মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বাহামা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পথে বিমান নিখোঁজ শিগগিরই চালু হবে ‘মৈত্রী এক্সপ্রেস’: ভারতীয় হাইকমিশনার ১০ অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের বদলি ইসরাইলকে অস্ত্র সরবরাহের মামলা খারিজ চায় জার্মানি বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুরু হচ্ছে বিশেষ অভিযান, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী ইরানকে মক্কা চুক্তিতে অন্তর্ভুক্তির আহ্বান রাশিয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই দেশে গ্যাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে: পরিকল্পনা উপদেষ্টা ভ্রাতৃত্বের মেলবন্ধনকে ধ্বংসের জন্য প্রচেষ্টা চালাচ্ছে চক্রান্তকারীরা: রিজভী শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধন ১৬ ডিসেম্বর

শরীর ও মনের সুস্থতায় যোগ

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১৭ জুন, ২০২০

২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগব্যায়াম (ইয়োগা) দিবস। ২০১৪ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই দিনকে আন্তর্জাতিক যোগব্যায়াম (ইয়োগা) দিবস হিসেবে পালন করার প্রস্তাব দেন। কারণ, ২১ জুন উত্তর গোলার্ধের সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের দিন। ২০১৫ সালের ২১ জুন থেকে এই দিবস পালন করা শুরু হয়। বাংলাদেশেও এ দিনটি পালন করা হয়।

দিনে দিনে সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে যোগশিক্ষার প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। কারণ, যোগের মাধ্যমে দৈহিক, মানসিক ও আত্মিক (স্পিরিচুয়াল) চর্চা ও উন্নতি সম্ভব। যা অন্য খেলাধুলা বা ব্যায়ামের মাধ্যমে হয় না। নিয়মিত যোগচর্চায় দেহ ও মনের মধ্যে নিবিড় মেলবন্ধন গড়ে ওঠে এবং প্রকৃতির সাঙ্গে স্থাপন হয় যোগসূত্র।

নিয়মিত যোগব্যায়াম চর্চা করলে শরীরে রোগজীবাণু সহজে বাসা বাঁধতে পারে না, শরীর থাকে নীরোগ এবং মন প্রফুল্ল। এবার কোভিড–১৯ মহামারির কারণে জনসমাগমের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালন করা সম্ভব হচ্ছে না। কিন্তু বিভিন্ন অনলাইন প্রতিযোগিতা হচ্ছে দিবসটি ঘিরে। কোভিড–১৯–এর কারণে চিকিৎসকেরাও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন যোগচর্চার প্রতি।

যোগ কী?

যোগব্যায়াম হলো অতিপ্রাচীন (আনুমানিক পাঁচ হাজার বছর আগে) বিজ্ঞানভিত্তিক শরীরচর্চা, যা সাত বছর থেকে শুরু করে আমৃত্যু যেকোনো বয়সের মানুষই কোনো যন্ত্রপাতি ছাড়াই অনুশীলন করতে পারে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বব্যাপী যোগের জনপ্রিয়তা বেড়েই চলেছে। চিকিৎসকেরাও শরীর ও মন সুস্থ রাখার উপায় হিসেবে যোগব্যায়ামকে পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছেন।

গণিতে যেমন অংশ যোগ করে আমরা সংখ্যা পাই, এক্ষেত্রেও যোগ করা হয়। দেহ–মন–আত্মা, মস্তিস্ক, বিবেক, বুদ্ধি; অর্থাৎ আমাদের যা কিছু আছে সব একসূত্রে গাঁথা বা যুক্ত করার নামই ইয়োগা বা যোগ।

অন্যান্য শরীরচর্চা বা খেলা শুধু শরীরকেন্দ্রিক। যেমন আমরা যদি শক্তসামর্থ মাংসপেশী গঠন করতে চাই এবং সুঠাম দেহ গঠন করতে চাই, সেক্ষেত্রে জিমে গিয়ে ব্যায়াম করা যেতে পারে। কিন্তু এই ব্যায়ামে আমাদের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ, যেমন মস্তিস্ক, হৎপিণ্ড, ফুসফুস, কিডনির ব্যায়াম হয় না। মনের যে প্রশান্তি বা মানসিক যত বৈশিষ্ট্য আছে সেগুলোর উৎকর্ষ সাধন হয় না।

আমরা যখন কোনো খেলা যেমন ক্রিকেট বা ফুটবল খেলি বা দেখি, তখন খেলোয়াড়সহ সারা বিশ্বের মানুষের মনোযোগ থাকে ওই বলের দিকে। আমাদের হৃৎপিণ্ড যে এত জোরে জোরে তখন স্পন্দিত হয়, এটাই কিন্তু আমরা বুঝতে পারি না। অন্যান্য সূত্র—অনুভূতির কথা না–হয় বললামই না।

ইয়োগা বা যোগের মাধ্যমে আমাদের শরীর ও মন উভয়ের সুস্থতা লাভ হয়। ইয়োগা আমাদের শরীরের ও মনের বিভিন্ন রোগ থেকে আরোগ্য পেতে সহায়তা করে।

ইয়োগার ৮টি অংশ

১. যম ২. নিয়ম ৩. আসন ৪. প্রাণায়াম ৫. প্রত্যাহার ৬. ধারণা ৭. ধ্যান ও ৮. সমাধি

এর মধ্যে পাঁচটি অনুশীলন করা সাধারণ মানুষদের জন্য একটু কঠিন। কারণ, কিছু কঠোর নিয়মকানুন রয়েছে। যে তিনটি আমরা সবাই অনুশীলন করে সুস্থ, স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারি, সেগুলো হলো: আসন (যোগাসন), প্রাণায়াম (বিভিন্ন শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম) ও ধ্যান (মেডিটেশন)।

করোনাকালে যোগ

সবাই জানেন, করোনাভাইরাস আমাদের ফুসফুসে আক্রমণ করে। যাঁদের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল, তাঁরা আক্রান্ত হন বেশি।

তাই আমাদের যেদিকে নজর দিতে হবে—১. ফুসফুসকে শক্তিশালী রাখা এবং ২. রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো। প্রাণায়াম ও আসনের মাধ্যমে সহজেই আমরা ফুসফুসের পেশীগুলোকে শক্তিশালী করতে পারি এবং অক্সিজেন গ্রহণ করার ক্ষমতাও বাড়াতে পারি।

অপর দিকে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বলতে আমরা জানি, রক্তের শ্বেতকণিকা বাইরের জীবাণু বা ক্ষতিকর বস্তুর বিরুদ্ধে লড়াই করে। যখন নিয়মিত ব্যায়াম করা হয় এবং মানসিক অবস্থা ভালো থাকে, তখন রক্তের শ্বেত কণিকার কার্যকারিতা সর্বাধিক পর্যায়ে থাকে এবং এর উৎপাদনও বাড়ে। সেক্ষেত্রে মানসিক অবস্থার উৎকর্ষ সাধনে ধ্যানের বিকল্প হয় না।

যেকোনো রোগের জন্য বিশেষ করে কোভিড–১৯ মহামারির সময় যোগব্যায়াম একটি উত্তম উপায়।

বৃক্ষাসন

কীভাবে করবেন?

১. ডান পা তুলে পায়ের পাতাকে বাঁ উরুর ভেতরের দিকে লাগান। যদি না পারেন তবে ডান পায়ের পাতা বাঁ পায়ের হাঁটুতে লাগাবেন।

২. দুটি হাতকে শ্বাস নিয়ে উপরে তুলে এক সঙ্গে জোড় করে লাগিয়ে রাখুন।

৩. এই অবস্থায় সামনে একটা নির্দিষ্ট বিন্দুতে তাকিয়ে থাকবেন। চোখের পলক না ফেলে থাকার চেষ্টা করবেন। অথবা চোখ বন্ধ রাখবেন। তবে একটু অভিজ্ঞ হওয়ার পর চোখ বন্ধ করা ভালো।

৪. এক পায়ে থাকার পর অন্য পায়েও করুন।

সময়

প্রতি পায়ে ১০ সেকেন্ড থেকে শুরু করে অভ্যাস বাড়িয়ে ৩-৫ মিনিট করুন। যখন অভ্যাস ১ মিনিট হয়ে যাবে, তখন প্রতি পায়ে একবার করে করাই যথেষ্ট।

উপকারিতা

*  মনের চঞ্চলতা দূর করে প্রশান্তি আনে

*  স্লায়ুমণ্ডলের বিকাশ করে

*  মনোযোগ বৃদ্ধি পায়

*  আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়তা করে

*  মনের ভয় দূর করে।

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD