লিওনেল মেসির ভক্তদের বয়সের সীমা নেই—এই কথাটির সবচেয়ে বড় উদাহরণ হয়ে উঠেছেন ১০০ বছর বয়সী পউলিনে কানা। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ম্যাচ দেখতে তিনি উপস্থিত ছিলেন ডালাস স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে, যেখানে তার উপস্থিতি মুহূর্তেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে।
সাদা চুল, আর্জেন্টিনার জার্সি এবং হাতে ‘১০০ বছর বয়সী মেসি ভক্ত’ লেখা প্ল্যাকার্ড—এই দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই বিশ্বজুড়ে ভক্তদের নজর কাড়ে তিনি।
পউলিনে কানা শুধু ফুটবল ভক্তই নন, অনলাইনে তিনি পরিচিত ‘গ্যাংস্টার গ্র্যানি’ নামে। নাতি রস স্মিথের সঙ্গে তৈরি মজার ভিডিওগুলোর কারণে তিনি ইতোমধ্যেই বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়। তার টিকটক অনুসারীর সংখ্যা প্রায় আড়াই কোটি, পাশাপাশি ইউটিউব ও ইনস্টাগ্রামেও রয়েছে বিশাল ভক্তগোষ্ঠী।
মেসির প্রতি তার ভালোবাসা অবশ্য নতুন নয়। এর আগে ইন্টার মায়ামির একটি ম্যাচেও তাকে দেখা গিয়েছিল, যেখানে হাতে পোস্টার নিয়ে তিনি লিখেছিলেন—“মেসি, তুমি কি আমাকে বিয়ে করবে?”
এদিকে গ্যালারিতে শুধু শতবর্ষী ভক্তই নয়, নজর কেড়েছে এক শিশু ভক্তও। আর্জেন্টিনার জার্সি পরা শিশুটিকে উঁচু করে ধরে রাখা মুহূর্তটি ক্যামেরাবন্দি হলে সেটিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।
মাঠের ভেতরে অবশ্য রাতটা ছিল পুরোপুরি লিওনেল মেসির দখলে। শুরুতে পেনাল্টি মিস করলেও পরে জোড়া গোল করে দলকে জয়ের পথে নিয়ে যান তিনি। প্রথম গোল আসে ৩৮তম মিনিটে, আর দ্বিতীয় গোলটি আসে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে।
এই দুই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় এককভাবে শীর্ষে উঠে যান মেসি। ১৮ গোল নিয়ে তিনি ছাড়িয়ে যান জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোজেকে।
ডালাসের সেই রাত তাই শুধু একটি ম্যাচ নয়—একদিকে ইতিহাস গড়া মেসির পারফরম্যান্স, অন্যদিকে গ্যালারিতে ফুটবল ভালোবাসার প্রতীক হয়ে থাকা শতবর্ষী পউলিনে কানা ও নতুন প্রজন্মের ছোট্ট ভক্ত—সব মিলিয়ে এক আবেগঘন ফুটবল উৎসব হয়ে উঠেছিল।
সূত্র: ইএসপিএন