দেশের সব সিটি করপোরেশন এলাকায় একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) বিপরীতে সর্বোচ্চ পাঁচটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বা ই-রিকশা নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। চালক ও মালিকদের শৃঙ্খলায় ফেরাতে এবং সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ সংক্রান্ত নতুন নীতিমালার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার।
বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ‘সিটি কর্পোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিক্সা (ই-রিক্সা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’ শীর্ষক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। অবিলম্বে এ বিধিমালা কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।
নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি একটি বা একাধিক সিটি করপোরেশন এলাকা থেকে সর্বোচ্চ পাঁচটি যানবাহনের নিবন্ধন নিতে পারবেন। তবে নির্দিষ্ট সিটি করপোরেশনে নিবন্ধিত কোনো রিকশা অন্য কোনো সিটি করপোরেশন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে চালানো যাবে না। এছাড়া, নিবন্ধন ছাড়া কোনো ই-রিকশা সড়কে চলাচল করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আবেদন প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
ই-রিকশার নিবন্ধনের জন্য আগ্রহীদের সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) বরাবর নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে।
আবেদনপত্রে আবেদনকারীর নাম (বাংলা ও ইংরেজি), মা-বাবার নাম, এনআইডি নম্বর, বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য দিতে হবে। পাশাপাশি রিকশার বিস্তারিত বিবরণ-যানবাহনের ধরন, যাত্রী ধারণক্ষমতা, প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের নাম, মডেল, চেসিস ও মোটর নম্বর উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক।
আবেদনের সঙ্গে জমা দিতে হবে:
জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত কপি ও ছবি।
নির্ধারিত নিবন্ধন ফি জমার মূল রসিদ।
বুয়েট নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী ফিটনেস সনদ (সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগের প্রতিস্বাক্ষরসহ)।
বিমা পলিসি (যদি থাকে)।
যাচাই-বাছাই ও বুয়েটের মানদণ্ড
আবেদন জমা হওয়ার পর নথিপত্র যাচাইয়ের পাশাপাশি গাড়িটি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) প্রযুক্তিগত মানদণ্ড ও নিরাপত্তা শর্ত পূরণ করছে কি না, তা পরীক্ষা করা হবে। সকল শর্ত ও ফিটনেস ঠিক থাকলে আবেদন পাওয়ার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে কর্তৃপক্ষ নিবন্ধন সনদ প্রদান করবে।
নিবন্ধনের মেয়াদ ও নম্বর প্লেট
প্রতিটি নিবন্ধনের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর। নিবন্ধন সম্পন্ন হলে রিকশার জন্য কিউআর (QR) কোডযুক্ত স্বতন্ত্র নম্বর ও নম্বর প্লেট দেওয়া হবে, যা যানবাহনের দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করা বাধ্যতামূলক।
আবেদন বাতিল ও আপিলের সুযোগ
আবেদনপত্রে প্রদত্ত তথ্য বা কাগজপত্র ভুল কিংবা শর্ত অসম্পূর্ণ থাকলে কর্তৃপক্ষ আবেদন বাতিল করতে পারবে। তবে বাতিলের কারণ সাত কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে আবেদনকারীকে জানাতে হবে। সিদ্ধান্ত সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি ১০ কার্যদিবসের মধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল করতে পারবেন এবং আপিল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।