ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বিএনপির কার্যালয় পুড়ে গেছে। এ সময় আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরও ৪টি দোকান।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ১টার দিকে নবীনগরে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় প্রায় ৩৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গভীর রাতে হঠাৎ করেই আগুনের লেলিহান শিখা দেখা যায়। দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়লে আশপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মসজিদের মাইকে আগুনের ঘোষণা শুনে গ্রামবাসী ঘটনাস্থলে পৌঁছে। প্রায় ২ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করতে পারেনি।
ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু হানিফ বলেন, ‘নাটঘর ১ নম্বর ওয়ার্ডে ধানের শীষের পথসভা করে এসেছি। পথসভা শেষে ফুটবল মার্কার সমর্থক হজরত আলী ফোনে হুমকি দিয়েছে। রাত ১১টায় বাড়িতে ফিরি। ফেরার পর নাটঘর ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে আগুন লাগানো হয়। আগুন লাগানোর পর অফিসের আশপাশের দোকানগুলো পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ‘রাত ১টার দিকে বাজারে দুর্ঘটনা ঘটে। সেই সময় কেউ আগুন দেখতে পায়নি। ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু হানিফ প্রথমে আগুন দেখেছেন। পরে মাইকে আগুনের বিষয় জানতে পেরে আমরা বাজারে আসি। বিদ্যুতের লাইন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে শুনেছি।’
এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া (৫) নবীনগর সংসদীয় আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট এম এ মান্নান।
এসময় তিনি বলেন, আমি কিছুদিন ধরে লক্ষ্য করছি, আমাদের প্রতিপক্ষ একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী ফুটবল মার্কার কিছু সন্ত্রাসী বিভিন্ন স্থানে ধানের শীষের ব্যানার পুড়িয়ে দিচ্ছে এবং আমাদের ব্যানার নামিয়ে ফেলছে। এ বিষয়ে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাই।
জেলা বিএনপির সদস্য হযরত আলী বলেন, আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতি করি না। আমি কাউকে হুমকি দিইনি। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে। কিছুদিন আগেও কোনাউর গ্রামে তারা নিজেরাই ধানের শীষের অফিসে আগুন লাগিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছিল। পরে প্রশাসন তদন্ত করে দেখে যে তারা নিজেরাই আগুন দিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে।
নবীনগর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, একুইছড়া গ্রামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রাত প্রায় ১টার দিকে বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে।