বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ০৯:৩৯ পূর্বাহ্ন

গাজায় ফের রক্তশ্রোত: একদিনেই ১১৯ ফিলিস্তিনি নিহত

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ৪ আগস্ট, ২০২৫

গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি বাহিনীর অব্যাহত বিমান ও স্থল অভিযানে একদিনেই প্রাণ হারিয়েছেন কমপক্ষে ১১৯ জন ফিলিস্তিনি। আহত হয়েছেন আরও ৮৬৬ জন। এর মধ্য দিয়ে গত বছরের ৭ অক্টোবর থেকে চলমান এই আগ্রাসনে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০ হাজার ৮৩৯ জনে, যা একবিংশ শতাব্দীর অন্যতম ভয়াবহ গণহত্যার রূপ নিচ্ছে।

রোববার (৩ আগস্ট) ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে তুর্কি সংবাদ সংস্থা আনাদোলু।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, “গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রে ১১৯টি মৃতদেহ এবং ৮৬৬ জন আহত ব্যক্তিকে আনা হয়েছে। এখনও বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে আছে—যাদের কাছে উদ্ধারকারীরা পৌঁছাতেও পারছেন না।”

বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, সম্প্রতি ত্রাণ সংগ্রহের সময় ইসরাইলি বাহিনীর আক্রমণে ৬৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৫১১ জনের বেশি আহত হয়েছেন। ৭ অক্টোবরের পর থেকে কেবল ত্রাণ নিতে গিয়ে মোট ১,৪৮৭ জন নিহত এবং ১০,৫৭৮ জন আহত হয়েছেন।

১৫ মাসেরও বেশি সময় ধরে চলমান সহিংসতা
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আকস্মিক হামলার পর ইসরাইল গাজার বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। ওই হামলায় ইসরাইলের দাবি অনুযায়ী, ১২০০ জন নিহত হন এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়।

এর পর থেকেই গাজায় নজিরবিহীন হামলা শুরু করে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF)। প্রায় ১৫ মাস ধরে চলমান এ অভিযানে একাধিকবার যুদ্ধবিরতি হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। সর্বশেষ জানুয়ারি মাসে স্বল্পস্থায়ী একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও, ১৮ মার্চ থেকে তা ভেঙে নতুন করে হামলা শুরু করে আইডিএফ। এরপর থেকে আরও ৯,৩৫০ জন নিহত এবং ৩৭,৫৪৭ জন আহত হন।

আন্তর্জাতিক আদালতের নজরে নেতানিয়াহু
গাজায় মানবাধিকার লঙ্ঘন ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ICC) গত নভেম্বরে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট এর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।

এছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকার করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইসরাইল এখন আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (ICJ) গণহত্যার অভিযোগেও অভিযুক্ত।

বিশ্ব সম্প্রদায়ের অবস্থান
যদিও যুদ্ধ বন্ধে বিভিন্ন সময় মধ্যস্থতা করেছে যুক্তরাষ্ট্র, মিশর, কাতার ও জাতিসংঘ, তবে এখনও একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কিংবা স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

বিশ্বব্যাপী শান্তিকামী জনগণ এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ, আহতদের চিকিৎসা, ত্রাণ প্রবেশের সুযোগ এবং যুদ্ধাপরাধের বিচার দাবি করা হচ্ছে।

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD