রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ০৫:৩০ পূর্বাহ্ন
সংসদে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ

সমঝোতা ভেঙে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান জাদুঘর’ বিল পাস, ‘রাজনৈতিক জোচ্চুরি’

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬
সমঝোতা ভেঙে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান জাদুঘর’ বিল পাস, ‘রাজনৈতিক জোচ্চুরি’

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় করা ৯৮টি অধ্যাদেশ সংশোধনী ছাড়াই পাসের রাজনৈতিক সমঝোতা ভেঙে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল, ২০২৬’ পাস করায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বিরোধী দল। এই প্রক্রিয়াকে ‘দিনদুপুরে রাজনৈতিক জোচ্চুরি’ ও ‘প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণের মহোৎসব’ বলে অভিহিত করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে বিলটি পাস হওয়ার পর অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বিলটি উত্থাপন করেন।

রাজনৈতিক সমঝোতা ভঙ্গের অভিযোগ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, মাননীয় স্পিকার, আপনি জানেন অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশগুলো নিয়ে একটি বিশেষ কমিটি করা হয়েছিল। সেখানে ৯৮টি অধ্যাদেশ সম্পর্কে আমরা ঐকমত্য পোষণ করেছিলাম যে, সেগুলো ‘অ্যাজ ইট ইজ’ (যেভাবে আছে) সংসদে বিল আকারে আসবে এবং পাস হবে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিলটিও সেই তালিকার অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু আজ বিলটি উত্থাপনের মাত্র আধা ঘণ্টা আগে একটি সংশোধনী দেওয়া হলো। এর মাধ্যমে রাজনৈতিক সমঝোতা ও ‘কনসেনসাস’ ভঙ্গ করা হলো।

নাহিদ বলেন, সরকারি দল চাইলে যেকোনো বিল পাস করতে পারে, তাদের সেই মেজরিটি আছে। কিন্তু এই বিশেষ কমিটি করার তবে প্রয়োজন কী ছিল? যদি আমাদের কথা বলার সুযোগই না দেওয়া হয়, তবে এই সংসদ আর জনস্বার্থ রক্ষা করবে কীভাবে? দিনদুপুরে একটা ছলচাতুরি ও জোচ্চুরির মাধ্যমে এই বিলের সংশোধনী পাস করে নেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞের বদলে মন্ত্রী কেন সভাপতি?

বিলের সংশোধনীতে বিশেষজ্ঞের বদলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীকে জাদুঘর পর্ষদের সভাপতি করার তীব্র সমালোচনা করে চিফ হুইপ বলেন, আগের বিলে ছিল সরকার কর্তৃক নিয়োজিত একজন ‘বিশেষজ্ঞ’ পর্ষদের প্রধান হবেন। কিন্তু নতুন সংশোধনীতে সংস্কৃতি মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীকে সভাপতি করা হয়েছে। বাংলা একাডেমি, শিল্পকলা বা জাতীয় জাদুঘরের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোতে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের এক্সপার্টদের দায়িত্ব দেওয়া হয়—এটাই রেওয়াজ। জুলাই গণঅভ্যুত্থান জাদুঘর কোনো শাখা জাদুঘর নয়, এটি একটি স্বতন্ত্র বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান। এখানে মন্ত্রীকে কেন সভাপতি হতে হবে?

সব প্রতিষ্ঠানেই ‘দলীয়করণ’

সরকারের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দলীয়করণের উদাহরণ টেনে নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা দেখছি বাংলাদেশের সকল প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক দখল করে দলীয়করণ করা হয়েছে, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করা হচ্ছে। এমনকি ক্রিকেট বোর্ডেও দলীয়করণ ও পরিবারকরণ সম্পন্ন হয়ে গেছে। আমাদের মাননীয় মন্ত্রীদের সন্তানরা এখন ক্রিকেট বোর্ডের সদস্য। এখন জুলাই গণঅভ্যুত্থান জাদুঘরকেও কি ছাড় দেওয়া হবে না?

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সব পক্ষের অংশীদারিত্ব ছিল। কিন্তু এই বিল পাসের মাধ্যমে সরকার এখন জাদুঘরটি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে। সরকার চাইলে এখন যে কাউকে বোর্ড থেকে বাদ দিয়ে দিতে পারবে। এভাবে সব কিছু নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখার যে প্রবণতা, এতে দেশের কোনো প্রতিষ্ঠানই দাঁড়াবে না।

সংসদে থাকা নিয়ে প্রশ্ন

ক্ষোভ প্রকাশ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকারের নজিরবিহীন এই দলীয়করণের প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের এখানে (সংসদে) থাকার কোনো দরকার নেই। আমি আহ্বান জানাব, এই সংশোধনী বাদ দিয়ে বিশেষ কমিটিতে যে ঐকমত্য হয়েছিল, সেই অনুযায়ী বিলটি পাসের ব্যবস্থা করা হোক। সব কিছু সরকারের গুন্ডাবাহিনী বা রাজনীতির নিয়ন্ত্রণে কেন থাকতে হবে?

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD