কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহকে খালি মাঠে ছাড় দেবে না বিএনপি। এখানে ধানের শীষের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র বাতিলের পর বিএনপি নেতাকর্মীরা এখন গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী জসিম উদ্দীনকে নিয়ে মাঠে নেমেছেন।
আসনটিতে বিএনপি প্রার্থী ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল। রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করলেও ঋণখেলাপির তথ্য গোপন করায় নির্বাচন কমিশন তা বাতিল করে। পরে আদালতে আপিল করলেও প্রার্থিতা ফিরে পাননি তিনি। এমন পরিস্থিতিতে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী নেই হাসনাত আবদুল্লাহর।
এর মধ্যে মঞ্জুরুল এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এএফএম তারেক মুন্সী গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থীর পক্ষে মাঠে কাজ করার জন্য নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিয়েছেন। ট্রাক প্রতীককে ধানের শীষ মনে করে কাজ করার তাগিদ দেন তারা। এতে কিছুসংখ্যক নেতাকর্মী সাড়া না দিলেও অনেকেই ট্রাক প্রতীকের পক্ষে গণসংযোগে নেমেছেন। যার ফলে কিছুটা বাড়তি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে হাসনাতকে।
যদিও হাসনাত বিভিন্ন নির্বাচনি সভায় দাবি করেন, তার কাছে প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো প্রার্থীই দুর্বল নন, সবাইকে তিনি হেভিওয়েট হিসেবে দেখছেন। এ আসনে জামায়াত ও এনসিপি নেতাকর্মীরা শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন।
স্থানীয়রা বলছেন, বিএনপি ট্রাক প্রতীকের পক্ষে মাঠে নামলেও হাসনাতের উপর তেমন প্রভাব ফেলতে পারবে না। তবে হাসনাতের কিছুটা ঘাম ঝরাতে পারবে। আসনটিতে এ মুহূর্তে হাসনাতের পাল্লাই ভারী। নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত হাসনাতের বিজয় হতে পারে।
কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এএফএম তারেক মুন্সী বলেন, দলের হাইকমান্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা ট্রাক প্রতীকের পক্ষে কাজ করছি। যেহেতু বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুলের প্রার্থিতা বাতিল হয়ে গেছে, এখন আমাদের গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী জসিম উদ্দীনের পক্ষে কাজ করতে হচ্ছে।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, মাঠে যেসব প্রার্থী আছে কাউকেই আমি ছোট মনে করি না। আমার কাছে সব প্রার্থীই চ্যালেঞ্জিং। জনগণের ভোট নিয়েই আমাদের সংসদে যেতে হবে।
তিনি বলেন, ভোট কিন্তু জনগণের কাছে। আমাদের কর্মী সমর্থকরা ভোটারদের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। শুধু একবার নয়, আমার কর্মী-সমর্থকরা সবার কাছে একাধিকবার যাচ্ছেন। এছাড়া ভোটের মাঠে যেসব প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আছেন, তারাও কিন্তু ঘরে বসে নেই। তারা ভোটারদের কাছে একবার গেলে আমাদের পাঁচ বার যেতে হবে।