাদের নেই। আমরা এখন কাস্টমারদের রিফান্ড নেওয়ার সুযোগ দিয়েছি, কেউ রিফান্ড নিতে চাইলে নিতে পারবে। কেউ যদি মনে করে অন্য প্রোডাক্ট নিবে তাও নিতে পারবে।

তিনি বলেন, কয়েকটি ই-কমার্স পালিয়েছে। আমরা চাচ্ছি আমাদের পজিশন ধরে রাখতে। আমাদের বদনাম কাটানোর জন্য প্রিন্সিপাল অ্যামাউন্ট, যে টাকা ডিপোজিট করেছিল গ্রাহক তা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া আজ থেকে শুরু করেছি।

গ্রহকদের আস্বস্ত করে তিনি বলেন, আমাদের জায়গা ধরে রাখার জন্য কোটি কোটি টাকা রিফান্ড দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি।

সূত্র : বার্তা২৪

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD