শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
৭ দশক পর আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের নেতৃত্বে পাকিস্তান মানবতার কল্যাণ সব ধর্মেরই অন্যতম মূল শিক্ষা: প্রধানমন্ত্রী দেশের ৩ বিভাগে বজ্রসহ বৃষ্টির আভাস নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর সাজেকে ফিরছেন পর্যটকেরা, স্বাভাবিক যান চলাচল উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা হবে, গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান পার্বত্যমন্ত্রীর দুর্নীতি প্রতিরোধে তরুণদের সোচ্চার হওয়ার আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের জাতীয় প্রতিযোগিতার সেরা তরুণদের জাতিসংঘে পাঠাতে সহযোগিতা করবে সরকার: মাহ্‌দী আমিন চলতি বছর বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ: অর্থমন্ত্রী লিবিয়ার জিম্মিদশায় ১১৯ মাফিয়ার মানব পাচার নেটওয়ার্ক মোটরসাইকেলের সামনে নম্বরপ্লেট লাগানো নিয়ে সময়সীমা বেঁধে দিল বিআরটিএ

বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলো কথা শোনে না

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২০

বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, অবসরে গেলে মানুষের স্মৃতিশক্তি লোপ পায়; কিন্তু এখানে (বাপেক্স) দেখছি বেড়ে যায়।

শনিবার এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার আয়োজিত ভার্চুয়াল সেমিনারে বাপেক্সের সাবেক কর্মকর্তাদের হতাশাজনক বক্তব্যের জবাবে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০১৫ সালে বাপেক্সের মিটিংয়ে বলেছিলাম, অর্গানোগ্রাম রিভিউ করেন। প্রয়োজনে কনসালট্যান্ট নিয়োগ দেন। ৫ বছর শেষ। এখন এমডি বলছেন, ছয় মাস সময় দেন। সাবেক এমডিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের সময়ও কিছু করেননি। আপনারা যাদের রেখে গেছেন তারাই এখন রয়েছে। তারা যদি সফল না হয়ে থাকেন- তাহলে দায় আপনারও। এই মন্ত্রণালয়ে আসার পর একমাত্র সংস্থা দেখলাম, নিজেদের লোকদের নিজেরা দোষারোপ করেন। যারা আছেন তারাও দোষারোপ করছেন। যারা চলে গেছেন তারাও একই কাজ করছেন।

বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে জ্বালানি বিভাগ তাল মেলাতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগের কোম্পানিগুলো কথা শোনে না। তারা নিজেদের মতো কাজ করে বোর্ডে সিদ্ধান্ত নেয়। তাদের বেতন কাঠামো নিজেরা ঠিক করেছে। আমি উপদেষ্টা হিসেবে পরামর্শ প্রদান করি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাপেক্স এতদিনেও আন্তর্জাতিক মানের হল না। এখন আর ওই চিন্তা করে লাভ নেই। ১০৮টি ড্রিলিং করার প্রস্তাব করেছে। এটি ঠিক করেছে বাপেক্স। কূপের লোকেশন ঠিক করতে পারে না। পরে বলেছে সিসমিক সার্ভে ঠিক করা হয়নি। সরকার চায় গ্যাসক্ষেত্রের কাজ করুক বাপেক্স, যদি না পারে তাহলে বিকল্প কী। যারা বিদেশে চলে গেছেন, তারা কি ফিরে আসতে চাইবেন- মনে হয় না। আমরা বছরে তিন-চার হাজার লোককে ইন্টার্ন করাচ্ছি। উদ্দেশ্য- তারা দেখুক, এখানে কত বড় ক্ষেত্র। তারপরও বেশিরভাগ প্রকৌশলী বিদেশ চলে যাচ্ছেন।

বাপেক্সকে অনুদান দেয়ার প্রস্তাবের বিরোধিতা করে বলেন, যাকে ঋণ দেবেন সেই কোম্পানি কোনোদিন মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না। সরকার ধীরে ধীরে ভর্তুকি থেকে বের হয়ে আসতে চায়। এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, গ্যাজপ্রমকে কেন কাজ দেয়া হচ্ছে- তারা বিশ্বের নামকরা কোম্পানি। রাশিয়ানরা সরাসরি ডিল করতে পারে না। তাই তারা অন্য কোম্পানির মাধ্যমে কাজ করে। বাপেক্সকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিতে হলে লোকের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে।

মন্ত্রণালয় থেকে কোনো সিদ্ধান্ত দেয়া হয় না। যদি প্রকল্পে রাষ্ট্র টাকা দেয়, তাহলে মন্ত্রণালয় দেখে। না হলে বোর্ড সিদ্ধান্ত নেয়। পিপিআর মেনে বাপেক্সের কাজ করা সম্ভব না-এমন আলোচনার জবাবে তিনি বলেন, না মানলেও চলে, নিজস্ব কোম্পানি, তারা সেভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। চাইলে বিশেষ ক্ষমতা আইনের সুযোগ নিতে পারে।

বেসরকারি কোম্পানিকে কাজ দেয়ার সমালোচনার জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) একার পক্ষে এত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা কি সম্ভব ছিল। প্রধানমন্ত্রী যখন বেসরকারি খাতকে আমন্ত্রণ করলেন, তখন ভেতরে-বাইরে থেকে সমালোচনা হল। হাইপ্রেসার জোনে কাজ করতে যাচ্ছি, কারও কি এই অভিজ্ঞতা রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের বিশেষজ্ঞদের ওপর আমিও হতাশ। একেকজন একেক কথা বলেন। আপনাদের নিজেদের ঐকমত্য হতে হবে।

বিদায়ী এমডিদের উদ্দেশে বলেন, বাপেক্সে থাকার সময় এমডিরা কথা বলেন না; কিন্তু বাপেক্স ছাড়লেই তারা বাঘের বাচ্চা হয়ে যান। বাপেক্সে থেকে যারা কথা বলেননি, এখন তাদের কথা বলার দরকার নেই। আমি আশাবাদী বাপেক্সের বিষয়ে। ভুল অনেক ধরা যায়; কিন্তু আপনারা সত্যিকারের পরামর্শক হিসেবে কাজ করতে পারেন।

এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার-এর এডিটর মোল্লাহ আমজাদ হোসেনের সঞ্চালনায় সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাপেক্সের সাবেক এমডি মর্তুজা আহমেদ ফারুক। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সাবেক এমডি মোক্তাদির আলী, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ম. তামিম, বদরুল ইমাম, সালেক সুফী প্রমুখ।

লাইটনিউজ/এসআই

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD