রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:৪৯ পূর্বাহ্ন

ট্রেনে ঘরমুখো মানুষের ভিড়, টিকিট কেটে সিট না পাওয়ার অভিযোগ

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ঘরমুখো মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। মূলত সোমবার (১৬ মার্চ) শেষ কর্মদিবস হওয়ায় চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষ পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে গ্রামের বাড়িতে রওনা হয়েছেন। সে কারণে বিকেলের পর টার্মিনালে ঘরমুখো মানুষের ভিড় বেড়েছে।

ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে ট্রেনের আগাম টিকিট কেটে রাখা যাত্রীদের ঈদযাত্রা শুরু হয় গত শুক্রবার (১৩ মার্চ)। সে হিসেবে সোমবার ট্রেনের অগ্রিম টিকিটধারীরা চতুর্থ দিনের ঈদযাত্রায় গ্রামের বাড়িতে ছুটছেন। তবে গত তিনদিন ঘরমুখো মানুষের ট্রেনযাত্রায় তেমন ভিড় দেখা যায়নি। বাড়তি ভিড় না থাকায় অনেকটা স্বস্তি ও আনন্দদায়ক পরিবেশে বাড়ি ফিরেছেন তারা। তবে আজ সেই চিত্র কিছুটা বদলাতে শুরু করেছে। গন্তব্যে ছেড়ে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা ট্রেনগুলোর পাশাপাশি সবগুলো প্লাটফর্মে যাত্রীদের ভিড় দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে রাত ৮টায় লালমনি, রংপুর, কুড়িগ্রাম, বুড়িমারীর উদ্দেশে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ছেড়ে গেছে। উত্তরাঞ্চলের উদ্দেশে যাত্রা করা এই ট্রেনে ঠেসে ঠেসে চড়ে গন্তব্যে ছুটছেন ঘরমুখো মানুষ। যাত্রীদের চাপে অতিরিক্ত বগি দেওয়া সত্ত্বেও অনেকে টিকিট নিয়ে নিজ বগিতে চড়তে পারেননি। গেটে ঝুলে ঝুলে যেতে দেখা গেছে অনেককে। তবে ট্রেনের ছাদে চড়ে কাউকে যেতে দেয়নি স্টেশন কর্তৃপক্ষ।

বাবা-মা ও দুই বোনের সঙ্গে রংপুরে দাদার বাড়িতে যাচ্ছেন মুন্নি। এই প্রতিবেদককে মুন্নি জানান, বাবার অফিস শেষ করে বাসায় আসতে দেরি হওয়ায় স্টেশনে পৌঁছাতে আমাদের একটু দেরি হয়েছে। আমাদের অগ্রিম টিকিট কাটা আছে। তবে এখনো বগি খুঁজে পাইনি। বাবা-মা আমাদের রেখে বগি খুঁজতে গেছেন। মুন্নির সঙ্গে কথা বলার অল্প কিছু সময়ের মধ্যে ট্রেন ছেড়ে দেওয়ায় তাড়াহুড়ো করে সে ও তার পরিবার একটি বগিতে চড়েছেন।

মুন্নির পরিবার নির্দিষ্ট আসন খুঁজে না পেলেও নির্ধারিত ট্রেনে চড়তে পেরেছেন। তবে নির্ধারিত সময়ে ট্রেন ছেড়ে দেওয়ায় অনেকে টিকিট কেটেও ট্রেনে চড়তে পারেননি। জসিম, ছাইদুল ও রোকন তিন বন্ধু এই ট্রেনে অগ্রিম টিকিট কেটেছিলেন। তারা তিনজনই রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন। অফিসের কাজ শেষ করে বের হতে দেরি হওয়ায় তারা ৮টা ১০ মিনিটে স্টেশনে এসে পৌঁছান।

ট্রেন মিস করায় অভিযোগ করে তারা বলেন, সবসময় দেখেছি নির্ধারিত সময়ের ১০-১৫ মিনিট পরে ট্রেন ছেড়ে যায়। আজ একটুও দেরি করলো না। আমরা ৩ জনই অগ্রিম টিকিট কেটেছিলাম, অল্প সময়ের জন্য ট্রেন মিস করলাম। এখন বাসে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই। খরচও দ্বিগুণ হবে, আর কষ্টও বেশি।

শুধু কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস নয়, প্রতিটি ট্রেনই নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে যাচ্ছে। এতে নির্ধারিত সময়ে স্টেশনে পৌঁছানো যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ও সন্তুষ্টি লক্ষ্য করা গেছে। তবে যাত্রীদের অনেকেই টিকিট কেটেও নিজের আসনে পৌঁছাতে পারেননি। কিংবা নির্ধারিত বগি খুঁজে পাননি।

ট্রেনের টিটিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত তিনদিনের তুলনায় আজ সন্ধ্যা থেকে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়ছে। আগামী দিনগুলোতে চাপ আরো বাড়বে। বেসরকারি অনেক চাকরিজীবীদের আগামী বুধবারও অফিস করতে হবে। ওইদিন সবচেয়ে বেশি ভিড় হতে পারে।

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD