শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১২:০৯ অপরাহ্ন

উচ্চ সুদে ঋণ নিচ্ছে সরকার

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬

রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি পূরণ, বৈশ্বিক জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি, রাজস্ব আয়ে ঘাটতি, ডলার সংকট এবং অন্তর্বর্তী সরকারের রেখে যাওয়া অর্থনৈতিক স্থবিরতার বোঝাও বর্তমান সরকারের ঘাড়ে। এই চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সরকারকে। এ অবস্থায় উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর কাছ থেকে কঠিন শর্তে, উচ্চ সুদে বিদেশি ঋণ নিচ্ছে সরকার। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব ঋণ তাৎক্ষণিক স্বস্তি দিলেও দীর্ঘ মেয়াদে সরকারের জন্য গলার কাঁটা হতে পারে।

শেরেবাংলানগরের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে গত ২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত নন-কনসেশনাল ঋণসংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভায় মোট এক দশমিক নয় বিলিয়ন ডলারের পাঁচটি ঋণ প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে প্রায় এক দশমিক ছয় বিলিয়ন ডলারই ‘নন-কনসেশনাল’ বা অনমনীয় ঋণ। অর্থাৎ এই ঋণের সুদের হার বেশি, গ্রেস পিরিয়ড কম এবং শর্ত তুলনামূলক কঠোর।

জানা গেছে, অনুমোদিত এই ঋণের বড় অংশ প্রায় এক দশমিক তিন বিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তা হিসেবে ব্যবহার হতে পারে। বাজেট সহায়তা এই প্যাকেজে রয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) থেকে ৪৫০ মিলিয়ন ডলার, জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) থেকে ৫০০ মিলিয়ন ডলার, এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি) থেকে ২৫০ মিলিয়ন ডলার এবং ওপেক ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (ওএফআইডি) থেকে ১০০ মিলিয়ন ডলার।

এসব ঋণের সুদের হার তিন থেকে পাঁচ শতাংশের মধ্যে, যা প্রচলিত কনসেশনাল ঋণের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এরমধ্যে এডিবি থেকে নিতে যাওয়া ঋণের সুদের হার প্রায় চার দশমিক ১৩ শতাংশ এবং গ্রান্ট এলিমেন্ট মাত্র ছয় দশমিক ৬১ শতাংশ; এআইআইবির ঋণে সুদের হার প্রায় পাঁচ দশমিক ০৮ শতাংশ এবং গ্রান্ট এলিমেন্ট ঋণাত্মক; ওপেক ফান্ডের ঋণে সুদহার প্রায় তিন দশমিক ছয় শতাংশ এবং জাইকার ঋণে সুদের হার তুলনামূলক কম হলেও সেটিও পুরোপুরি স্বল্পসুদী নয়।

বাজেট সহায়তার পাশাপাশি ঢাকা-সিলেট করিডর উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য এডিবির আরও ৩০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ অনুমোদন করা হয়েছে। এখানেও ঋণের কার্যকর সুদের হার ৪ শতাংশের বেশি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব ঋণ তাৎক্ষণিক স্বস্তি দিলেও দীর্ঘ মেয়াদে সরকারের জন্য গলার কাঁটা হতে পারে।

সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, দেশের মোট বৈদেশিক ঋণ দাঁড়িয়েছে ৭৪ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ৮ শতাংশ বেশি। পাঁচ বছরে এই ঋণ বেড়েছে প্রায় ৪৬ শতাংশ। এছাড়া ইআরডির তথ্যানুযায়ী, ২০২৫-২৬ থেকে ২০২৯-৩০ অর্থবছরের মধ্যে বাংলাদেশকে প্রায় ২৫ দশমিক ৯৯ বিলিয়ন ডলার ঋণ পরিশোধ করতে হবে। এর মধ্যে ১৮ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার আসল এবং ৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার সুদ।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, এসব ঋণ মূলত বাণিজ্যিক সুদের ভিত্তিতে নেওয়া হয়, যা সাধারণত প্রায় পাঁচ থকে ছয় শতাংশের কাছাকাছি থাকে এবং অনেক বেশি ব্যয়বহুল।

তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এই ঋণ ব্যবহার করে যেসব অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, সেগুলো থেকে পর্যাপ্ত আয় বা রিটার্ন আসছে কি না। কারণ প্রকল্পগুলো থেকে যদি কাঙ্ক্ষিত রিটার্ন না পাওয়া যায়, তাহলে ভবিষ্যতে ঋণ পরিশোধে বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও সিইও ড. মাসরুর রিয়াজ বলেন, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বিশ্বব্যাংক, এডিবি ও আইএমএফ থেকে রেকর্ড পরিমাণ বাজেট সহায়তা নেওয়া হয়েছে, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও ব্যালান্স অব পেমেন্টে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। দেশের বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপও দ্রুত বাড়ছে। আগামী সময়ে ঋণ পরিশোধ ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। তাই এখন থেকেই ঋণ ব্যবস্থাপনায় আরও সতর্ক হতে হবে।

তিনি বলেন, মেগা ঋণ এড়িয়ে চলা এবং কঠিন শর্তযুক্ত ঋণ গ্রহণে সংযম দেখানো জরুরি। কেবল সেই ঋণই নেওয়া উচিত, যেগুলো থেকে দ্রুত অর্থনৈতিক সুফল পাওয়া সম্ভব। তথ্যসূত্র: কালের কণ্ঠ

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD