গরমের দিনে এসি চালানোর সময় অনেকের মনেই একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খায় ২৪ ডিগ্রি ভালো, নাকি ২৬ ডিগ্রি? শুধু আরামের জন্য নয়, বিদ্যুৎ বিল কমানোর ক্ষেত্রেও এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসির তাপমাত্রা যত কম সেট করা হবে, কম্প্রেসরকে তত বেশি কাজ করতে হবে। ফলে বিদ্যুৎ খরচও বাড়বে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ঘরের তাপমাত্রা যদি ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়, তাহলে এসিকে ২৪ ডিগ্রিতে নামিয়ে আনতে যে পরিমাণ শক্তি প্রয়োজন হবে, ২৬ ডিগ্রিতে নামাতে তার চেয়ে কম শক্তি লাগবে।
এ কারণেই ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসকে অনেক বিশেষজ্ঞ ও জ্বালানি সাশ্রয় সংস্থা আদর্শ তাপমাত্রা হিসেবে বিবেচনা করে। এই তাপমাত্রায় ঘর যথেষ্ট আরামদায়ক থাকে, আবার বিদ্যুৎ খরচও তুলনামূলক কম হয়।
সাধারণভাবে ধরা হয়, এসির তাপমাত্রা ১ ডিগ্রি বাড়ালে বিদ্যুৎ খরচ প্রায় ৩ থেকে ৬ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। যদিও প্রকৃত সাশ্রয়ের পরিমাণ নির্ভর করে ঘরের আকার, বাইরের আবহাওয়া, এসির ধরন এবং ব্যবহারের সময়ের ওপর।
২৪ ডিগ্রি তাপমাত্রাও অনেকের কাছে আরামদায়ক মনে হতে পারে, বিশেষ করে যখন বাইরে প্রচণ্ড গরম থাকে। তবে দীর্ঘ সময় এসি চালানোর ক্ষেত্রে ২৬ ডিগ্রি ব্যবহার করলে মাস শেষে বিদ্যুৎ বিলে পার্থক্য চোখে পড়তে পারে।
আরও ভালো ফল পেতে ২৬ ডিগ্রির সঙ্গে সিলিং ফ্যান ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে ঘরের বাতাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং তুলনামূলক বেশি ঠান্ডা অনুভূত হয়। ফলে তাপমাত্রা কমিয়ে ২২ বা ২৩ ডিগ্রিতে নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য আরও কিছু বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি। যেমন নিয়মিত এসির ফিল্টার পরিষ্কার করা, দরজা-জানালা বন্ধ রাখা এবং প্রয়োজন না হলে এসি বন্ধ রাখা। এসব অভ্যাসও বিদ্যুৎ খরচ কমাতে সাহায্য করে।