আগামী ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দলের প্রার্থিতা চূড়ান্ত করা থেকে শুরু করে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে ক্ষমতাসীনরা। এখন প্রতিশ্রুতির পালা। আগামী পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকলে জনগণকে কী কী উপহার দেওয়া হবে— সে বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরতে কয়েক দিনের মধ্যে ‘নির্বাচনী ইশতেহার’ প্রকাশ করবে আওয়ামী লীগ।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবারের নির্বাচনে প্রার্থীদের মতো ইশতেহারেও চমক দেখাতে চান ক্ষমতাসীনরা। ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ থেকে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার প্রত্যয়ে নির্বাচনী ইশতেহার আগামী ২২ ডিসেম্বর প্রকাশ করা হতে পারে। তবে, এখনো ইশতেহার প্রণয়নের কাজ সম্পন্ন হয়নি বলে আওয়ামী লীগের ইশতেহার প্রণয়ন কমিটির একাধিক সদস্য ঢাকা পোস্টকে জানিয়েছেন।
দলীয় সূত্র মতে, ইশতেহারে বিগত নির্বাচনে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের হিসাব-নিকাশ যেমন থাকবে, তেমনি থাকবে নতুন নতুন চমক। ইতোমধ্যে দলীয় ইশতেহার প্রায় চূড়ান্ত করেছে আওয়ামী লীগ। ইশতেহার প্রণয়ন কমিটির কাজ শেষে তা দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার কাছে পাঠানো হয়েছে। তার নির্দেশনা অনুযায়ী কিছু সংযোজন-বিয়োজন এবং তথ্য হালনাগাদের কাজ চলছে।
আওয়ামী লীগের এবারের ইশতেহারে দেশকে ‘স্বয়ংসম্পূর্ণ’ করতে নানা পরিকল্পনাসহ পাঁচটি বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে। এর মধ্যে সর্বত্র প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিতকরণ, কৃষিতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিনিয়োগ আকৃষ্ট ও শিল্পোন্নয়নের রোডম্যাপ। এ ছাড়া, ‘স্মার্ট নাগরিক’, ‘স্মার্ট সোসাইটি’, ‘স্মার্ট ইকোনমি’ ও ‘স্মার্ট সরকার’ প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও আওয়ামী লীগের ইশতেহারে গুরুত্ব পাচ্ছে
বিজ্ঞাপন
এবারের ইশতেহারে দেশকে ‘স্বয়ংসম্পূর্ণ’ করতে নানা পরিকল্পনাসহ পাঁচটি বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে। এর মধ্যে সর্বত্র প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিতকরণ, কৃষিতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিনিয়োগ আকৃষ্ট ও শিল্পোন্নয়নের রোডম্যাপ। এ ছাড়া, ‘স্মার্ট নাগরিক’, ‘স্মার্ট সোসাইটি’, ‘স্মার্ট ইকোনমি’ ও ‘স্মার্ট সরকার’ প্রতিষ্ঠার মতো বিষয়গুলো আওয়ামী লীগের ইশতেহারে গুরুত্ব পাচ্ছে বলে জানা গেছে।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার উপকমিটি গঠন করা হয়। দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাককে আহ্বায়ক এবং তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদকে সদস্য সচিব করা হয়। ইশতেহার কমিটির সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন- ড. মসিউর রহমান, ড. অনুপম সেন, ড. সাত্তার মন্ডল, ড. বজলুল হক খন্দকার, অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, ড. শামসুল আলম, ডা. দীপু মনি এমপি, ড. হাছান মাহমুদ এমপি, অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম এমপি, শেখর দত্ত, ড. মাকসুদ কামাল, ড. মাহফুজুর রহমান, অধ্যাপক খায়রুল হোসেন, অধ্যাপক সাদেকা হালিম, সাজ্জাদুল হাসান এমপি, অ্যাডভোকেট তারানা হালিম, ওয়াসিকা আয়েশা খান এমপি, ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, জুনায়েদ আহমেদ পলক এমপি, ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এমপি, অধ্যাপক মোহাম্মদ এ আরাফাত এমপি, অ্যাডভোকেট সায়েম খান, সাদিকুর রহমান চৌধুরী ও সাব্বির আহমেদ এফসিএ।
সারা বিশ্বে যে অর্থনৈতিক মন্দা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, এ সংকট মোকাবিলা করে বাংলাদেশের উন্নয়নের যে লক্ষ্যমাত্রা সেটা অতিক্রম করা এবং যুগান্তকারী উন্নয়নের সুফল যাতে মানুষ পায় সেটা নির্বাচনী ইশতেহারে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। তরুণ প্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থান, শহর ও গ্রামের মানুষের জন্য সত্যিকারের রাষ্ট্রীয় সেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইশতেহার প্রণয়ন উপকমিটির সদস্য সচিব ড. সেলিম মাহমুদভ
নির্বাচনী ইশতেহার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের ইশতেহার প্রণয়ন উপকমিটির সদস্য সচিব এবং দলের তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ বলেন, ‘সারা বিশ্বে যে অর্থনৈতিক মন্দা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, এ সংকট মোকাবিলা করে বাংলাদেশের উন্নয়নের যে লক্ষ্যমাত্রা সেটা অতিক্রম করা এবং যুগান্তকারী উন্নয়নের সুফল যাতে মানুষ পায় সেটা নির্বাচনী ইশতেহারে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। তরুণ প্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থান, শহর ও গ্রামের মানুষের জন্য সত্যিকারের রাষ্ট্রীয় সেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।’
সেলিম মাহমুদ বলেন, ‘স্মার্ট বাংলাদেশ, এটা আমাদের ইশতেহারের মূল থিম। এটার সঙ্গে একটা স্লোগান থাকবে। স্লোগান এখনো ঠিক করা হয়নি। স্মার্ট বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে স্লোগানটি তৈরি করা হবে। ২০ থেকে ২২ তারিখের (ডিসেম্বর) মধ্যে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করা হবে। ২০ তারিখের পরপরই হয়ে যাবে।’
জানা যায়, আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার কমিটি গঠন করার পর একাধিক বৈঠক হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন পেশাজীবীরা তাদের মতামত প্রকাশ করেছেন। সেসব বৈঠকে আওয়ামী লীগের ইশতেহার প্রণয়ন উপকমিটির আহ্বায়ক ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মূল স্লোগান হবে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’। আওয়ামী লীগ প্রতিটি নির্বাচনের আগে জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইশতেহার প্রণয়ন করে। আমরা অতীতে কী করেছি এবং কী অর্জন করেছি, তা আমরা মূল্যায়ন করি। সেই আলোকে আমরা প্রতিটি নির্বাচনের আগে ইশতেহার তৈরি করি।
২০০৮ সালে ‘দিন বদলের সনদ’ শিরোনামে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ার স্বপ্ন দেখিয়ে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। ২০১৪ সালে ‘এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ’ শিরোনামে ১০টি মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে টানা দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসে দলটি। ২০১৮ সালে ‘সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’ শিরোনামে ‘২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’ এবং ‘২১০০ সালের মধ্যে নিরাপদ ব-দ্বীপ’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা দেওয়া হয়। সেই ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের ধারাবাহিকতায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে এবার ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের রূপরেখা থাকবে নির্বাচনী ইশতেহারে।
জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের উপদপ্তর সম্পাদক ও ইশতেহার প্রণয়ন উপকমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট সায়েম খান বলেন, ‘আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকার হলো আগামীর বাংলাদেশকে স্মার্ট বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তোলা। স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলা মানে হলো- রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে সরকারি সেবাগুলো জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া, জবাবদিহিমূলক প্রশাসন গড়ে তোলা এবং মানুষের স্বাভাবিক যে জীবনযাত্রা তা আরো মসৃণ করা। এসব লক্ষ্যে একটি সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ইশতেহার প্রণীত হচ্ছে।’
আমরা এবারের ইশতেহারে সাধারণ জনগণ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের মতামত নিয়েছি। তারা অর্থনীতির অবকাঠামো, কৃষি, শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিদ্যুতের উৎপাদন ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি; নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য ও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণসহ সীমিত আয়ের মানুষের কষ্ট লাঘবে যথাযথ উদ্যোগ এবং এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারণা তুলে ধরা হবে জানিয়েছেন ইশতেহার প্রণয়ন উপকমিটির আহ্বায়ক ড. আবদুর রাজ্জাক।
ইশতেহারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ গত ১৫ বছর ধরে ক্ষমতায়। এ কারণে একটা ধারাবাহিক উন্নয়ন হয়েছে। মানুষের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে একটা অভূতপূর্ব অগ্রগতি হয়েছে। এ উন্নয়ন এখন দৃশ্যমান। আমাদের মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হয়েছে। জনগোষ্ঠীর একটা অংশ হলো তরুণ সমাজ। সেই তারুণ্যের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবার আমাদের ইশতেহারের মূল লক্ষ্য।’
এদিকে, আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার কথা বারবার বলছেন। এ লক্ষ্যে তিনি চারটি বিষয় তুলে ধরেছেন। বিষয়গুলো হলো- স্মার্ট নাগরিক, স্মার্ট সোসাইটি, স্মার্ট ইকোনমি ও স্মার্ট সরকার প্রতিষ্ঠা। বিষয়গুলো এবারের ইশতেহারে গুরুত্ব পাচ্ছে।
জানা গেছে, চতুর্থ শিল্পবিপ্লব উপযোগী জনবল গড়ে তোলায় গুরুত্ব দিচ্ছে আওয়ামী লীগ। এ লক্ষ্যে দেশের অর্থনীতিকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করাতে ‘উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য’ নির্ধারণ করে কর্মসূচি নিচ্ছে দলটি। এর বাইরে কৃষি, শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তি, বিদ্যুতের উৎপাদন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন বিষয়ে থাকছে সুস্পষ্ট কর্মসূচি ও প্রতিশ্রুতি। আওয়ামী লীগের ইশতেহারে আরো থাকছে- স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ গঠন, বিদেশ নির্ভরতা কমানো এবং বিদেশি ষড়যন্ত্র রোধে নানা কর্মসূচি।
আওয়ামী লীগের ইশতেহার প্রণয়ন উপকমিটির আহ্বায়ক ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আমরা এবারের ইশতেহারে সাধারণ জনগণ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের মতামত নিয়েছি। তারা অর্থনীতির অবকাঠামো, কৃষি, শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিদ্যুতের উৎপাদন ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি; নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য ও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণসহ সীমিত আয়ের মানুষের কষ্ট লাঘবে যথাযথ উদ্যোগ এবং এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারণা তুলে ধরা হবে।’