সুনামগঞ্জের দিরাই-শাল্লা আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ নাছির উদ্দীন চৌধুরী হুইল চেয়ারে বসে শপথ গ্রহণ করতে জাতীয় সংসদ ভবনে এসেছেন।
জামায়াতে ইসলামীর আলোচিত প্রার্থী অ্যাডভোকেট শিশির মনিরকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে বিজয়ী হওয়া এই নেতাকে শেষ বয়সে সম্মান জানাতে কার্পণ্য করেনি দিরাই-শাল্লার সাধারণ জনগণ।
জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও জনমানুষের প্রতি তার যে ভালোবাসা ও ত্যাগ, তারই প্রতিদান হিসেবে এই বিজয়কে দেখছেন স্থানীয়রা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বয়স ও শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে নানামুখী আলোচনা-সমালোচনা চললেও দিরাই-শাল্লার মানুষের কাছে তিনি এক নির্ভরতার প্রতীক।
নির্বাচন পরবর্তী সময়ে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনলাইনে অনেকেই দিরাই-শাল্লার ভোটারদের সিদ্ধান্ত নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করছেন। তবে স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, নাছির উদ্দীন চৌধুরী এমন একজন ব্যক্তিত্ব, যিনি যৌবনকাল থেকে শুরু করে বার্ধক্য পর্যন্ত ক্ষমতার বাইরে থেকেও মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়েছেন। তিনি কখনোই মানুষকে ফিরিয়ে দেননি। তার এই দীর্ঘ রাজনৈতিক সাধনা, ধৈর্য ও ত্যাগের প্রতিদান হিসেবেই জনগণ তাকে নির্বাচিত করেছেন।
ভোটের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী অ্যাডভোকেট শিশির মনির প্রায় ৬৭ হাজার ভোট পেয়েছেন, যা মূলত তার ব্যক্তিগত প্রজ্ঞা ও কর্মের ফল। নির্বাচনের পর শিশির মনির নিজেই নবনির্বাচিত এমপি নাছির উদ্দীন চৌধুরীকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নজির স্থাপন করেছেন। যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সম্মান প্রদর্শন করেছেন, সেখানে অনলাইনে কটু কথা বলাকে ‘অমানবিক’ ও ‘শিষ্টাচারবহির্ভূত’ বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয়রা।
দিরাই-শাল্লার সাধারণ ভোটারদের অভিমত, গত ৩০ বছরের উন্নয়নের হিসাব-নিকাশের চেয়ে এবার তারা একজন প্রবীণ ও শ্রদ্ধেয় মুরুব্বিকে সম্মান জানানোকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।
শেষ বয়সে এসে নাছির উদ্দীন চৌধুরী যেন তার প্রাপ্য সম্মানটুকু পান, সেটাই ছিল ভোটারদের নৈতিক দায়িত্ব।
শারীরিক অসুস্থতাকে উপেক্ষা করে হুইল চেয়ারে বসে শপথ নিতে আসা এই নেতার দৃশ্যটি প্রমাণ করে রাজনীতির মাঠ কেবল ক্ষমতার নয়, বরং দীর্ঘ ত্যাগেরও এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। দিরাই-শাল্লাবাসী প্রমাণ করেছেন, তারা অকৃতজ্ঞ নন; তারা গুণী ও ত্যাগী মানুষকে সম্মান দিতে জানেন।