প্রতিরক্ষা শিল্পের উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর তথ্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের কাছে পাঠানোর দায়ে এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান। রোববার (২৪ মে) ভোরে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় বলে জানিয়েছে দেশটির বিচার বিভাগ।
এক প্রতিবেদনে বার্তা সংস্থা মেহের বলেছে, ওই ব্যক্তির নাম মোজতবা কিয়ান। সুপ্রিম কোর্ট তার মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার পর আলবরজ প্রদেশে তাকে ফাঁসি দেওয়া হয়। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন।
তদন্তে জানা যায়, যুদ্ধ চলাকালে কিয়ান জায়নবাদী-আমেরিকান শত্রু -সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কে একাধিক বার্তা পাঠান। সেখানে তিনি প্রতিরক্ষা শিল্পে ব্যবহৃত যন্ত্রাংশ তৈরির বিভিন্ন ইউনিটের অবস্থান ও বিস্তারিত তথ্য দেন। এক বার্তায় তিনি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর নাম উল্লেখ করে নেটওয়ার্কের সদস্যদের বলেন, ‘এটি বিবিকে জানাও’।
কিয়ান স্বীকার করেন, একটি নেটওয়ার্কে বার্তা পাঠানোর পর তাকে একটি নম্বর দেওয়া হয়েছিল, যেখানে তিনি তথ্য পাঠাতেন।
প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণে দেখা যায়, কিয়ান তথ্য পাঠানোর তিন দিনের মাথায় ওই স্থানটিতে শত্রুপক্ষ হামলা চালায় এবং সেটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়।
কর্তৃপক্ষ জানায়, শত্রুপক্ষের গণমাধ্যম নেটওয়ার্কের সঙ্গে যোগাযোগের পরপরই কিয়ানকে শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হয়। আলবরজ প্রদেশে তার বিচার অনুষ্ঠিত হয় এবং পুরো প্রক্রিয়ায় আইনগত নিয়ম মেনে তার আইনজীবীর উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়।
আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড ও সব সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেয়। রায়ে বলা হয়, প্রসিকিউটর অফিস ও আদালতে দেওয়া তার স্বীকারোক্তি, তার মোবাইল ফোন উদ্ধার এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের বিভিন্ন স্থানের তথ্যসংবলিত আটটি বার্তা পাঠানোর প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া তিনি যে শত্রু নেটওয়ার্কে তথ্য দিচ্ছিলেন, সে বিষয়ে তিনি পুরোপুরি সচেতন ছিলেন।
সুপ্রিম কোর্ট আপিল খারিজ করে এই রায় বহাল রাখে। রোববার ভোরে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। বিচার বিভাগের প্রধানের নির্দেশে ‘আমেরিকান-জায়নবাদী শত্রুর সহযোগী বিশ্বাসঘাতকদের’ বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অংশ হিসেবে গ্রেফতার থেকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া ৫০ দিনেরও কম সময়ে সম্পন্ন হয়।