ভারতে কয়েক বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশটিতে সফরে গিয়ে প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এ বৈঠকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব কাঠামো, ৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্যাকেজ এবং একাধিক জ্বালানি চুক্তি ঘোষণা করা হয়।
শুক্রবার (১৫ মে) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আবুধাবি বিমানবন্দরে প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান নিজে মোদিকে স্বাগত জানান এবং আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা দেন। এরপর দুই নেতা ভারত-ইউএই সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারত্বের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
এ সফরের আলোচনায় জ্বালানি নিরাপত্তা ছিল অন্যতম প্রধান বিষয়। ভারতের স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভস লিমিটেড এবং আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির মধ্যে একটি কৌশলগত সহযোগিতা চুক্তি সই হয়েছে। এর আওতায় ইউএই ভারতের কৌশলগত তেল মজুদে তাদের অংশগ্রহণ বাড়িয়ে ৩ কোটি ব্যারেলে উন্নীত করবে।
দুই দেশ ভারতে কৌশলগত গ্যাস মজুদ গড়ে তুলতেও একসঙ্গে কাজ করতে সম্মত হয়েছে। এছাড়া ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন ও এডিএনওসির মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি এলপিজি সরবরাহ চুক্তিও আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে। দুই নেতা ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তায় ইউএইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং অপরিশোধিত তেল, এলএনজি ও এলপিজি সরবরাহে সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করতে নতুন উদ্যোগ নেওয়ার ব্যাপারে একমত হন।
এনডিটিভি জানিয়েছে, সফরের অন্যতম বড় অর্জন হিসেবে ইউএইভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ভারতে মোট ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। এর মধ্যে এমিরেটস এনবিডি ভারতের আরবিএল ব্যাংকে ৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে। আবুধাবি ইনভেস্টমেন্ট অথরিটি ভারতের ন্যাশনাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের (এনআইআইএফ) সঙ্গে যৌথভাবে অগ্রাধিকারভিত্তিক অবকাঠামো প্রকল্পে ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে। এছাড়া ইন্টারন্যাশনাল হোল্ডিং কোম্পানি ভারতের সাম্মান ক্যাপিটালে ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এসব বিনিয়োগ ভারতের প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় ইউএইয়ের দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
সফরে দুই দেশের মধ্যে স্ট্র্যাটেজিক ডিফেন্স পার্টনারশিপ কাঠামো চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মাধ্যমে দুই দেশ প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা, উদ্ভাবন ও উন্নত প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও যৌথ মহড়া, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সাইবার প্রতিরক্ষা এবং নিরাপদ তথ্য আদান-প্রদান আরও জোরদার করতে সম্মত হয়েছে। এছাড়া জ্বালানি ও প্রতিরক্ষার বাইরে প্রযুক্তি ও জাহাজ নির্মাণসহ আরও কয়েকটি খাতে চুক্তি হয়েছে।