ইউরোপজুড়ে চলমান তীব্র ও ব্যতিক্রমী তাপদাহে লাখ লাখ মানুষ চরম বিপর্যস্ত পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। গত মঙ্গলবার ফ্রান্সের আবহাওয়া দপ্তর দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে।
রাজধানী প্যারিসে তাপমাত্রা ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। তীব্র গরম থেকে বাঁচতে গিয়ে গত এক সপ্তাহে ফ্রান্সে পানিতে ডুবে অন্তত চল্লিশ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশের প্রায় অর্ধেক অঞ্চল তথা ৫৪টি বিভাগে সর্বোচ্চ লাল সতর্কতা জারি করেছে ফ্রান্সের জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা ‘মেতেও ফ্রান্স’। প্যারিসের বাসিন্দারা এবং সেখানে ঘুরতে যাওয়া পর্যটকরা তীব্র গরম থেকে বাঁচতে ছায়াচ্ছন্ন স্থান এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত জাদুঘরগুলোতে ভিড় করছেন। প্যারিসের ল্যূভর জাদুঘর এবং আইফেল টাওয়ার নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। দিনের বেলা তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে থাকায় এবং রাতেও গরম না কমায় সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। মানুষ একটু স্বস্তির খোঁজে প্যারিসের ক্যানাল সেন্ট-মার্টিন সহ বিভিন্ন জলাশয়ে নেমে শরীর ঠান্ডা করার চেষ্টা করছেন।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর বোর্দোর ওষুধের দোকানগুলোর ডিজিটাল বোর্ডেও তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস প্রদর্শন করতে দেখা গেছে। তীব্র এই তাপদাহের প্রভাব পড়েছে যুক্তরাজ্যেও। প্রচণ্ড গরম থেকে বাঁচতে গত মঙ্গলবার বিপুল সংখ্যক বৃটিশ নাগরিক সমুদ্র সৈকত ও নদীর তীরে ভিড় জমান। লন্ডনের উন্মুক্ত সুইমিং পুলগুলোতেও মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী দিনগুলোতে বৃটেনজুড়ে এই তাপদাহ আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে। চিকিৎসা ও উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার এবং প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।