বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অগ্রিম অভিনন্দন জানিয়েছেন।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ভেরিফায়েড ফেসবুকে তিনি জানান, তারেক রহমান আজ তার আবাসিক কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন, যা জাতীয় রাজনীতির জন্য একটি ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ বলে উল্লেখ করেন জামায়াত আমির।
ফেসবুক স্টাটাসে ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, এই সাক্ষাৎ দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সংলাপ ও দায়িত্বশীলতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে এ ধরনের ইতিবাচক যোগাযোগ রাজনৈতিক পরিপক্বতা বৃদ্ধি করবে এবং গণতান্ত্রিক ধারাকে আরও সুদৃঢ় করবে।
তিনি আরও বলেন, তিনি এমন এক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেন, যা হবে ফ্যাসিবাদমুক্ত, সার্বভৌম এবং ইনসাফ ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত। তিনি উল্লেখ করেন, জামায়াতে ইসলামী ১১ দলীয় জোটের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি সমৃদ্ধ, স্থিতিশীল ও আধুনিক রাষ্ট্র গঠনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তার মতে, ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনা হবে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সাংবিধানিক শাসনের ভিত্তিতে।
আলোচনায় নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা ও বিরোধী দলের কর্মী এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা প্রসঙ্গও উঠে আসে।
ডা. শফিকুর রহমান জানান, তারেক রহমান এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি এই আশ্বাসকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, কোনো নাগরিক যেন ভয়ভীতি বা নিরাপত্তাহীনতার শিকার না হন, সেটিই সবার প্রত্যাশা।
জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে জামায়াতে ইসলামী নির্বাচিত সরকারকে পূর্ণ সহযোগিতা দেবে বলেও জানান তিনি। তবে একটি আদর্শিক বিরোধী দল হিসেবে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে তারা আপসহীন থাকবেন বলে স্পষ্ট করেন। জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সমর্থন থাকলেও জবাবদিহির প্রশ্নে দলটি সোচ্চার থাকবে বলে উল্লেখ করেন জামায়াত আমির।
তিনি বলেন, তাদের রাজনীতির লক্ষ্য সংঘাত সৃষ্টি নয়, বরং সংশোধন ও গঠনমূলক পর্যবেক্ষণ। দেশের মানুষ এমন একটি সংসদ প্রত্যাশা করে, যা ন্যায়বিচার ও নাগরিক অধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করে স্থিতিশীলতার সঙ্গে রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।