ভারত পশ্চিম এশিয়ার ঘটনাবলি ও ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নিরপেক্ষতার ভান ত্যাগ করে প্রকাশ্যে ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) পক্ষ নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন একজন ভারতীয় সাংবাদিক ও লেখক।
নয়াদিল্লিভিত্তিক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, লেখক এবং FORCE ম্যাগাজিনের সম্পাদক গাজালা ওয়াহাব প্রেস টিভিকে বলেন, ইসরায়েল ও ইউএইর পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত ভারত নিয়েছে ‘নিজেদের কৌশলগত স্বার্থ যেখানে আছে’ সেই হিসাব থেকে।
ভারত কেন সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল পরিচালিত ৪০ দিনের যুদ্ধে ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব, এমনকি আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলি খামেনির হত্যাকাণ্ডেরও নিন্দা করেনি—এমন প্রশ্নের জবাবে ওয়াহাব বলেন, ‘আমি মনে করি না ভারত সরকার কোনো ভারসাম্য রক্ষার কৌশল নিচ্ছে। তারা ইসরায়েল ও ইউএইর সঙ্গেই থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
ওয়াহাবের মতে, ভারতের এই অবস্থানের প্রধান কারণ হলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার ইচ্ছা, কারণ নয়াদিল্লি মনে করে এতে চীনের মোকাবিলা করা সহজ হবে।
তিনি বলেন, ‘ভারত যুক্তরাষ্ট্রকে দেখাতে চায় যে তারা তার সর্বক্ষণের অংশীদার। তাই যুক্তরাষ্ট্রের সব মিত্র দেশের সঙ্গেই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়।’
তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভারতের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক শুধু যুক্তরাষ্ট্রের নীতির কারণে নয়। পাকিস্তান ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে ভারতের ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তির প্রয়োজন রয়েছে।
এই কৌশলগত অবস্থানের কারণেই ভারত ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা, এমনকি আয়াতুল্লাহ খামেনি ও শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের হত্যারও প্রকাশ্যে নিন্দা করতে অনিচ্ছুক ছিল।
ওয়াহাব বলেন, ‘তাই ভারত সাধারণভাবে শান্তি ও যুদ্ধ বন্ধের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছে।’
মোদির তেল আবিব সফর
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার কয়েক দিন আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির তেল আবিব সফর এবং ‘ইরানে শাসন পরিবর্তন’ নিয়ে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার সমঝোতার গুঞ্জন সম্পর্কে ওয়াহাব বলেন, এসবের অনেকটাই এখনো ‘জল্পনার পর্যায়ে’ রয়েছে।
তিনি ভারতীয় গণমাধ্যমের একটি কলামের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে বলা হয়েছিল নেতানিয়াহু মোদিকে আসন্ন হামলার বিষয়ে জানিয়েছিলেন এবং কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানে ‘শাসন পরিবর্তন’ হবে বলে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছিলেন।
ওয়াহাব বলেন, ‘আমার মনে হয় এটি বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়,’ এবং তিনি ভারতের পরবর্তী প্রতিক্রিয়া ও আয়াতুল্লাহ খামেনি হত্যার ঘটনায় ভারতের অবস্থানের দিকে ইঙ্গিত করেন।
তিনি আরও বলেন, ‘ভারত সরকার হয়তো শাসন পরিবর্তনের অপেক্ষায় ছিল। কারণ তারা এমন কোনো ‘শাসকগোষ্ঠীর’ পাশে থাকতে চায়নি, যাদের পতন হতে পারে। বরং তারা হয়তো যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সমর্থিত নতুন কোনো ইরানি সরকারের পাশে থাকতে চেয়েছিল—হতে পারে পাহলভি বা অন্য কেউ।’
পরবর্তীতে যখন স্পষ্ট হয়ে যায় যে ইরানে কোনো ‘শাসন পরিবর্তন’ হচ্ছে না, তখন ভারতের প্রতিক্রিয়ায় পরিবর্তন আসে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এরপর দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে যোগাযোগও বাড়ে।
সূত্র: প্রেস টিভি