শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন

দেশে শক্তিশালী ‘ভূমিকম্প’ আঘাত হানার আশঙ্কা!

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬

ভূতাত্ত্বিকদের মতে, ৩০০ থেকে ৫০০ বছরের ভূমিকম্পের ‘রিটার্ন পিরিয়ড’ বা পুনরাবৃত্তির চক্র প্রায় পূর্ণ হওয়ায় ঢাকায় যেকোনো সময় ৭ থেকে ৭.৫ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার আশঙ্কা রয়েছে।

বিভিন্ন গবেষণা ও জরিপে উঠে এসেছে, এমন দুর্যোগ ঘটলে রাজধানী ভয়াবহ প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের মুখে পড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, দুর্বল অবকাঠামো এবং পর্যাপ্ত দুর্যোগ প্রস্তুতির অভাব এ ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। সম্প্রতি ভেনিজুয়েলায় ৭.২ মাত্রার ভূমিকম্পের পর বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের মতো ঢাকাতেও সম্ভাব্য ভূমিকম্প নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

গত ২১ নভেম্বর নরসিংদীর মাধবদীতে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। এতে ঢাকাসহ আশপাশের এলাকায় বড় কম্পন অনুভূত হয়। হেলে পড়ে অনেক ভবন। ওই ভূমিকম্পে সারা দেশে ১০ জনের প্রাণহানি ঘটে। সেসময় মৃত্যুর পাশাপাশি শত শত মানুষ আহত হন। এরপর নরসিংদীর চেয়ে কম মাত্রার একাধিক ভূমিকম্প হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ ও ভূতাত্ত্বিকদের মতে, ছোট ছোট এ কম্পন আসলে মাটির নিচে জমে থাকা বিশাল শক্তির বহিঃপ্রকাশ। যেকোনো মুহূর্তে একটি বড় ধরনের ভূমিকম্প ঢাকায় আঘাত হানতে পারে, ছোট কম্পনগুলো তারই আগাম বার্তা দিচ্ছে।

ভূতাত্ত্বিকরা বলছেন, বাংলাদেশ মূলত তিনটি সক্রিয় টেকটোনিক প্লেটের (ইন্ডিয়ান, ইউরেশিয়ান ও বার্মা প্লেট) সংযোগস্থলে অবস্থিত। ঢাকার অদূরেই রয়েছে মধুপুর ফল্ট এবং উত্তর-পূর্বে রয়েছে ডাউকি ফল্ট সিস্টেম (সিলেট সংলগ্ন)। শত বছরেরও বেশি সময় এ ফল্ট লাইনগুলোয় বড় কোনো শক্তি নির্গত হয়নি, যার অর্থ-সেখানে তীব্র চাপের সৃষ্টি করেছে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. মেহেদী আহমেদ আনসারী বলেন, ঢাকার বিস্তীর্ণ এলাকা জলাশয় ভরাট করে গড়ে উঠেছে। বালু ও নরম পলিমাটি দিয়ে ভরাট করা এ অঞ্চলগুলো ভূমিকম্পের তীব্র ঝাঁকুনিতে নিজের শক্তি হারিয়ে তরল পদার্থের মতো আচরণ করবে। ফলে বহুতল ভবনগুলো মাটির নিচে দেবে যেতে পারে বা হেলে পড়তে পারে।

তিনি জানান, ভূমিকম্প কখন হবে, এটা বলা যায় না। এজন্য ভূমিকম্প আঘাত হানলে যাতে ক্ষয়ক্ষতি কম হয়, সে বিষয়ে প্রস্তুতি নিতে হবে। এতদিন এটার তেমন কোনো কার্যক্রম দেখা যায়নি। কেননা, এটার জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা দরকার হয়। যেটা আগের সরকারের মাঝে তেমনটা ছিল না। এ সরকারের কাছে প্রত্যাশা, তারা যাতে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়। কেননা ভূমির ৯০ শতাংশ ক্ষতি হয় ভবন ভেঙে, চাপে পড়ে। এজন্য ভবনগুলো ঠিক করতে হবে। ঢাকাসহ সারা দেশে ৪ থেকে ১০ তলা ভবন রয়েছে প্রায় ২০ লাখ। এ বিষয়টিকে উপেক্ষা করে চলা কোনোভাবেই উচিত হচ্ছে না।

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মাস্টারপ্ল্যান ডিটেইল এরিয়া প্ল্যানের তথ্যমতে, ঢাকা মহানগরীতে প্রায় ২১ লাখ স্থাপনা রয়েছে। ৭ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানলে দুর্বল কাঠামোর প্রায় ৭২ হাজার ভবন সম্পূর্ণ ধসে পড়বে, স্বল্প সময়ে ৩ থেকে ৪ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটবে এবং পর্যায়ক্রমে তা বাড়বে।

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD