বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০৩ অপরাহ্ন

সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের সমালোচনা করলেও বর্তমানে কেউ গুম হচ্ছেন না: রিজভী

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বর্তমানে বিরোধী দলের অনেকেই সরকারের বা শীর্ষ নেতৃত্বের সমালোচনা করছেন। কিন্তু কাউকে গুম হতে হচ্ছে না। মূলত এটাই বাকস্বাধীনতা ও প্রকৃত গণতন্ত্রের বহিঃপ্রকাশ।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ১৯তম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষ্যে উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরাম এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

রিজভী বলেন, তারেক রহমান তখন রাজনীতিতে নবীন। তাকে বন্দি করার মূল উদ্দেশ্য ছিল জাতীয়তাবাদী রাজনীতি যেন আর কোমর সোজা করে দাঁড়াতে না পারে। এটি কোনো ছোটখাটো বা কেবল দেশীয় ষড়যন্ত্র ছিল না; বরং এটি ছিল দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্তের যৌথ বহিঃপ্রকাশ।

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের কৃতিত্ব, সততা, নিষ্ঠা, উৎপাদন, উন্নয়ন, পররাষ্ট্রনীতি, অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা এবং একটি জাতিকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার ঐতিহাসিক অর্জনের সফলতার পতাকাই বহন করছেন তারেক রহমান।

অতীতের স্মৃতিচারণ করে রিজভী বলেন, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের দুর্ভিক্ষ, লুটপাট, সহিংসতা, বিরোধী দল দমন, রক্তপাত, পত্রিকা ও রাজনৈতিক দল বন্ধ করে মানুষকে এক রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। সেখান থেকে জিয়াউর রহমান গণতন্ত্রের অবারিত দ্বার উন্মুক্ত করেছিলেন। সেখানে মানুষ নির্ভয়ে কথা বলার ও মুক্তকণ্ঠে আওয়াজ তোলার স্বাধীনতা পেয়েছিল। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান সেই গণতন্ত্রের অর্জনেরই নিশ্চয়তা।

তিনি বলেন, আল্লাহ যার সহায় এবং জনগণ যার পাশে থাকে, কোনো চক্রান্তই তাদের পরাস্ত করতে পারে না। সেদিন তারেক রহমানের ওপর শুধু মানসিক বা কারাবন্দিত্বের অত্যাচারই চালানো হয়নি, তাকে শারীরিকভাবেও নির্মম নির্যাতন করা হয়েছে। সেই শারীরিক আঘাতের ক্ষত তিনি আজও বহন করে চলেছেন।

তিনি আরও বলেন, তারেক রহমানকে নিয়ে অনেক অপপ্রচার চালানো হয়েছে এবং এখনো চলছে। কিন্তু জনগণ দেখছে, তিনি আজ প্রধানমন্ত্রী হয়ে দিন-রাত শুধু ঘরে বসে বা ঘুমিয়ে থাকেননি। দেশের মানুষের কাছে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে পূরণ করে যাচ্ছেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে রুখে দিতে দেশীয় নানা চক্রান্ত সক্রিয় ছিল। কিন্তু জনগণ এবং মহান আল্লাহ সঙ্গে থাকলে কেউ যে ক্ষতি করতে পারে না, তা আজ প্রমাণিত হয়েছে।

তিনি বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ২০১৮ সাল থেকে তারেক রহমান দেশের গ্রাম থেকে শুরু করে শহর পর্যন্ত প্রতিটি অঞ্চলে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের হাতে অত্যাচারিত মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেছেন এবং দেশ রক্ষার কাজে নিজেকে আত্মনিয়োগ করেছেন।

হাসিনা মেগা প্রকল্পের নামে কিছু দৃশ্যমান কাজ দেখালেও বাকি অর্থ বিদেশে পাচার করেছেন, যা তার দলীয় নেতাকর্মীদের পকেটে গেছে বলে অভিযোগ করেন রিজভী। অন্যদিকে, তারেক রহমান জনগণের টাকা জনগণের কাছেই ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ করছেন বলে দাবি করেন তিনি। এর প্রমাণ হিসেবে কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’, পরিবারগুলোর জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং দেশব্যাপী ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মতো বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন।

রিজভী বলেন, বর্তমানে বিরোধী দলের অনেকেই সরকারের বা শীর্ষ নেতৃত্বের সমালোচনা করছেন। কিন্তু কাউকে গুম হতে হচ্ছে না। মূলত এটাই বাকস্বাধীনতা ও প্রকৃত গণতন্ত্রের বহিঃপ্রকাশ।

তিনি বলেন, তারেক রহমান আগামী পাঁচ বছরের জন্য যে উন্নয়ন ও পরিবর্তনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন, তা ছাত্রসমাজসহ দেশের সর্বস্তরের জনগণের কাছে ছড়িয়ে দিতে হবে।

রিজভী আরও বলেন, তারেক রহমানের শ্রদ্ধেয় বাবা ও মা যে দেশ গড়ার দূরদর্শী অঙ্গীকার নিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন, তারেক রহমান আজ সেই আদর্শিক পথই অনুসরণ করে এগিয়ে চলেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী এবং উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরামের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর হেলাল। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরামের নেতাকর্মীসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা।

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD