বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৪৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মহানবীর (সা.) আদর্শ অনুসরণে শান্তিপূর্ণ দেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক, কী আলোচনা হলো ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ হবে বিরোধীদলের সবচেয়ে বড় প্রথম কর্মসূচি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সংবিধান অনুযায়ী শপথ নিয়েছেন, আইনের ব্যত্যয় ঘটেনি: মন্ত্রী নিষেধাজ্ঞা ইরানকে ভাঙতে পারেনি, আরও শক্ত করেছে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ৩ বাহিনী প্রধানের সাক্ষাৎ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ ইমরানের চিকিৎসা নিশ্চিতে সুনীল-কপিলসহ ২১ অধিনায়কের চিঠি হাসিনাসহ সাতজনকে আদালতে হাজির করতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ ইরানে ফের সামরিক হামলার ইঙ্গিত যুক্তরাষ্ট্রের

শ্যামনগর ও ওড়াকান্দিতে উৎসবের আমেজ

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৫ মার্চ, ২০২১

সংবাদদাতা : ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আসন্ন বাংলাদেশ সফরকালে ঢাকার বাইরে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধ ছাড়াও সাতক্ষীরার শ্যামনগর, গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া ও কাশিয়ানীর ওড়াকান্দিতে যাবেন। এর মধ্যে টুঙ্গিপাড়া বাদে অন্য দুটি স্থানে তিনি পূজা দেবেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন জানিয়েছেন, নরেন্দ্র মোদি আগামী ২৬ মার্চ ঢাকা ও সাভারে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। পরদিন তিনি যাবেন শ্যামনগর। এরপর সেখান থেকে টুঙ্গিপাড়া ও ওড়াকান্দি সফর শেষে ঢাকায় ফিরবেন তিনি। মন্ত্রী বলেছেন, ভারত সরকার ওড়াকান্দিতে বড় সমাবেশ করতে চায়। কিন্তু কভিড পরিস্থিতির কারণে জমায়েত যতটা সম্ভব সীমিত রাখতে চাচ্ছে সরকার।

সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার (এসপি) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্যামনগরের ঈশ্বরীপুর গ্রামে ঐতিহাসিক যশোরেশ্বরী কালীমন্দির পরিদর্শন ও পূজা অর্চনা করবেন। তাঁর এই সফর ঘিরে শ্যামনগরে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। ভারতীয় দূতাবাসের সহকারী হাইকমিশনার রাজেশ কুমার রায়না ও সে দেশের গোয়েন্দা সংস্থা এরই মধ্যে মন্দির এলাকা রেকি করে গেছেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এলাকাটি সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রেখেছে।

ধারণা করা হচ্ছে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে নরেন্দ্র মোদির এই সফর তাৎপর্যপূর্ণ। যশোরেশ্বরী কালীমন্দির প্রতিষ্ঠার ইতিহাস সাড়ে চার শ বছরের পুরনো।
এদিকে টুঙ্গিপাড়ায় এবং কাশিয়ানীর ওড়াকান্দিতেও চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। এসব কর্মযজ্ঞ দেখতে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রালয়ের সচিব শহীদ উল্যা খোন্দকার এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতার গতকাল রবিবার এসব স্থান পরিদর্শন করে কাজের অগ্রগতি দেখেন।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী ওড়াকান্দি গ্রামে হরিচাঁদ ঠাকুরের বাড়িতে আসছেন—এমন খবরে গ্রামবাসীর মধ্যে বিরাজ করছে আনন্দ-উচ্ছ্বাস। ধর্মীয় রীতিতে মোদিকে বরণ করতে তারা নানা ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে। মতুয়া ভক্তরা ঠাকুরবাড়ি ও মন্দিরগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং ধোয়া-মোছার কাজ করেছে।
ঠাকুরবাড়ির সদস্য ও কাশিয়ানী উপজেলা চেয়ারম্যান সুব্রত ঠাকুর জানান, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা প্রায় প্রতিদিনই ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়িতে আসছেন। তাঁরা নানা ধরনের খোঁজখবর নিচ্ছেন।

জানা গেছে, নরেন্দ্র মোদি ঠাকুরবাড়িতে অবস্থিত হরিচাঁদ-গুরুচাঁদ ঠাকুরের মন্দিরে পূজা শেষে মন্দিরের সামনেই ঠাকুরবাড়ির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। বাড়ির সামনেই আরেকটি মাঠে তিন শতাধিক নির্ধারিত মতুয়া নেতার সঙ্গে তাঁর মতবিনিময় করার কথা রয়েছে।
প্রসঙ্গত, হরিচাঁদ ঠাকুর ও তাঁর ছেলে গুরুচাঁদ ঠাকুরের জন্মস্থান গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার এই ওড়াকান্দি গ্রাম। তাঁদের অনুসারীদের বলা হয় মতুয়া ভক্ত। সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি মতুয়া ভক্তের কাছে ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়ি পুণ্যভূমি হিসেবে বিবেচিত।

নিম্নবর্ণের হিন্দু সম্প্রদায়ের ত্রাণকর্তা হিসেবে ১৮১২ খ্রিস্টাব্দের ১১ মার্চ আবির্ভূত হয়েছিলেন হরিচাঁদ ঠাকুর। পরবর্তী সময়ে তাঁর ছেলে গুরুচাঁদ ঠাকুর সেই দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন। প্রতিবছর হরিচাঁদ ঠাকুরের জন্মতিথি মধুকৃষ্ণ ত্রয়োদশীতে এখানে অনুষ্ঠিত হয় স্নানোৎসব ও মেলা।

দেশের বিভিন্ন স্থান ছাড়াও ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশের মতুয়া ভক্তরা এ স্নানোৎসবে যোগ দিয়ে থাকে। ঢাক-ঢোল ও কাঁশর বাজিয়ে উলুধ্বনি দিয়ে মাইলের পর মাইল পথ পাড়ি দিয়ে মতুয়া অনুসারীরা ছুটে আসে তাদের তীর্থভূমি শ্রীধাম ওড়াকান্দিতে। ভক্তরা ঠাকুরবাড়িতে কামনা ও শান্তি সাগরে (বড় পুকুর) স্নানের মধ্য দিয়ে নিজেদের তথা বাংলাদেশ এবং সারা বিশ্বের সব জীবের শান্তি ও মঙ্গল কামনা করে। এ বছর হরিচাঁদ ঠাকুরের ২১০তম আবির্ভাব দিবস। এ উপলক্ষে আগামী ৯ এপ্রিল ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়িতে অনুষ্ঠিত হবে স্নানোৎসব ও মেলা।

 

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD