সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৩৫ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
যুদ্ধ শুরু হলে শেষ করার সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের হাতে থাকবে না: ইরান এক দেশে জরুরি অবস্থা জারি এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপে ফারইস্টের গোলবন্যায় ডুবলো নর্থ সাউথ ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা পোশাক শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা ও উৎপাদন-রপ্তানি সচল রাখার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চার মাসে রপ্তানি আয় ছাড়ালো ১৭ বিলিয়ন ডলার, প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশ শাহজালালে ১৬৫ ফ্লাইট বাতিল, আটকা ২২৯১৭ জন যাত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৯২৯ আগামী গ্রীষ্মে কিছুটা হলেও লোডশেডিং কম দিতে পারবো: বিদ্যুৎমন্ত্রী দেশের যুবশক্তিকে সঠিকভাবে কাজে লাগানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির

যুদ্ধ শুরু হলে শেষ করার সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের হাতে থাকবে না: ইরান

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে তা আগের সংঘাতের চেয়েও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলে সতর্ক করেছে ইরান। একই সঙ্গে যুদ্ধ কখন শেষ হবে এবং কী শর্তে শেষ হবে, তা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এককভাবে নির্ধারণ করতে পারবেন না বলে জানিয়েছে দেশটি।

রোববার (০১ নভেম্বর) ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামনিয়া এ সতর্কবার্তা দেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে নতুন করে হামলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ইরানের পক্ষ থেকেও পাল্টা কঠোর অবস্থানের কথা জানানো হয়েছে।

আকরামনিয়া বলেন, ভবিষ্যতে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে তা আগের সংঘাতের চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। যুদ্ধ কখন এবং কী শর্তে শেষ হবে, তা নির্ধারণের ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্টের হাতে থাকবে না।

এর আগে ইরানের কিছু অবশিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে দ্রুত হামলা চালানোর ইঙ্গিত দেন ট্রাম্প। ফ্লোরিডায় নিজের বাসভবনে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ইরানে আরও এক বা দুটি স্থাপনা ধ্বংস করার বাকি রয়েছে। চাইলে মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যেই সেগুলোতে হামলা চালানো সম্ভব।

এ সময় ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ নামে পরিচিত সন্দেহভাজন ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার মধ্য দিয়ে যুদ্ধ শুরু হয়। সংঘাতের সময় ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে পাল্টা জবাব দেয়। এ ছাড়া লেবানন ও ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোও সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে।

ইরানে নতুন করে হামলা চালানো হলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। সংগঠনটির মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি রোববার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতের ক্ষেত্রে যুদ্ধের কোনো ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা থাকবে না। প্রতিপক্ষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি নিশ্চিত করতে বিস্তৃত যুদ্ধক্ষেত্র নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগের দিন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিও লিখিত বার্তায় একই ধরনের সতর্কবার্তা দেন।

এদিকে ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজায়ি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরুর উদ্যোগ নিয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পাঠানো একটি চিঠি তিনি পেয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্যের ধরনে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে বলে মনে করলেও চিঠির জবাব এখনো দেননি তিনি।

রেজায়ি জানান, ইরান আগেই ওয়াশিংটনকে জানিয়েছে, তাদের শর্ত পূরণ না হলে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে না এবং কোনো আলোচনাও হবে না।

ইরানের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে বিদেশে জব্দ করা সম্পদ অবমুক্ত করা, দেশটির বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রয়েছে বলে দাবি করে আসছে ইরান। দেশটির অনুমতি ছাড়া প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করা কয়েকটি জাহাজে হামলার ঘটনাও ঘটেছে। অন্যদিকে ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

নতুন করে সংঘাত শুরু হলে পুরো অঞ্চলের জন্য তা ক্ষতিকর হবে বলে মন্তব্য করেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ।

রোববার বাহরাইনের রাজধানী মানামায় এক সম্মেলনে তিনি বলেন, কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সংকটের সমাধান হবে বলে তাঁরা আশা করছেন। তবে একই সঙ্গে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতিও রাখছে আমিরাত।

তিনি বলেন, এই অঞ্চলের স্বার্থে নতুন করে আরেক দফা সংঘাত কাম্য নয়। তবে অতীতের মতো এবারও তাঁরা সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রয়েছেন।

এদিকে ইরানের রাজধানী তেহরানের বাসিন্দাদের মধ্যেও নতুন করে যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কেউ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন, আবার কেউ দীর্ঘদিনের সংঘাতের কারণে নতুন যুদ্ধের আশঙ্কাকে স্বাভাবিকভাবেই দেখছেন।

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD