করোনা নিয়ন্ত্রণ করে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে মালদ্বীপমালদ্বীপ থেকে ফিরে ইমরুল কাওসার ইমন : হাজারের বেশি দ্বীপ আর বিশাল জল রাশির দেশ মালদ্বীপ। লোক সংখ্যা তিন লাখের সামান্য বেশি। তবে পর্যটনের সব থেকে জনপ্রিয় এই দেশটি করোনা নিয়ন্ত্রণে এনে তাক লাগিয়ে দিয়েছে পুরো বিশ্বকে।
মালদ্বীপের স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, করোনার দ্বিতীয় ও চতুর্থ ওয়েভে কঠোর ভাবে বিধি নিষেধ ও স্বাস্থ্য বিধি মানার সুফল ভোগ করছে দেশটি। বিশেষ করে বিদেশি পর্যটকদের স্বাস্থ্য সনদ ও করোনা টেস্ট রিপোর্ট শতভাগ নিশ্চিতের মাধ্যমে সফলতার মুখ দেখেছেন তারা।
এবিষয়ে মালদ্বীপের রাজধানী মালে শহরের আডিক হাসপাতালের চিকিৎসক খলিল বলেন, সরকারের সুষ্ঠু পরিকল্পনা এবং স্থানীয় ও প্রবাসীদের সহযোগিতার ফলাফল হিসেবে আমাদের এই স্বার্থকতা। তিনি বলেন, মানুষেরা নিয়মকানুন মেনেছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনেছে। কেউ করোনা আক্রান্ত হলে তা গোপন রাখেনি। আর কোনো আইল্যান্ডে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লে সেই আইল্যান্ডকে পুরো মালদ্বীপের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। সেখানে চিকিৎসা ব্যবস্থা আরো তরান্বিত করা হয়েছে।
মালে শহরে দীর্ঘ ১২ বছর থেকে বসবাস করছেন বাংলাদেশী প্রবাসী দিদারুল আলম ভূইয়া। তিনি বলেন, এখানকার আইন-কানুন খুবই কঠোর। সিসি ক্যামেরা এবং প্রশাসনের কড়াকড়িতে কেউ-ই মাস্ক ছাড়া কিংবা স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করেনি।
মালদ্বীপের পর্যটন নগরী হুলহুমালে, ভিনি মালে, মাফুসি আইল্যান্ড এবং রাজধানী মালে শহরের সর্বত্রই দেখা গেছে স্বাস্থ্যবিধির সঠিক পরিপালন এবং মাস্কের ব্যবহার। স্থানীয় জনগণ, পর্যটক এবং বাংলাদেশী নাগরিকদের মধ্যে দেখা গেছে ব্যাপক সচেতনতা।
তবে বিদেশী পর্যটকদের স্বাস্থ্য ঘোষণাপত্র ছাড়া মালদ্বীপে স্বম্পূর্ণপূরে প্রবেশ নিশেষ করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ। দেশটিতে এরাইভেল এবং ডিপার্চারের সময় পূরর্ণ করতে হয় আলাদা ফর্ম। বিদেশী যাত্রীদের জন্য www.immigration.gov.mv তে ঢুকে এরাইভেল ফর্ম পূরণ করতে হয়।
সেখানে পাসপোর্ট নম্বর এবং যাবতীয় তথ্য প্রদানের পাশাপাশি ৯৬ ঘণ্টার পিসিআর টেস্ট রিপোর্টের কিউআর কোড আপলোড করতে হয়। পুরো প্রক্রিয়া শেষ হলে এই ওয়েব সাইট থেকে একটা অনুমতি পত্র দেয়া হয়। যা ভ্রমণের সময় সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। ওই কিউআর কোডটি মালে এয়ারপোর্টে সেটিকে স্ক্যান করে তথ্য যাচাই করা হয় এরপর সেখানে করোনা টেস্ট রিপোর্ট দেখে ওই নাগরিককে প্রবেশ করার অনুমতি দেয়া হয়। আর এটি না থাকলে সেই যাত্রীকে দেশে ফিরিয়ে দেয়া হয়।
করোনা নিয়ন্ত্রণ করে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে মালদ্বীপমালে এয়ারপোর্ট ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাফর বলে, এয়ার ক্রাফট থেকে নামার পর ইমিগ্রেশনে ঢুকার আগ মূহুর্তে সব যাত্রীর শরীরের তাপমাত্রা অটোমেশিনের মাধ্যমে স্কান করা হয়। সেখানে কারো শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাকি হলে তাকে ভিন্ন লাইনে পাঠানো হয়। এরপর পরীক্ষা-নিরিক্ষার মাধ্যমে করোনার কোনো লক্ষণ না থাকলে তাকে মালদ্বীপে প্রবেশ করতে দেয়া হয়। আর লক্ষণ থাকলে ওই যাত্রীকে ১৪ দিনের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়। তিনি বলেন, প্রতিটি যাত্রী মালদ্বীপ ত্যাগ করার সময়ও একই পদ্ধতিতে স্বাস্থ্য ঘোষণা পত্র অনলাইনে পূর্ণ করে এয়ারপোর্টে আসতে হয়।
সম্প্রতি প্রথম বাংলাদেশি এয়ারলাইন্স হিসেবে মালদ্বিপে যাত্রা শুরু করেছে ইউএস বাংলা এয়ার লাইন্স। এয়ারলাইন্সটির জিএম পিআর কামরুল ইসলাম বলেন, করোনাকালীন সময়ে সব দেশেই অনেক কড়াকড়ির মাধ্যমে যেতে হয়। বিশেষ করে কোভি-১৯ পিসিআর টেস্ট রিপোর্ট, মালদ্বিপ ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের স্বাস্থ্য ঘোষণা পত্র খুবই গুরুত্বপূর্ণ।