দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় আরও চার শিশু মারা গেছে। এ নিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭০২ জনে।
শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল ৮টা থেকে আজ শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কেউ মারা না গেলেও সন্দেহজনক হাম রোগে মৃত্যু হয়েছে চার শিশুর। এ সময় ৮৬৯ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। একই সময়ে নিশ্চিত হামের রোগী শনাক্তের সংখ্যা ১০৭।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন বলছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে যে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তারা ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের।
এ পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ২৬৩ জন ঢাকায় মারা গেছে; রাজশাহী বিভাগে ৮৮, সিলেটে ৭৭, চট্টগ্রামে ৫১, বরিশালে ৩৯, ময়মনসিংহে ৫৬, খুলনায় ২৭ এবং রংপুরে ৮ জন মারা গেছে।
গত ১৫ মার্চের পর থেকে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে মারা গেছে ৯৩ শিশু। সব মিলিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে মারা গেছে ৭০২ শিশু।
দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম রোগী ভর্তির সংখ্যা ৮১ হাজার ২৮৩ জন। যার মধ্যে ৭৭ হাজার ৬১৩ জন রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন।
দেশজুড়ে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা, বিশেষ ক্যাম্পেইন পরিচালনা এবং স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের নানা উদ্যোগের পরও হামের সংক্রমণ ও মৃত্যু প্রত্যাশিত হারে কমছে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বের অন্যতম সংক্রামক এই রোগ নিয়ন্ত্রণে টিকাদানই সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র হলেও কভারেজের ঘাটতি, টিকা নিয়ে অভিভাবকদের দ্বিধা, মাঠপর্যায়ে নজরদারির দুর্বলতা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নিয়ে নতুন কিছু প্রশ্ন পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। এমনকি টিকার পূর্ণ ডোজ নেওয়া শিশুদের মধ্যেও প্রত্যাশিত মাত্রায় রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে উঠছে কি না, তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।