ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষযে প্রকাশ্যে হস্তক্ষেপ এবং অনুপ্রবেশের চেষ্টার অভিযোগে ফ্রান্সকে কঠোর হুঁশিয়ারি বার্তা দিয়েছে ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়। দেশের সার্বিক স্বাধীনতায় আঘাত হানে—এমন যেকোনো কর্মকাণ্ড পুনরাবৃত্তি হলে প্যারিসের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে তেহরান।
শনিবার (১৫ আগস্ট, ২০২৬) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয় জানায়, একটি বড় ধরনের বিদেশি অনুপ্রবেশের ঘটনা তদন্ত ও দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তারের অভিযানে গিয়ে একটি গোপন বৈঠকে ফরাসি দুই কূটনীতিবিদকে হাতেনাতে আটক করা হয়। উক্ত দুই ফরাসি কূটনৈতিক দীর্ঘদিন ধরে কূটনৈতিক নিয়ম-নীতি বহির্ভূত কর্মকাণ্ড এবং ইরানের স্থানীয় আইন লঙ্ঘনে জড়িত ছিলেন বলে জানিয়েছে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা।
গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক সনাক্তকরণের পর কূটনৈতিক প্রোটোকল মেনে তাদের ইরানস্থ ফরাসি রাষ্ট্রদূতের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
অভিযানে গোপন নথি উদ্ধার
তদন্তকারী দল ঘটনাস্থল থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু নথি উদ্ধার করেছে, যেখানে ফ্রান্সে ইরানের বিরুদ্ধে এক ‘কুচক্রী অনুপ্রবেশ পরিকল্পনা’র অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। প্রাথমিক নথিপত্র অনুসারে, ইরানে গোপন নেটওয়ার্ক তৈরি, ব্যক্তিবর্গ চিহ্নিতকরণ এবং যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে দেশের ভেতরে বড় ধরনের অচলাবস্থা তৈরির উদ্দেশ্যে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছিল। উদ্ধার হওয়া কিছু চুক্তিতে ইরানের সাবেক ফরাসি রাষ্ট্রদূতের স্বাক্ষরও রয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান।
প্যারিসের সংবাদ মাধ্যমের অপপ্রচারের সমালোচনা
ইরান জানায়, প্রাথমিক তদন্ত চলাকালীন ঘটনাটি প্রকাশ্যে আনা হয়নি। তবে ফ্রান্স নিজেদের অপরাধ ঢাকতে সংবাদ মাধ্যমে পাল্টা অপপ্রচার শুরু করার পরই এই আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করে ইরান। বিবৃতিতে বলা হয়, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে একটি সার্বভৌম দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কূটনীতিবিদদের সরাসরি হস্তক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন।
ইরান ফ্রান্সকে পরামর্শ দিয়ে বলেছে, অন্য স্বাধীন দেশের রাজনীতিতে নাক না গলিয়ে এবং অনর্থক অর্থ অপচয় না করে নিজেদের দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা ও ফরাসি জনগণের সামাজিক চাহিদার প্রতি মনোযোগ দেওয়া উচিত। একই সাথে ফ্রান্সের এই অবৈধ হস্তক্ষেপের ব্যাখ্যা দাবি করেছে ইরান।