মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ০১:১১ পূর্বাহ্ন

ইরানে নেই মোজতবা খামেনি

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ইরানে নেই। তার নামে প্রকাশিত বিবৃতিগুলো বাস্তবে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) প্রধান আহমদ বাহিদি এবং বাহিনীর অন্য সদস্যরা লিখছেন। এমনই বিস্ফোরক দাবি করেছে সৌদি আরবভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-হাদাথ।
খবরে বলা হয়েছে, সংবাদমাধ্যমটি এই তথ্যের উৎস হিসেবে ইসরাইলের সূত্রের কথা উল্লেখ করেছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় মোজতবার বাবা আলি খামেনি নিহত হওয়ার পরপরই তাকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। তবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি এখন পর্যন্ত কোনো জনসমক্ষে উপস্থিত হননি। এ সময় তার পক্ষ থেকে কেবল লিখিত বিবৃতিই প্রকাশ করা হয়েছে।

ইসরাইলি নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, মোজতবা খামেনির নামে প্রকাশিত এসব বিবৃতি আসলে সম্প্রতি আইআরজিসির প্রধান হিসেবে নিয়োগ পাওয়া আহমদ বাহিদি এবং বাহিনীর অন্য সদস্যরা প্রস্তুত করছেন।

ওই সূত্রের ভাষ্য, ইরানের অভ্যন্তরীণ বিভাজন এতটাই গভীর যে তা আইআরজিসির অস্তিত্বের জন্যও হুমকি হয়ে উঠেছে। এ ছাড়া একই সূত্র দাবি করেছে, ইরান যদি ইসরাইলকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়, তবুও যুক্তরাষ্ট্র চায় না তেল আবিব সরাসরি তেহরানের ওপর পাল্টা হামলায় অংশ নিক।
তবে মোজতবা খামেনি কোথায় অবস্থান করছেন বা তিনি ইরানের বাইরে রয়েছেন- এ দাবির পক্ষে কোনো অতিরিক্ত তথ্য বা প্রমাণ আল-হাদাথের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর আগে থেকে মোজতবা খামেনিকে আর জনসমক্ষে দেখা বা তার কথা সরাসরি শোনা যায়নি। দীর্ঘদিন ধরে মোজতবা খামেনির এমন অনুপস্থিতিতে দেশটিতে জল্পনা এখন তুঙ্গে।

এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানিয়েছিল, তিনি একটি গোপন স্থানে অবস্থান করছেন এবং বাইরের বিশ্বের সঙ্গে তার যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন। জটিল বার্তাবাহক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কেবল তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব। ইরান সরকারের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তি নিয়ে তথ্য প্রকাশে বিলম্ব হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবগুলোর জবাব দিতেও দীর্ঘ সময় লেগেছে।

সিবিএস নিউজ আরও দাবি করেছিল, অপারেশন ‘এপিক ফিউরি’ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় মোজতবা খামেনিও আহত হন।
এদিকে দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৯ জুলাই মাশহাদে বাবার দাফন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে চেয়েছিলেন মোজতবা খামেনি। এমনকি তিনি নিজেই বাবার জানাজার নামাজে ইমামতি করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ইরানের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা তার সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন।

তাদের আশঙ্কা ছিল, তিনি জনসমক্ষে এলে ইসরাইল তাকে হত্যা বা তার অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা করতে পারে।

আইআরজিসির দুই সদস্য এবং দাফনের পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তির বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির কারণেই তাকে অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দেয়া হয়নি।

মোজতবা খামেনির সীমিত যোগাযোগ, গোপন অবস্থান এবং জনসমক্ষে অনুপস্থিতি নিয়ে এসব প্রতিবেদন তার সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই প্রকাশিত হচ্ছে।

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD