চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লার ভাড়া বাসায় ফেরার পথে খুন হওয়া বুলেট বৈরাগীর হত্যার ঘটনায় চার আসামিকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। গ্রেপ্তার অপর একজন জবানবন্দি না দেওয়ায় তাকে তিনদিনের রিমান্ড দেওয়া হয়।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদিবা সুলতানা মলি এ আদেশ দেন।
এর আগে আদালতে তোলা হলে বিচারকের কাছে গ্রেপ্তারকৃত সোহাগ (৩০), সুজন (৩২), ইমরান হোসেন হৃদয় (৩৭) ও জুয়েল (২৭) ঘটনার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার অপর আসামি ইসমাইল হোসেন জনির তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) টিটু কুমার নাথ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে চারজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
একজন জবানবন্দি না দেওয়ায় তাকে তিনদিনের রিমান্ড দেওয়া হয়েছে। তার ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছিল।
প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার ( ২৫ এপ্রিল) রাতে চট্টগ্রাম থেকে ট্রেনিং শেষ করে কুমিল্লার বাসায় ফিরছিলেন কাস্টমস, ভ্যাট এক্সসাইজ ও ভ্যাট বিভাগের কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী (৩৫)৷ পথিমধ্যে পরিবারের সঙ্গে তার মোবাইল ফোনে কথা হয়।
সর্বশেষ রাত ২টা ২৫ মিনিটের দিকে তিনি ফোন করে জানান, তিনি কুমিল্লা নগরীর টমছমব্রিজ চৌরাস্তার মোড়ে পৌঁছেছেন। এরপর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও তিনি বাসায় না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা কল দিলে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পান।
সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করে তার কোনো হদিস না পেয়ে পরদিন শনিবার সকালে বাবা সুশীল বৈরাগী কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরদিন শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার কোটবাড়ি আইরিশ হোটেলের পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত বুলেট বৈরাগী কুমিল্লা নগরীর রাজগঞ্জ পানপট্টি এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। দীর্ঘদিন কুমিল্লা কাস্টমস অফিসে কর্মরত ছিলেন তিনি। তিনি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় উপজেলার ডুমুরিয়া এলাকার সুশীল বৈরাগীর ছেলে। ৪১তম বিসিএস নন ক্যাডার পদে কাস্টমস, ভ্যাট এক্সসাইজ ও ভ্যাট বিভাগে যোগ দেন। পরিবারে তার স্ত্রী বাবা-মা ও ১ বছরের ছেলে সন্তান রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ৫ জনকে রোববার (২৬ এপ্রিল) কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।