অর্থনৈতিক রিপোর্টার : করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ মহামারির কারণে কয়েক মাস টানা লকডাউনের পর রাজধানীতে দোকান ও বিপণিবিতান খুললেও বেচাকেনা নেই বললেই চলে। ফলে দোকানে দোকানে চলছে মূল্য ছাড়ের ধুম। গত কয়েক দিনের রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেটে এমন দৃশ্য দেখা যাচ্ছে।
মহানগরীর মার্কেটগুলোতে চোখ রাখলে এখন দেখা যাচ্ছে ডিস্কাউন্টের প্লাকার্ড। তবে ক্রেতা মিলছে না দোকানগুলোতে। ক্রেতাশূন্য দোকানে অলস সময় পার করছেন দোকানিরা।
অন্যান্য বছর ঈদের আগে পশু কেনাকাটার পাশাপাশি পোশাকের দোকানেও ভিড় থাকে। এবার তেমনটি না হওয়ার শঙ্কা করছেন দোকানিরা। ঈদের এক মাস আগে রাজধানীর মার্কেটে ক্রেতা সমাগম হচ্ছে না। সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত শপিংমল খোলা রাখার অনুমতি থাকায় অনেকে দোকান খুলেছে।
রাজধানীর মিরপুরে কাপড়ের দোকান ইজি’র বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ঈদ সামনে, কিন্তু ক্রেতা আসছে না। যা বিক্রি হচ্ছে তাতে দোকান ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, স্টাফদের বেতন হবে না।
ইজি’র পার্শ্ববর্তী আরেকটি দোকানের ম্যানেজার শহীদুল আলম বলেন, মানুষ করোনা নিয়ে আতঙ্কে থাকায় দোকানে আসছেন না। সারা দিন দোকান খোলা, কিন্তু বেচাকেনা নেই। বিক্রি বাড়াতে পোশাকের ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিয়েও ক্রেতা নেই।
বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, ক্রেতা আগমন কম, তাই বেচাকেনাও কম হয়েছে। তবে এক সপ্তাহ আগে কিছুটা বিক্রি বাড়তে পারে।
এদিকে বুধবার (৮ জুলাই) পর্যন্ত সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ হাজার ৪৮৯ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ নিয়ে বাংলাদেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭২ হাজার ১৮৯ জনে। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২ হাজার ১৯৭ জনে।
বুধবার দুপুরে করোনা ভাইরাস নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন বুলেটিনে এ তথ্য জানান সংস্থাটির অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।
তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা জয় করে ফিরেছেন ২ হাজার ৭৩৬ জন। এ নিয়ে মোট সুস্থ হয়ে ফেরা করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়ালো ৮০ হাজার ৮৩৮ জনে।
এর একদিন আগে মঙ্গলবার সারাদেশে ৩ হাজার ২৭ জন করোনা রোগী শনাক্ত হন। এছাড়া মৃত্যু হয় আরও ৫৫ জনের।
বাংলাদেশে গত ৮ মার্চ প্রথম করোনা ভাইরাসের রোগী শনাক্ত হলেও প্রথম মৃত্যুর খবর আসে ১৮ মার্চ। দিন দিন করোনা রোগী শনাক্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ায় নড়েচড়ে বসে সরকার। ভাইরাসটি যেন ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য ২৬ মার্চ থেকে বন্ধ ঘোষণা করা হয় সব সরকারি-বেসরকারি অফিস। কয়েক দফা বাড়িয়ে এ ছুটি ৩০ মে পর্যন্ত করা হয়।
ছুটি শেষে করোনার বর্তমান পরিস্থিতির মধ্যেই ৩১ মে থেকে দেশের সরকারি-বেসরকারি অফিস খুলে দেয়া হয়। তবে বন্ধ রাখা হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
অন্যদিকে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের সংখ্যা ও প্রাণহানির পরিসংখ্যান রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারে বুধবার (৭ জুলাই) প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত দেয়া তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ১৯ লাখ ৬৫ হাজার ৬৬১ জন। এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৫ লাখ ৪৬ হাজার ৯৮৮ জন।
লাইট নিউজ