শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:২৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ডেঙ্গুতে আরও ৩ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৪৩২ যেভাবে চীনা গোয়েন্দা সহায়তায় মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে নিখুঁত হামলা চালাচ্ছে ইরান যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকারী বিদেশিদের জন্য জরুরি নির্দেশনা বাংলাদেশ-জাপান ভ্রাতৃত্বের বন্ধন এগিয়ে নিতে কাজ করছে সরকার: মঈন খান ধানমন্ডিতে নিষিদ্ধ ঘোষিত আ.লীগের ঝটিকা মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণ, আটক ৪ জাবি উপাচার্য কামরুল আহসানকে অব্যাহতি, নতুন ভিসি নূরুল ইসলাম জাসদ কার্যালয়ে গোপন বৈঠক থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের শতাধিক নেতাকর্মী আটক আওয়ামী দোসরদের গ্রেপ্তার করলে পুলিশকে পুরস্কৃত করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর তোপের মুখে মামদানি, পালটা জবাব নিউইয়র্ক মেয়রের ওয়াশিংটনে ট্রাম্প-সি বৈঠক, কমল উত্তেজনা—থাকল পুরোনো বিরোধ

যেভাবে চীনা গোয়েন্দা সহায়তায় মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে নিখুঁত হামলা চালাচ্ছে ইরান

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও জাহাজে হামলার ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর পেছনে চীনা গোষ্ঠীগুলোর সরবরাহ করা স্যাটেলাইট ছবি ও গোয়েন্দা তথ্য সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।

সম্প্রতি তৈরি কয়েকটি মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নের বরাত দিয়ে ৪টি সূত্র মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে এ তথ্য জানিয়েছে ।

সূত্রগুলোর দাবি, চীনা স্যাটেলাইটের সরবরাহ করা ছবি ব্যবহার করে গত জুলাইয়ে জর্ডানে একটি মার্কিন ঘাঁটিতে নিখুঁত হামলা চালায় ইরান। ওই হামলায় তিন মার্কিন সেনা নিহত হন। মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, চীনা গোয়েন্দা সহায়তা ছাড়া ওই মাত্রার নির্ভুল হামলা চালানোর সক্ষমতা ইরানের ছিল না।

চীনা ভূ-স্থানিক তথ্য ইরানকে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজ শনাক্ত করতেও সহায়তা করছে। এর ফলে ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সম্ভাবনা বেড়েছে বলে একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

আরও দুই সূত্র জানিয়েছে, এই তথ্যের মাধ্যমে ইরান এমন কিছু তাপ-অনুসরণকারী ড্রোনও ব্যবহার করতে পারছে, যেগুলো আকাশে উড্ডয়নের পর মাঝপথে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। জাহাজ কখন নির্দিষ্ট এলাকায় পৌঁছাবে, তা হিসাব করে ড্রোন উৎক্ষেপণের সময় নির্ধারণে এসব তথ্য ব্যবহার করছে ইরান।

মার্কিন সূত্রগুলোর মতে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরানের ধারাবাহিক হামলার নির্ভুলতা বাড়ার পেছনে চীনা সহায়তা অন্যতম কারণ। তবে এটিই একমাত্র কারণ নয়। রাশিয়ার সহায়তা এবং চলমান সংঘাতে ইরানি বাহিনীর অর্জিত যুদ্ধ-অভিজ্ঞতাও তাদের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।

চীনের সহায়তার পরিমাণ সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করা কঠিন বলে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। কারণ, চীনা সরকার সরাসরি এই সহায়তার নির্দেশ দিয়েছে, নাকি বিষয়টি নীরবে অনুমোদন করছে; তা স্পষ্ট নয়। এ ছাড়া বেইজিং ইরানকে ঠিক কতটা সহায়তা করছে, তা নিয়েও মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।

মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য সম্পর্কে অবগত পঞ্চম এক সূত্র জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় চীনও এই পরিস্থিতির অবসান চায়।

তবে চীনা গোয়েন্দা সহায়তা এরই মধ্যে ইরানের নতুন ধরনের সামরিক কৌশল গড়ে তুলতে ভূমিকা রেখেছে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন।

মার্কিন কর্মকর্তাদের ও বাইরের বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সবচেয়ে বড় কৌশলগত চাপ প্রয়োগের জায়গা হরমুজ প্রণালি। সেখানে মার্কিন সামরিক বাহিনীর পাহারায় থাকা জাহাজ ও বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে ইরান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, জাহাজগুলো জলপথের একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক চিহ্নে পৌঁছানোর পর ইরান একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক তাপ-অনুসরণকারী ড্রোন ছুড়ছে। ওই কর্মকর্তা জায়গাটিকে ‘নাকল’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

তাপ অনুসরণ করতে সক্ষম হওয়াকে খুব উন্নত প্রযুক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। তবে চীনা স্যাটেলাইট ছবি ব্যবহার করে ইরানি বাহিনী মার্কিন জাহাজের পাহারাদারি কার্যক্রম কার্যকরভাবে অনুসরণ করতে পারছে এবং হামলার জন্য উপযুক্ত সময় বেছে নিতে পারছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।

দুই মার্কিন কর্মকর্তার মতে, এই কৌশলে মূলত বিপুলসংখ্যক ড্রোন ছোড়া হয় এবং সেগুলো জাহাজের কাঠামো থেকে নির্গত তাপ শনাক্ত করে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করবে; এমন প্রত্যাশা করা হয়।

অভিযানের তীব্রতাও বেশ বেশি। এক সাম্প্রতিক পাহারাদারি অভিযানে মার্কিন বাহিনী ইরানের এক ডজনের বেশি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত এবং প্রায় ২০টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। একই সময়ে হরমুজ প্রণালির আশপাশে প্রায় ৬০টি লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণাত্মক অভিযান চালানো হয়েছে বলে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান।

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের নির্দেশনা ব্যবস্থা উন্নত করতেও চীন ও রাশিয়ার কারিগরি সহায়তা রয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে জর্ডানে জুলাইয়ের হামলার মতো কিছু ঘটনায় চীনের সরবরাহ করা গোয়েন্দা তথ্যকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে একমত মার্কিন কর্মকর্তারা।

এক মার্কিন সূত্র বলেন, ‘তাদের লক্ষ্য নির্ধারণের সক্ষমতা উন্নত হওয়ার একটি কারণ হলো তারা কিছু সহায়তা পাচ্ছে। যুদ্ধক্ষেত্রে নিয়মিত অভিজ্ঞতা অর্জন গুরুত্বপূর্ণ, তবে বাইরে থেকে সহায়তা পাওয়া অনেক বড় বিষয়।’

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাস ও ইরানি কূটনৈতিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা সাড়া দেননি। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরও মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। হোয়াইট হাউসও এই প্রতিবেদন প্রকাশের আগে কোনো জবাব দেয়নি।

এর আগে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছিল, জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে জুলাইয়ের হামলায় ইরান চীনা স্যাটেলাইট তথ্য ব্যবহার করেছিল।

ওই সময় চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুনকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেছিলেন, চীন সবসময় আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা কঠোরভাবে পালন করে। সংঘাতকে ব্যবহার করে চীনের বিরুদ্ধে ‘কাদা ছোড়াছুড়ির’ বিরোধিতা করে বেইজিং।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের জন্য বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ওয়াশিংটনে রয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ট্রাম্প চীনের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক বজায় রাখতে চাইলেও, এক মার্কিন কর্মকর্তা মনে করেন, শির এই সফরে বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে।

চীনে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড পারডিউ শুক্রবার সিএনবিসিকে বলেছেন, ইরানকে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে যেকোনো ধরনের সহায়তা দেওয়া ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’; এ কথা ট্রাম্প প্রশাসন চীনকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে।

জর্ডানে হামলার পর ইরানকে চীন লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তা করছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বিষয়টি নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। তবে তিনি বলেন, ইরান-সংক্রান্ত সংঘাতের গতিপথ পরিবর্তনে চীনের কোনো পদক্ষেপ ভূমিকা রাখেনি। বরং কিছু ক্ষেত্রে চীন ‘বেশ সহযোগিতাপূর্ণ’ আচরণ করেছে। হরমুজ প্রণালিতে ইরানের টোল আরোপের প্রচেষ্টার প্রকাশ্য বিরোধিতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

সংঘাত চলাকালে চীনা বাণিজ্যিক স্যাটেলাইটের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের ছবি সরবরাহ ঠেকাতে ব্যবস্থা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, এসব ছবি সরবরাহ মার্কিন সেনাদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।

গত মে মাসে ৩টি চীনা স্যাটেলাইট কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ ছিল, এসব কোম্পানির সরবরাহ করা ছবি ‘মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে ইরানের সামরিক হামলা সক্ষম করে’।

যুদ্ধ সপ্তম মাসে গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মার্কিন সম্পদকে হুমকির মুখে রাখতে এবং ওয়াশিংটন ও তার মিত্রদের ওপর চাপ অব্যাহত রাখতে ইরান যুদ্ধক্ষেত্রে নিজেদের কৌশল পরিবর্তন করেছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

সম্প্রতি ইরান নিয়মিতভাবে মার্কিন এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ভূপাতিত করছে এবং এখনো ড্রোন হামলার সতর্কতা জারি হচ্ছে বলে গোয়েন্দা মূল্যায়নের সঙ্গে পরিচিত এক সূত্র জানিয়েছেন।

আরেক সূত্র বলেন, ইরানের সক্ষমতা বাড়ছে, কারণ তাদের প্রশিক্ষণের জন্য আরও বেশি সময় পাওয়া গেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, চীন ইরানকে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন ধরনের সহায়তাও দিয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা একই সঙ্গে কম ও মাঝারি উচ্চতায় উড়তে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দুর্বলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। উচ্চ-উচ্চতার ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয়বহুল ও অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকলেও নিচু ও মাঝারি উচ্চতায় পরিচালিত এসব অস্ত্র মোকাবিলায় নতুন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করতে হচ্ছে।

২০২০ সালেই ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালানোর সক্ষমতা দেখিয়েছিল। সে সময় প্রথম মেয়াদে ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের শীর্ষ জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার পর ইরান মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালায়।

তবে এরপর থেকে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুল হামলা চালানোর ইরানি সক্ষমতা ব্যাপকভাবে বেড়েছে বলে একাধিক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের ইন্সপেক্টর জেনারেলের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের প্রথম কয়েক মাসে ইরানের হামলায় কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ইরাক, ওমান ও জর্ডানে থাকা মার্কিন ঘাঁটির শত শত ভবন ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, এসব হামলার কারণে ওই অঞ্চলে মার্কিন সেনাদের প্রচলিত কার্যক্রমেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হয়েছে। ইরান ও তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলার মুখে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জনবল, সামরিক সরঞ্জাম ও সংরক্ষণাগার সরিয়ে নিয়েছে।

এ ছাড়া ইরান সামরিক সক্ষমতা ও শিল্পভিত্তি পুনর্গঠনে সক্ষম হওয়ায় দেশটির দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি ও যন্ত্রাংশ আমদানিও মার্কিন কর্মকর্তাদের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।

এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ‘চীনা যন্ত্রাংশ ছাড়া ইরানের পক্ষে এভাবে লড়াই চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হতো না।’

তবে আরেক কর্মকর্তা বলেন, ইরানের সামরিক মজুত পুনর্গঠনের প্রবণতা মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর আগের মূল্যায়নের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। একই সঙ্গে পুরো লক্ষ্যতালিকা সম্পন্ন করার আগেই ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ইরান তার সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের সুযোগ পেয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সূত্র : সিএনএন

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD