শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ০২:১৯ পূর্বাহ্ন

স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে ঐকমত্য চীন-মালয়েশিয়া: মাহদী আমিন

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬

বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করার জন্য চীন ও মালয়েশিয়া ঐকমত্য পোষণ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেন, আমরা অভিভূত হয়েছি যেভাবে বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকারপ্রধানকে সম্মান ও ভালোবাসা দিয়েছে, লাল গালিচা সংবর্ধনা দিয়েছে- এটি শুধু প্রধানমন্ত্রী না, বাংলাদেশের জন্য একটি বিশাল গৌরবের বিষয়। যখন একজন সরকারপ্রধানের ক্ষমতার উৎস হয় জনগণ, তখন কীভাবে সেই সম্মান এবং আত্মমর্যাদা বিশ্ব দরবারে ফুটে ওঠে, আমরা সেটি দেখেছি।

শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে মালয়েশিয়া ও চীন সফর থেকে ফিরে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মাহদী আমিন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীন ও মালয়েশিয়া সফর শেষে রাত ৭টা ৪৫ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছান। তার সঙ্গে ছিলেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীরাও একই ফ্লাইটে দেশে ফেরেন। বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্বাগত জানান সরকারের মন্ত্রিপরিষদের কয়েকজন সদস্য, উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য এবং সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এছাড়া বিএনপির সিনিয়র নেতারা বিমানবন্দরে দলীয় প্রধানকে স্বাগত জানান।

মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খুব সংক্ষিপ্ত বিদেশ সফরে গিয়েছিলেন।

এখানে তিনটি পর্ব ছিল। প্রথম পর্বে তিনি মালয়েশিয়ায় গিয়েছিলেন। সেখানকার প্রধানমন্ত্রী এবং রাজার সঙ্গে বাংলাদেশের বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে আলোচনা করেছেন। তারপর চীনের দালিয়ানে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের অধিবেশনে যোগদান করেন। সেখানে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট এবং সিইওসহ বেশ কিছু ইনভেস্টরদের সঙ্গে কথা বলেছেন।

পরবর্তীতে চীনের রাজধানীতে চীনের প্রিমিয়ার ইনভাইটেশনে গিয়ে সেখানে চীনের প্রিমিয়ার এবং প্রেসিডেন্টের সঙ্গে, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে।

মাহদী আমিন বলেন, আপনাদেরকে আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, মালয়েশিয়া এবং চীন দুই ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিটি বিষয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়ার রাজা ও প্রধানমন্ত্রী এবং চীনের প্রিমিয়ার ও প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থ, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব এবং বাংলাদেশের বিনিয়োগ কীভাবে বৃদ্ধি করা যায়, বাণিজ্যের প্রসার কীভাবে করা যায়, কর্মসংস্থান কীভাবে সৃষ্টি করা যায়, পিপল টু পিপল কানেক্টিভিটি অর্থাৎ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কালচার, মিডিয়া প্রতিটি ক্ষেত্রেই কিন্তু দুই দেশের সঙ্গে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় কীভাবে মালয়েশিয়া এবং চীন ভূমিকা রাখতে পারে, সেগুলো নিয়ে প্রধানমন্ত্রী দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধান এবং সরকারপ্রধানের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।

মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী এবং চীন-মালয়েশিয়ার সরকারপ্রধান যারা রয়েছেন, তাদের মাঝে যে উষ্ণ সম্পর্ক আমরা দেখেছি, যে আন্তরিকতা দেখেছি, ইনশাল্লাহ সামনের দিনগুলোতে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে, জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন করার ক্ষেত্রে সেগুলো অনেক বড় ভূমিকা রাখবে।

বিমানবন্দরে বিএনপি নেতা-কর্মীদের না আসা প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, এখানে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দলীয় নেতাকর্মীরা আসেনি। কোনো র‍্যালি বা সমাবেশ করতে মানা করেছেন। এই যে একটা নতুন ধরনের রাজনীতি, এই যে একটা ব্যতিক্রমধর্মী চিন্তা, সেটির বহিঃপ্রকাশ আমরা দেখেছি।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক হয়েছে। সেখানে দুইটি দেশেরই উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল ছিল। পরবর্তীতে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আমাদের প্রধানমন্ত্রী একান্তে বৈঠক করেছেন। তাদের মাঝে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট অনেকগুলো বিষয় উঠে এসেছে এবং স্বাভাবিকভাবেই চীনের প্রেসিডেন্ট খুব বেশি প্রশংসা করেছেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার।

তিনি বলেন, চীনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ করার জন্য অদম্য ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। বলেছেন, সামনের দিনগুলোতে চীন অবশ্যই বাংলাদেশের পাশে থাকবে, বাংলাদেশকে সহযোগিতা করবে। বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করার জন্য ইতোমধ্যে দুই দল, দুটি দেশ ঐকমত্য পোষণ করেছে।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে আরেক প্রশ্নের জবাবে মাহদী আমিন বলেন, দেখুন এটা শুধু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে না, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বিভিন্ন দেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। উনাদের অভ্যন্তরীণ যে নীতিমালা রয়েছে, সেই ইন্টারনাল প্রসিডিউর ফলো করার পরে যত দ্রুত সম্ভব যদি কোনো দেশের মার্কেট ওপেন করা হয়, তবে বাংলাদেশকে ফাস্ট ট্র্যাক করা হবে‌, প্রায়োটাইজ করা হবে।

চীনের করিডোরের প্রস্তাবনা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র বলেন, অবশ্যই আমরা চাই ব্যবসার প্রসার হোক, বাণিজ্যের প্রসার হোক। তাহলে বাংলাদেশে ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশন হবে। নতুন ইন্ডাস্ট্রি তৈরি হবে, ট্রেড ভলিউম বাড়বে। সুতরাং আমরা ইতিবাচকভাবে দেখছি। এটা তো এখনো একটা ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করা হয়নি, প্ল্যানিং স্টেজে যাবে এবং ফিজিবিলিটি এনালাইসিস করা হবে। কিন্তু সাধারণত আমরা তো চাই শুধু নির্দিষ্ট কোনো দেশ না, এর মাধ্যমে সাউথ-ইস্টের অন্যান্য দেশের প্রতি মার্কেট একটা উৎসব তৈরি হবে, এশিয়ান দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। সুতরাং অবশ্যই এটা আমরা ইতিবাচকভাবে নিচ্ছি। সামনের দিনগুলোতে এটা একটা বিশাল মহাপরিকল্পনা, সেটি নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা করা হবে এবং আলোচনা করা হবে।

 

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD