চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনকে ‘মেয়াদোত্তীর্ণ মেয়র’ বলে মন্তব্যের জবাব দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। শাহাদাত হোসেন বলেছেন, আদালতের রায় অনুযায়ী ২০২৯ সাল পর্যন্ত তার মেয়াদ রয়েছে। তবে স্থানীয় সরকার বিভাগ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করলে তিনি মেয়রের পদ থেকে সরে দাঁড়াতে প্রস্তুত।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা এক ভিডিও বার্তায় এসব কথা বলেন চসিক মেয়র।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘জামায়াতের সম্মানিত আমির শফিকুর রহমান সাহেব লালদিঘীতে আমাকে মেয়াদোত্তীর্ণ মেয়র বলেছেন। আমি এটা বলতে চাই, আমার এ রায়টি ফ্যাসিবাদী রাজত্ব যারা ১৬ বছর কায়েম করেছে, সেই হাসিনা সরকারের সময় জোর করে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল।’
তিনি বলেন, ২০২১ সালের চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফলাফলের বিরুদ্ধে তিনি নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছিলেন। আদালতের রায়ের ভিত্তিতেই তাকে মেয়র হিসেবে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। পরে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন ও গেজেট প্রকাশের পর তিনি শপথ নেন।
মেয়র বলেন, ‘রায়টি হয়েছে ৫ আগস্টের পরে, আপনারা দেখেছেন যখন অন্তর্বর্তী সরকারের ইউনূস সরকারের সময়। কাজেই যে রায় আমি পেয়েছি, জনগণের যে প্রত্যাশিত রায়, সেই রায়ের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদী শাসনকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।’
আওয়ামী লীগের আমলে চসিক মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করা রেজাউল করিম চৌধুরীর মেয়াদকেও আদালতের রায়ে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে বলে দাবি করেন শাহাদাত হোসেন। নিজের মেয়াদের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের নভেম্বরের ৩ তারিখ আমি শপথ নিয়েছি। সেখান থেকে স্বাভাবিকভাবে ২০২৯ সাল পর্যন্ত আমার মেয়াদ থাকবে।’
তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলে মেয়রের পদ ছেড়ে দেওয়ার কথা জানিয়ে শাহাদাত বলেন, ‘জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে এবং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য আমি বারবার বলে এসেছি, যখনই একটি নির্বাচন চট্টগ্রামসহ সারা বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে, সেই নির্বাচন করার জন্য আমি প্রস্তুত।’
জামায়াত আমিরের মন্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করে শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘উনার এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে উনি আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী সময়ে যে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিল, সেই রেজাউল করিমকে বৈধ মেয়র হিসেবে সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন।’
এর আগে চট্টগ্রামের লালদিঘী ময়দানে ১১ দলীয় জোটের লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চসিক মেয়রের মেয়াদ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘এখানে একজন মেয়র আছেন। ওনার মেয়াদ কি এখনো আছে? ওনাকে কি আমরা মেয়াদোত্তীর্ণ বলব না? এখন শুনে যাবেন, উনি যতদিন ইচ্ছা ততদিন থাকবেন। এর নাম সুশাসন না, এর নাম ফ্যাসিবাদ?’
জামায়াত আমির আরও বলেন, ‘আপনি আসেন, আবার নির্বাচিত হয়ে আসেন। জনগণের ভোটে এসে সম্মানের সঙ্গে নেতৃত্ব দেন, আমাদের কোনো আপত্তি নাই। কিন্তু ভোটে যদি জনগণ অন্য কাউকে নির্বাচিত করে, তাও আপনাকে মেনে নিতে হবে।’
নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে দেশ পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর বিভিন্ন জায়গায় প্রশাসক বসানোর বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন শফিকুর রহমান। এসব প্রশাসক নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি কি না, সে প্রশ্নও তিনি তোলেন।
অন্যদিকে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে শাহাদাত হোসেন বলেন, ছাত্রজীবন থেকেই তিনি ‘গণতান্ত্রিক রাজনীতি’র চর্চা করে আসছেন। গত ১৭ বছর ধরে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য সংগ্রাম করেছেন এবং ভবিষ্যতেও যে কোনো গণতান্ত্রিক ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনকে স্বাগত জানাবেন।