সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ০১:১৯ পূর্বাহ্ন

তৃতীয় ও চতুর্থ সন্তান নিলেই ৩০-৪০ হাজার রুপি পাবেন বাবা মা

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬
তৃতীয় ও চতুর্থ সন্তান নিলেই ৩০-৪০ হাজার রুপি পাবেন বাবা মা

ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য অন্ধ্র প্রদেশে জনসংখ্যা কমে যাওয়ার প্রবণতা ঠেকাতে ব্যতিক্রমী এক পদক্ষেপ নিয়েছেন সেখানকার মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু। রাজ্যে কোনও পরিবারে তৃতীয় সন্তানের জন্ম হলে ৩০ হাজার এবং চতুর্থ সন্তানের জন্মের ক্ষেত্রে ৪০ হাজার রুপি নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে বলে শনিবার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

রাজ্যের শ্রীকাকুলাম জেলায় আয়োজিত এক জনসভায় ভাষণ দেওয়ার সময় ওই ঘোষণা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু। এই সিদ্ধান্তের বিস্তারিত রূপরেখা আগামী এক মাসের মধ্যে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু বলেছেন, ‘‘আমি একটি নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। তৃতীয় সন্তানের জন্মের পরপরই আমরা ৩০ হাজার রুপি এবং চতুর্থ সন্তানের জন্য ৪০ হাজার রুপি দেব। এটি কি সঠিক সিদ্ধান্ত নয়?’’

অন্ধ্র প্রদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার নিম্নমুখী হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নাইডু। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শিশুদের বোঝা হিসেবে না দেখে দেশের সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। মুখ্যমন্ত্রী একসময় জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের পক্ষে থাকলেও এখন তিনি মনে করেন, জন্মহার বাড়াতে সমাজকে একযোগে কাজ করতে হবে।

দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের পর দম্পতিদের ২৫ হাজার রুপি প্রণোদনা দেওয়ার পূর্ববর্তী প্রস্তাবের ধারাবাহিকতায় নাইডু সর্বশেষ এই ঘোষণা দিয়েছেন। চলতি বছরের মার্চে রাজ্য বিধানসভাকে ‘দ্বিতীয় সন্তান প্রণোদনার’ ওই পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত করেছিলেন।

শনিবার রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সত্য কুমার যাদব বলেছেন, ‘‘সরকার বর্তমানে তৃতীয় ও চতুর্থ সন্তান নেওয়ার ক্ষেত্রেও এই আর্থিক সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’’

এদিকে, মুখ্যমন্ত্রী নাইডু একটি বিশেষ প্রবণতার দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, আয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক দম্পতি একটি মাত্র সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, অনেক দম্পতি কেবল তখনই দ্বিতীয় সন্তান নিচ্ছেন, যখন তাদের প্রথম সন্তানটি কন্যা হয়।

এসব কারণে রাজ্যের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমে যাচ্ছে বলেও সতর্ক করে দিয়েছেন অন্ধ্র প্রদেশের এই মুখ্যমন্ত্রী। তিনি প্রতিস্থাপনযোগ্য প্রজনন হার ২ দশমিক ১ শতাংশ বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন।

একজন নারীর বিপরীতে প্রজনন হার গড়ে ২ দশমিক ১ শতাংশ হলেই কেবল জনসংখ্যা স্থিতিশীল থাকে জানিয়ে নাইডু বলেন, বিশ্বের অনেক দেশে জনসংখ্যা কমে যাওয়া এবং বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া সেখানকার অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে।

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD