নেপাল-চীন সীমান্তে গত সপ্তাহের আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। নেপাল ও চীনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৯৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে দুই দেশের প্রায় ৪ হাজার ৪৭১ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। নেপালে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি—এমন শত শত মরদেহ গণকবরে দাফন করা হচ্ছে বলে ঘটনাস্থল থেকে মার্কিন সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এদিকে ভয়াবহ বন্যায় নেপালের বিভিন্ন পানি বিদ্যুৎ প্রকল্পও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘন কাদা ও ধ্বংসাবশেষে কয়েকটি পানিবিদ্যুৎ টানেল ও স্থাপনা চাপা পড়ে গেছে। এসব টানেলের ভেতরে শ্রমিকরা আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিভিন্ন প্রকল্পে কর্মরত ৯০০-এর বেশি শ্রমিকের এখনও কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাদের উদ্ধারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
উদ্ধার অভিযানে হেলিকপ্টার ব্যবহারের মাধ্যমে দুর্গম ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
চীনের গিয়েরং বন্দর এলাকাতেও বন্যার ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে। চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বিধ্বস্ত এলাকায় এখন মাত্র একটি পানির টাওয়ার অক্ষত অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে।
তবে পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। চীনের আবহাওয়া পূর্বাভাসদাতারা গিয়েরং এলাকায় বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার সতর্কতা দিয়েছেন। এতে কাছাকাছি একটি প্রাকৃতিক প্রতিরোধী হ্রদের পানির স্তর আরও বেড়ে যেতে পারে, ফলে নতুন করে বন্যা বা ভূমিধসের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
উদ্ধারকারী দলগুলো নিখোঁজদের সন্ধান, আটকে পড়াদের উদ্ধার এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে জরুরি সহায়তা পৌঁছে দিতে কাজ করছে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়া ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের কারণে উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়েছে।
সূত্র: সিএনএন