সংসদীয় বিধি লঙ্ঘন করে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের উত্থাপিত মুলতবি প্রস্তাবের কঠোর সমালোচনা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ। প্রস্তাবের আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, যে প্রক্রিয়ায় নোটিশ দেওয়া হয়েছে তা বিধিসম্মত নয়।
সংসদকে ‘আগের কালচারে’ ফিরিয়ে না নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বিরোধী দলকে উদ্দেশ্য করে বলেন, যথাযথ প্রক্রিয়া না মেনে আইন প্রণয়ন বা সংবিধান সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তড়িঘড়ি আলোচনা সুযোগ নেই।
রোববার (২৯ মার্চ) সংসদ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাননীয় স্পিকার, আমার পয়েন্ট অব অর্ডার হচ্ছে- প্রথমে মাননীয় স্পিকারকে অনুরোধ করেছিলাম সেদিন, যেদিন মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা এই একই বিষয়টা উত্থাপন করেছিলেন, যে উনাকে নোটিশ দিতে বলেন। এটার নোটিশের প্রয়োজন আছে। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেই বিষয়ে আপনি আলোচনা করে ফয়সালা দিবেন। বিধান হচ্ছে জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মুলতবি প্রস্তাব। রুলস অব প্রসিডিউরের ৬২ বিধি অনুযায়ী নোটিশ দেওয়া হয়েছে, একটি কপি সৌভাগ্যক্রমে আমি এখানে পেয়েছি। টেবিলে মুলতবি প্রস্তাবের বিষয় লিখেছে ‘সাম্প্রতিক ও জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ একটি সুনির্দিষ্ট বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করার জন্য এই সংসদের কাজ এখন মুলতবি করা হোক’।
নোটিশের কারিগরি ত্রুটি তুলে ধরে তিনি বলেন, নোটিশ তো আপনি দিতে পারবেন জরুরি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে। কিন্তু জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নোটিশ দিতে গেলে তো আপনাকে বিধি ৬৮-তে যেতে হবে। দিস ইজ মাই পয়েন্ট অব অর্ডার। এবং সেখানে আপনি সময় পাবেন আধা ঘণ্টা আলোচনার।
এখন যদি আপনি সংশোধন করতে চান, সংশোধন করতে পারেন। মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতাকে সংশোধিত নোটিশ আবার দিতেও বলতে পারেন; আপনার রাইট আছে। ইউ আর দ্য লর্ড অব দি হাউস। আপনি এই পার্লামেন্টে সবকিছু সংশোধন করতে পারবেন। সেই হিসাবে যদি আপনি এখতিয়ার প্রয়োগ করেন, তাহলে উনি আবার নোটিশ প্রদান করতে পারেন অথবা আপনি সংশোধিত আকারে নিতে পারেন