বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ০৮:২৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের অনুসন্ধান

এপস্টেইনের কাছে কেন তরুণীদের পাঠাতেন মডেলিং এজেন্ট, উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬

কুখ্যাত মার্কিন যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের চক্রের কাছে তরুণী ও মডেলদের পাঠানোর পেছনে ফরাসি মডেলিং এজেন্ট জঁ-লুক ব্রুনেলের ভূমিকা নিয়ে এক নতুন অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।

এক সময়ের নামকরা মডেলিং এজেন্সি ‘এমসি২ মডেলস’-এর প্রতিষ্ঠাতা ব্রুনেল কেন এবং কীভাবে উঠতি মডেল ও অল্পবয়সি তরুণীদের এপস্টিনের মতো একজন অপরাধীর ব্যক্তিগত লালসার শিকার হতে পাঠাতেন, তা নিয়ে দীর্ঘ অনুসন্ধান চালিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।

দীর্ঘদিন আইনি লড়াই ও জনসম্মুখের আড়ালে থাকার পর এখন ব্রুনেল এবং তার সহযোগীরা সেই অন্ধকার অধ্যায়ের ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করছেন, যা এই প্রতিবেদনে বিশদভাবে উঠে এসেছে।

দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের অনুসন্ধানে জানা যায়, মডেলিং শিল্পে নিজের প্রভাব খাটিয়ে ব্রুনেল মূলত ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন দেখা তরুণীদের প্রলোভন দেখাতেন। আন্তর্জাতিক ফ্যাশন জগতে প্রতিষ্ঠিত করার টোপ দিয়ে তিনি এই মেয়েদের জেফরি এপস্টেইনের ব্যক্তিগত বিমান, বিলাসবহুল দ্বীপ এবং ম্যানহাটনের ম্যানশনে পাঠাতেন। এপস্টেইন এই মডেলিং এজেন্সিতে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করেছিলেন, যার সুবাদে ব্রুনেল তার ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখতে তরুণীদের এক প্রকার পণ্য হিসেবে এপস্টেইনের কাছে সরবরাহ করতেন বলে তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে। ভুক্তভোগী বেশ কয়েকজন মডেল জানিয়েছেন, তারা ভাবতেও পারেননি যে একটি নামী এজেন্সির মাধ্যমে এসে তারা এমন ভয়াবহ যৌন নিপীড়নের ফাঁদে পড়বেন।

দীর্ঘদিন ধরে এসব অভিযোগ অস্বীকার করার পর, বর্তমান আইনি চাপ ও নতুন প্রমাণের মুখে ব্রুনেল ও তার আইনজীবীরা এই কাজের পক্ষে নতুন যুক্তি দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তাদের দাবি, এপস্টেইনের আসল অপরাধমূলক নেটওয়ার্ক বা তার অন্ধকার জগত সম্পর্কে ব্রুনেল সম্পূর্ণ অন্ধকারেই ছিলেন। তিনি কেবল একজন ধনী বিনিয়োগকারীকে খুশি রাখতে এবং মডেলদের স্পনসরশিপের ব্যবস্থা করতেই তাদের এপস্টিনের সাথে দেখা করতে পাঠিয়েছিলেন।

তবে ওয়াশিংটন পোস্টের হাতে আসা বিভিন্ন গোপন নথি, চিঠি এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দি ব্রুনেলের এই নির্দোষ সাজার দাবিকে নাকচ করে দিচ্ছে। নথিপত্রে দেখা গেছে, তরুণীদের ওপর এপস্টেইনের আচরণের ধরন সম্পর্কে ব্রুনেল শুধু অবগতই ছিলেন না, বরং অনেক ক্ষেত্রে তিনি নিজেই এই প্রক্রিয়ার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন।

জেফরি এপস্টেইনের মৃত্যুর পরও তার তৈরি সেই আন্তর্জাতিক যৌন পাচার ও শোষণ চক্রের পেছনে কারা মূল মদদদাতা হিসেবে কাজ করেছিল, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তদন্ত চলছে। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এই প্রতিবেদনটি প্রমাণ করে যে ফ্যাশন ও মডেলিং জগতের ভেতরের কিছু প্রভাবশালী মানুষ কীভাবে ক্ষমতা ও অর্থের লোভে তরুণীদের জীবন ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছিল।

এই চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁসের পর মডেলিং এজেন্সির আড়ালে চলা এই অনৈতিক চক্রের সাথে জড়িত অন্যান্য অপরাধীদেরও বিচারের আওতায় আনার দাবি আরও জোরালো হচ্ছে।

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD