প্রায় দেড় বছর টানাপোড়েনের পর দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে পুরোদমে ভিসা পরিষেবা পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে ভারত ও বাংলাদেশ।
শনিবার (২ মে) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ সব শ্রেণির ভারতীয় নাগরিকদের জন্য ভিসা চালু করেছে। পাশাপাশি ভারতও আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালু করবে।
গত মাসে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ভারত সফর করেন। এ সময় উত্থাপিত প্রস্তাবগুলোতে তিনি দুই দেশের মধ্যে ভিসা প্রক্রিয়া স্বাভাবিক করায় প্রাধান্য দেন। ভারতে থাকা বাংলাদেশের সব ভিসা কেন্দ্র এখন খোলা আছে। তবে ঢাকা ভিসা ইস্যুতে দিল্লিকে দ্রুত একই ধরনের পাল্টা ব্যবস্থা নিতে বলেছে।
নয়াদিল্লির সরকারি সূত্র জানিয়েছে, গত বছর উদ্ভূত নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা পরিষেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হলেও, তা কখনও পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি। বিশেষ করে চিকিৎসা বা পারিবারিক জরুরি অবস্থার ক্ষেত্রে, প্রতিটি বিষয় আলাদাভাবে বিবেচনা করা হয়েছিল।
পর্যায়ক্রমে ভারতীয় ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালু করার প্রচেষ্টা চলছে বলে সূত্রটি জানিয়েছে।
উভয় পক্ষের ভিসা প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হয়ে গেলে দিল্লি ও ঢাকা অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং জ্বালানি সংযোগসহ অভিন্নতার অন্যান্য ক্ষেত্রগুলো খতিয়ে দেখবে। সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, আগামী সপ্তাহগুলোতে উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়েও একটি রূপরেখা তৈরি করা হতে পারে।
বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, গত বছরের ডিসেম্বরে আমাদের কয়েকটি কেন্দ্রে ভিসা কার্যক্রম স্থগিত করতে হলেও ফেব্রুয়ারিতে তা পুনরায় চালু করা হয়েছিল।
বাংলাদেশ হাইকমিশনের তথ্য অনুযায়ী সংবাদমাধ্যমটি জানায়, প্রায় ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়ার পর গত দুই মাসে ভারতীয় নাগরিকদের ১৩ হাজারের বেশি ভিসা দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন ক্যাটাগরির মধ্যে রয়েছে ব্যবসায়িক, পর্যটন, চিকিৎসা ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে সীমান্ত পার হতে ইচ্ছুক ব্যক্তিরা।
ভারতে আগত বিদেশি পর্যটকদের ২০ শতাংশেরও বেশি আসে বাংলাদেশ থেকে। ভারতের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২১ লাখ ২০ হাজার পর্যটক ভারতে এসেছিলেন। কিন্তু ২০২৪ সালে এই সংখ্যা কমে ১৭ লাখ ৫০ হাজারে নেমে আসে।
২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশে গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দুই দেশের সম্পর্কে উত্তেজনা তৈরি হয়। এরপর বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর দিল্লি-ঢাকা সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের চেষ্টা শুরু হয়।