মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির কড়া সমালোচনা করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, ইরানের অবিচ্ছেদ্য পারমাণবিক অধিকার খর্ব করার মতো অবস্থানে ট্রাম্প নেই। শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি চালানোর অধিকার থেকে কোনো জাতিকে বঞ্চিত করার এখতিয়ারও তার নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। খবর প্রেস টিভির।
রোববার (১৯ এপ্রিল) দেওয়া এক বক্তব্যে পেজেশকিয়ান বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলছেন, ইরান তার পারমাণবিক অধিকার ব্যবহার করতে পারবে না। কিন্তু কেন? তা তিনি বলেন না। আসলে কোনো অবস্থান থেকে কি তিনি একটি জাতির বৈধ অধিকার কেড়ে নিতে পারেন?
এর আগে, কোনো চুক্তি না হলে যুক্তরাষ্ট্র আরও কঠোর উপায়ে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ন্ত্রণে নেবে বলে হুঁশিয়ারি দেন ট্রাম্প।
পেজেশকিয়ান বলেন, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে ধর্ম, বর্ণ বা জাতিগত পরিচয় নির্বিশেষে প্রতিটি স্বাধীন মানুষেরই তার মৌলিক অধিকার ভোগের সুযোগ থাকা উচিত।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানি বিজ্ঞানী হত্যাসহ বেসামরিক এলাকা লক্ষ্যবস্তু হওয়ার পরও আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো নীরব রয়েছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট এসব হামলাকে যুদ্ধাপরাধ আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি প্রতিপক্ষের ব্যর্থতা ও হতাশার প্রতিফলন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরান কখনোই যুদ্ধ শুরু করতে চায় না এবং তাদের পদক্ষেপগুলো নিতান্তই বৈধ আত্মরক্ষা।
এ সময় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রশংসা করে পেজেশকিয়ান বলেন, চাপ ও হুমকির মুখেও তারা দৃঢ়ভাবে অবস্থান নিয়েছে এবং কার্যকর জবাব দিয়েছে। তার মতে, এ প্রতিরোধ অনেক বিশ্লেষককেই বিস্মিত করেছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হয়। জবাবে ইরান ওই অঞ্চলের মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরায়েলে শতাধিক পাল্টা হামলা চালায়। এরপর গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে এখন পর্যন্ত কোনো সমঝোতা হয়নি।