দ্বিগুণ মূল্যে গ্যাসের বিল পরিশোধ করেও চাপস্বল্পতায় উৎপাদনে ফিরতে পারছে না যমুনা সার কারখানা।
আড়াই বছর বন্ধ থাকার পর চলতি মাসে কারখানাটিতে গ্যাস সরবরাহ শুরু হলেও এক সপ্তাহের মধ্যেই চাপ কমে যায়।
উৎপাদনে ফেরার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন থাকলেও দেশের অন্যতম বৃহৎ এ সার কারখানা চালু করা যাচ্ছে না।
গ্যাসসংকটের কারণে ২০২৪ সালের ১৫ জানুয়ারি থেকে বন্ধ রয়েছে যমুনা সার কারখানা। দীর্ঘ আড়াই বছর পর চলতি মাসে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড কারখানাটিতে গ্যাস সরবরাহ শুরু করে। গ্যাস পেয়ে উৎপাদনে ফেরার প্রস্তুতি নেয় কারখানা কর্তৃপক্ষ। তবে সরবরাহ শুরুর কয়েক দিনের মধ্যেই গ্যাসের চাপ প্রয়োজনীয় মাত্রার নিচে নেমে যায়।
কারখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, নিয়মিত উৎপাদন চালাতে প্রতিদিন প্রায় ৪২ থেকে ৪৩ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফ) গ্যাস প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে যে চাপ পাওয়া যাচ্ছে, তাতে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না।
যমুনা সার কারখানার জিএম (অপারেশন) ফজলুল হক বলেন, ‘কারখানার নিয়মিত উৎপাদন ধরে রাখতে প্রতিদিন ৪২ থেকে ৪৩ এমএমসিএফ গ্যাস প্রয়োজন হয়। কিন্তু গ্যাসের চাপস্বল্পতার কারণে আমরা উৎপাদনে যেতে পারছি না। গ্যাসের চাপস্বল্পতার সমস্যা কেটে গেলে যেকোনো সময় উৎপাদনে যেতে পারব।’
কারখানা কর্তৃপক্ষের দাবি, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর উৎপাদন শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। যন্ত্রপাতি ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমও প্রস্তুত রয়েছে। এখন শুধু নির্ধারিত চাপ অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর যমুনা সার কারখানা উৎপাদনে ফিরলে দেশে ইউরিয়া সারের সরবরাহে কিছুটা স্বস্তি আসতে পারে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদন বাড়লে আমদানিনির্ভরতার চাপও কমার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু গ্যাস সরবরাহ থাকলেও প্রয়োজনীয় চাপ না থাকায় উৎপাদন অনিশ্চয়তায় পড়েছে।
এদিকে সরকার নির্ধারিত দামের তুলনায় বেশি মূল্যে গ্যাসের বিল পরিশোধ করেও প্রয়োজনীয় চাপ না পাওয়ায় কারখানা কর্তৃপক্ষের মধ্যে অসন্তুষ্টি দেখা দিয়েছে।
তাদের বক্তব্য, উৎপাদনের জন্য শুধু গ্যাসের সংযোগ থাকলেই হবে না; প্রয়োজনীয় চাপ ও ধারাবাহিক সরবরাহও নিশ্চিত করতে হবে। ফলে আড়াই বছর বন্ধ থাকার পর গ্যাস সরবরাহ শুরু হলেও উৎপাদনের চাকা ঘোরাতে পারছে না যমুনা সার কারখানা। কারখানাটি কবে নির্ধারিত চাপের গ্যাস পাবে এবং কবে পূর্ণমাত্রায় উৎপাদনে ফিরবে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে সংশ্লিষ্টরা।