মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ আদালত থেকে বেরিয়ে তিশা বললেন, ‘দরকার হলে আরও পাঁচবার আসব’ জমির ভাগ পেতে হামলার দায়িত্ব নেন শাহরিয়া জ্বালানির দাম বাড়িয়ে কীভাবে সংকটের অবসান হলো, বিপিসির কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে কমিটি একযোগে ৬৮ এসিল্যান্ডকে প্রত্যাহার লিভার প্রতিস্থাপনে বাংলাদেশি চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণের প্রস্তাব পাকিস্তানের একনেকে ১৫ হাজার ৮২৩ কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন বাংলাদেশের ওষুধে ১০০ শতাংশ শুল্ক ছাড়ের ঘোষণা ট্রাম্পের দুদকের বিরুদ্ধে আসিফ মাহমুদের রিট হাইকোর্টের কার্যতালিকা থেকে বাদ দেশে এখন নৈরাজ্য নেই, অন্তর্বর্তী সময়ের চেয়ে অবস্থা ভালো: তথ্য উপদেষ্টা

মার্চে ভয়াবহ রূপ নিতে পারে কিউলেক্স, এখনই প্রস্তুতির তাগিদ

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ৪ জানুয়ারী, ২০২৬

ঢাকার মশা সমস্যা আর কেবল মৌসুমি ভোগান্তি নয়, এটি এখন জনস্বাস্থ্য, নগর ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক সক্ষমতার বড় পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ডেঙ্গুবাহী এডিস মশার উপস্থিতি আপাতত কিছুটা কমলেও কিউলেক্স মশার সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে এবং আগামী মার্চ মাসে তা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। এখনই কার্যকর প্রস্তুতি না নিলে নতুন বছরে রাজধানীবাসীর ভোগান্তি আরো তীব্র হতে পারে।

এমন আশঙ্কার কথা উঠে এসেছে ঢাকা ইউটিলিটি রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডুরা) আয়োজিত ‘মশার উপদ্রব ও নাগরিক ভোগান্তি’ শীর্ষক এক আলোচনাসভায়।

গতকাল শনিবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই সভায় রাজধানীতে মশা নিয়ন্ত্রণের বর্তমান বাস্তবতা, সংশ্লিষ্ট সংস্থার দায়বদ্ধতা ও করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নিশাত পারভীন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সভাপতি পরিকল্পনাবিদ ড. মো. আরিফুল ইসলাম, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. সাদমান সাকিব। সভায় সভাপতিত্ব করেন ডুরার সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান মোল্লা। সঞ্চালনা করেন ডুরার সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম।

আলোচনায় ড. কবিরুল বাশার বলেন, কিউলেক্স মশার বর্তমান উত্থান এবং ভবিষ্যতে এডিসের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন—এই দুই বাস্তবতা প্রমাণ করে, ঢাকার মশা সমস্যা আর মৌসুমি নয়, এটি একটি কাঠামোগত ও বৈজ্ঞানিক সংকটে রূপ নিয়েছে। তিনি জানান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মশা সার্ভেইল্যান্স তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে ঢাকায় সংগৃহীত প্রাপ্তবয়স্ক মশার প্রায় ৮৫ শতাংশই ছিল কিউলেক্স প্রজাতির। এটি কোনো পরিসংখ্যানগত কাকতাল নয়, বরং দীর্ঘদিনের অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও অব্যবস্থাপনার ফল।

ড. কবিরুল বাশার আরো বলেন, কিউলেক্স মশাকে দীর্ঘদিন ‘রোগ ছড়ায় না’ ভেবে অবহেলা করা হয়েছে।

অথচ এই মশাই ফাইলেরিয়ার মতো রোগের বাহক এবং নগরজীবনকে কার্যত অসহনীয় করে তোলে। অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বছরের পর বছর পরিষ্কার না হওয়া নালা-নর্দমা, জলাবদ্ধ বেসমেন্ট ও পার্কিং এলাকা ঢাকাকে কিউলেক্সের আদর্শ প্রজননক্ষেত্রে পরিণত করেছে। বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে মার্চ মাসে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হতে পারে।
করণীয় সম্পর্কে তিনি বলেন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার কাঠামোগত সংস্কার, বেসমেন্ট ও পার্কিং এলাকায় পানি জমতে না দেওয়ার বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা, জলাশয় ও খাল নিয়মিত পরিষ্কার এবং পরিবেশবান্ধব লার্ভা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জরুরি। পাশাপাশি এডিস নিয়ন্ত্রণেও সারা বছর নজরদারি চালু রাখতে হবে, শুধু ডেঙ্গু মৌসুমে নয়।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নিশাত পারভীন বলেন, মশা নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশনের একক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। নাগরিকদের নিজ নিজ বাসস্থান ও আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং সচেতন ভূমিকা রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। নাগরিক অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো উদ্যোগই টেকসই হবে না। পরিকল্পনাবিদ ড. মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, মশার সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে হলে সাময়িক নয়, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, ড্রেনেজ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাই এই সংকটকে আরো তীব্র করে তুলছে। জনসচেতনতা ছাড়া কোনো পরিকল্পনাই কার্যকর হবে না।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. সাদমান সাকিব বলেন, সম্ভাব্য কিউলেক্স বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ওয়ার্ডভিত্তিক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD